চার.
আমাকে খনন করে তালাস করি কোথায় আমি ? যতো গভীরে প্রবেশ ক্রমশ....অজানা অচেনা নিজেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন অপরিচিত অবয়ব ফুটে নিগূঢ় অন্ধকারে, মুখোমুখি হই । ভাবতে থাকি কোথায় এসে পড়লাম, কোথায় আমি ? অসীমের ভেতর থৈ হারানো নাবিকের কপাল থেকে ঘাম ঝরলে টুপ করে যে শব্দটি হয়, আমি খুব সংশয়ে থাকি তার সুর আর ছন্দ নিয়ে ।
দহনের গন্ধম টেনে নিলে প্রেমের গভীরতায় তুমি হলে পরম ভালবাসার শীতল জলের বিন্দু । তোমাকে প্রয়োজন ছিলো বলে এক মাত্র মনে হয় । ছুটে যেতে ইচ্ছে করে, হাতে তুলে নিয়ে নেড়ে ছেড়ে প্রকৃত ওম ভাঙ্গাতে ইচ্ছে করে, যেন দরিয়ায় দৌড়ে এসে ডুব দিয়ে অতলের নিশানা হাওয়ায় উড়াই তোমাকে । পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজয়ী বেশে তোমার হাসিতে রদ্দুর ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে । ভাঙ্গা রদ্দুরে আমি খালি পায়ে হেঁটে ক্ষরণ সুখের নেশায় বুদ হয়ে থাকবো । সমাজ রাষ্ট্র এমন প্রেমে হুলিয়া জারি করবে । প্রকৃতি নতজানু হয়ে সেলাম জানাবে আমি আরো বেশী প্রকৃতির বলে ।
যখনই ভাবি তুমি প্রিয়তম সুখ আমার গন্তব্য, কাছে গেলে নাগালের নিশ্বাস রক্তের ভেতর দিয়ে মগজে পৌছাও তুমি আমার অধিকার নিশ্চিত হলো । অথচ ভাবনার বিপরীতে কুপিয়ে যায় তখন কোথায় তোমার অবস্থান । চাওয়া পূরণে ইচ্ছার মৃত্যু অগ্রহণযোগ্য মনে হয় । তোমাকে চাইছি সত্য মতো তবুও তোমাকে পেলে হারাতে চাই না আমার সত্য । অসীমের মতো সংশয়ে ঝুলে থাকি ফাঁসির মঞ্চে । কোন মৃত্যু নেই, দীর্ঘ জীবন নিদারুণ যন্ত্রনায় । চিৎকারের কোন ভাষা নেই বলে আরো কঠিন ভার চেপে বসে বুকে । আমি তারপরও হাঁটি, হেঁটে যেতে হয় পাশাপাশি অনেকের মতো অনেকের সাথে । প্রকৃত আমি দাঁড়িয়ে থাকি নিঝুম চৌরাস্তায় ।
মানুষের ভেতর আমিও একজন । তাদের মাঝে মিশে গিয়ে দাবি করি, মানুষ নিজেকে জানলে অনেক দূর এগিয়ে যায় বর্তমান আয়ুর চাইতে বেশী । নিজস্ব গভীরে যতো যাই আয়ু ক্ষয় হয়ে যায় বিলীন থেকে বিস্তৃন রেখাপথ তৈরী করে । আত্ম জানার ভেতর প্রবেশ করলে শরীর কাঠামোর মেয়াদ যা আয়ু, নিজেকে জানার বিলীন রেখায় পৌঁছালে ধ্বংস হয়ে যায় । তাই আত্ম জানা মানুষ দ্রুত মরে যায় পৃথিবীর দীর্ঘতম আয়ু উপলদ্ধি করে ।
নিজেকে অজানা মানুষ গুলোর ভেতর লুকিয়ে থাকে লোভ । ওরাও দীর্ঘ পথ যেতে চায় শরীরের আগে । কিন্তু যেতে পারে না । হতাশায় ভেঙ্গে পড়ে, নিজেদের ভাঙ্গন নৈশব্দ ধ্বংস দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে পড়ে বলে, ওরা বাঁচিয়ে রাখে মৃত্যু’কে । নিজেকে মৃত্যু মুখোমুখি করলে তো মৃত্যু মরে যাবে । তাই ওরা মৃত্যুকে বেঁচে থাকার ইচ্ছা দিয়ে রাখে । কারণ সহ্য করতে পারে না, মানুষ কখনও নিজের গন্তব্যে থেমে থাকে না । না থামার যে তীব্র বেদনা, অলীক নীলের অসহ্য যন্ত্রণা সবাই সহ্য করতে পারে না বলে, সবাই মানুষ নয় এবং সবাই কবি নয় ।
জুন মাসে, ২০১২
ফয়সল অভি
চট্টগ্রাম
আমার যত আত্ম দৃশ্য "খনন"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


