somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত ছাত্র ফারুক হোসেনের একটি ইভালুয়েটেড সাক্ষাৎকার।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বিশ থেকে ত্রিশ বছরে এদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠন গুলোকে দুনিয়ার জঘন্যতম স্থানে পরিনত করেছে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি। কেম্পাসের এই অভিজ্ঞতা পৃথিবীর আর কোন সভ্যতায় নেই। ছাত্র সংগঠন কি ভাবে এমন হতে পারে তা কারও ধারনাতেউ নেই। সম্প্রতী এবিষয়গুলো অনুধাবন করে এদেশের হাতে গোনা কিছু ভালো লোক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষনার পক্ষে কথা বলছে

সে বিষয়ে কথা বলতে আজ আমি জাতির পক্ষে বেহেস্তে গিয়েছিলাম আমাদের ছাত্র রাজনীতির আউটপুট গত আট ফেব্রুয়ারী তারিখে নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফারুর হোসেনের একটি সাক্ষাৎকার নিতে। চলুন দেখি একজন ভুক্তভুগি হিসাবে তিনি এদেশের ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে আপনাদের কার চেয়ে কতটা ব্যতিক্রম বলে ?

জাতিঃ ফারুক আপনি কেন ছাত্ররাজনীতিতে এসেছিলেন ? আপনি কি এমপি মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখে ছিলেন ?

ফারুকঃ না তেমন কিছুই না। প্রথম বর্ষে হলে একটা সীট দরকার ছিল।

জাতিঃ ছাত্র রাজনীতি করে আপনি কি কি পেয়েছেন ?

ফারুকঃ না তেমন কিছুই পাইনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তো ধান্দার জন্য ড্রাই ল্যান্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলে হতো। সেখানে সন্ধার সময় হলের গেটের আশেপাশে দাড়ালেও দুই চারটা গাড়ি থামিয়ে "বস পার্টি অফিস যাব পকেটা একেবারে খালি একটু ড্রপ করে দিয়ে আসেন" বললেও তিন চারটা ফেন্সির দাম মুহুর্তে উঠে আসে। আর অন্ধকারে কাওকে থামালেতো কমপক্ষে মোবাইল সেট সিওর। আর ঢাকা শহরের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে লিংক রাখতে আড্ডাগুলোতে গেলে ফ্রিতে ঐ দিন ভালোই যায়। এছাড়া লিডারদের কাজের টেন্ডার ব্লকে গেলে ভালো হাত খরচ আসে। আমরা রাজশাহীতে হলে মাঝে মধ্যে ফাউ খাওয়া, কেম্পাসে ভাব নিয়ে চলা, আশেপাশে চারদিকে বাকি খাওয়া আর আশা ছিল পাশ করার পর একটা সরকারী চাকরীর লবিং যদি করা যায় ইত্যাদী। অল অড জব।

জাতিঃ তাহলে সিট ও ইত্যাদী। নীতি আদর্শ এগুলি ?

ফারুকঃ না ওগুলি কিছু না। এট লিষ্ট যারা ছাত্র রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত তাদের কাছে ওগুলি কখনও বিষয় না। আপনি জানেন কতজন ছাত্রদল ক্যাডার গত এক বছরে মিছিল শেষে বক্তব্য দিয়েছে এতদিন আমাদের ভুল শেখানো হয়েছে। আসলে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া না। সুজোগ দিলে সবাই বলবে। আবার বিএনপি আসলে বলবে হু ইজ মুজিব, ডিড উই সী হিম, হুইচ সেক্টর ডিড হি ফাইট ? বরং সাধারন ছাত্রছাত্রী যারা কখনও রাজনীতি করে না তাদের কাছে নীতি, আদর্শ, দেশ এসব অনেক বড় বিষয়। তারা ঠিকই দেশের প্রয়োজনের সময় নিজেই টেবিল ছেড়ে চলে আসে রাজপথে। তখন আমরা ফাউ লীড নেই আবার কেউ কেউ উল্টা দিকে বিক্রি হয়ে ভালো কামিয়েও নেই।

জাতিঃ ধরেন এমন হতো দেশে ছাত্র রাজনীতি নেই। আর কেউ তোমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে নিচ্ছে। তাহলে তোমরা কি করতে ? তখন তো কোন প্লাটফর্ম নেই নেতৃত্ব নেই।

ফারুকঃ কেউ দখল করে নিতে এলে কি করতাম তার উত্তরটা আগে দেই। তার পেছন দিয়ে দিয়ে দিতাম। আর তখন দল নেই প্লাটফর্ম নেই এগুলো কোন বিষয়ই না। দেশের নিকট অতীত থেকে পেছনের দিকে চেয়ে দেখুন বরং তখন এই প্লাটফর্ম গুলো আরও সমস্যা করে। নব্বুইয়ের সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অভি গ্রুপের কথা আপনার মনে আছে না ? গোলাম ফারুক অভি গ্রুপ ছাত্রদল থেকে মেশিন নিয়ে এরশাদের কাছে বিক্রি হয়ে ডাঃ মিলনকে সহ অনেক সাধারন ছাত্র হত্যা করে ছিল। ওল টাইম সেইম। কেন ২০০৭ এ ছাত্র আন্দোলন দেখেন না ? আপনার কি মনে হয় সেখানে ছাত্র রাজনীতি কোন ভূমিকা বা শুভ ভূমিকা ছিল ? বহিরাগত ক্যাডার আর বাপ চাচার বয়সী লীডাররা আন্দোলনেও ধান্দাই করে।

জাতিঃ আচ্ছা শিবিরের ছেলেরা কেন আপনাকে হত্যা করলো আপনার কোন ব্যাক্তিগত শত্রুতা ছিল ?

ফারুকঃ না ! পোলাপান দুই দিন যাবৎই পাগলা কুত্তার মত ছিল। ওদের নেতা নিজামী কি এক বিশেষ কারনে শিবিরের হাতেই লাশ চাইছে। তরংঙ্গে সেই ম্যাসেজই ছিল। ওরা আমাকে যে ভাবে মেরেছে, রগ কাটা ম্যানহোলে ফেলা, টু টু নির্দেশ ছিল কি এক বিশেষ লক্ষ্যে। মরতে মরতে আমার তাই মনে হয়েছে। আমারতো ব্যাক্তিগত কোন শত্রুতা ছিলনা ওদের সাথে, তবে কেন এমন করলো ওর ?

জাতিঃ এবার আপনার মৃত্যুর আগের মুহুর্ত গুলি সম্পর্কে কিছু বলুন।

ফারুকঃ মাথায় লোহার রড় দিয়ে একটা প্রচন্ড বাড়ি মেরে আমাকে ফেলে দিল। ওরা দশ বার জন, কেউ পিটাচ্ছে কেউ লাথি দিচ্ছে আর কয়জন আমার হাতে পায়ে ধরে গরু জবাই করার ছুরি দিয়ে কচকচ করে রগ গুলি কোরবানীর গরুর মত কেটে ফেললো। আমি শুধু বাবা'গো মা'গো বলে চিল্লাচ্ছিলাম আর ওদের কাছে মাফ চাচ্ছিলাম। এরপর ওরা আমার রগকাটা হাত পায়ে ধরে ঐ টাংকির মধ্যে ফেলে দিল। যন্ত্রনায় শুধু ধরফর করেছি আর ঐ গু জীবানু ভরা পচা পানি খেয়েছি। দম বের হতে অনেক সময় লেগেছে। তখন অন্য কোন এক দুনিয়ায় ছিলাম আগের দুনিয়া না আবার এই দুনিয়ায়ও না। সে অন্য এক যন্ত্রনার দুনিয়া।

জাতিঃ আচ্ছা আপনি তো দুনিয়ায় থাকা অবস্থায়ই শুনে এসেছেন আপনার দেশে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে বিপক্ষে অনেক বিতর্ক আছে। এখন যদি আপনাকে জাতির পক্ষ থেকে আমি প্রশ্ন করি আপনি কি বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হউক এটা চান ?

ফারুকঃ অবশ্যই ! বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হউক। আজই এখনই। আর কেউ যদি এরে বিপক্ষে কথা বলে তাহলে তার উদ্দেশ্যে বলবোঃ প্রথমত তাকে বলা হউক তুই মূর্খ মানব। তোর মাথায় আসলে গোবর ছাড়া আর কিছু নাই। তুই দেশ জাতি আর মানবতার শত্রু। দ্বিতীয়ত তার মাথায় লোহার রড দিয়ে একটা বাড়ি দিয়ে, শিবির দিয়ে হাতের পায়ের রাগ কাটাইয়া, ম্যানহোলে ফেলে দেয়া হউক, জাতির বৃহত স্বার্থে। সে কয়েক কোটি শিক্ষিত গরু হলেও। সে তিনশ এমপি হলেও। আর সে যদি খালেদা হাসিনা হয় তাহলে এদের দুই জনের চার জোড়া হাত পায়ের রগ কেটে, মাথায় একটা বাড়ি বেশী দিয়ে, দুই জনকে একটা ম্যানহোলে ফেলে দেওয়া হউক।

সতরাং বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি আজই নিষিদ্ধ করা হউক ! BAN IT NOW.



অতএব তোমরা তোমাদের ভাইদের রক্ষা কর। রাজনীতিবিদদের বলো অন্য কোথাও থেকে গুন্ডা সংগ্রহ করতে। আমরা আমাদের আর কোন ভাইকে এভাবে রাজনীতি করে মরতে দিতে চাই না। আমাদের ক্ষমা কর।

বিতর্কঃ ছাত্র রাজনীতি আর ছাত্র আন্দোলন ভিন্ন জিনিষ। ১৯৫২ ১৯৬১ ১৯৬৬ ১৯৬৯ ১৯৯০ ২০০৭ এ সমস্ত ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র রাজনীতির কোন ভূমিকা ছিল না। সেগুলি সব ছিল সকল সাধারন ছাত্র ছাত্রীর অংশগ্রহনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বা এমনি ব্যানারে। ২০০৭খ সালের ঢাবি ঘটনাটাই বিশ্লেষন করে দেখুনা কেন ? ছাত্র রাজনীতির এদেশে কখনও কোন প্রয়োজন ছিল না।

কে কখন আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংগঠনকে মূল রাজনৈতিকদলের অংগ সংগঠন হতে হবে এবং মূলদল থেকে ছাত্রদের কমিটি করে দেয়া শুরু করলো এটাই এখন বড় প্রশ্ন। কেউ একজন রাজনৈতিক স্বার্থে এদেশের শিক্ষা পরিবেশ একেবারে ধ্বংস করার স্বার্থে। ষাটের ও পঞ্চাশের দশকে এদেশে ছাত্র রাজনীতি বর্তমান ফর্মে ছিলনা তাই বলে কেউ কোন দিন বিশ্বাস করবে না তখন আমাদের ছাত্ররা রাজনৈতিক স্বচেতন ছিল না।


বর্তমান বাংলাদেশে তাই প্রথমে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে পরে চিন্তা করা উচিত কি ভাবে ছিল সে কালের ছাত্র রাজনীতি।

সতরাং বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি আজই নিষিদ্ধ করা হউক ! BAN IT NOW.
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১৮
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×