somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টুনটুনি আর মোটা বিড়াল

১৯ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক কৃষকের ঘরের পিছনে বেগুন গাছ আছে। সেই বেগুণ গাছের পাতা ঠোঁট দিয়ে সেলাই করে টুনটুনি পাখিটি সেখানে তার বাসা বেঁধেছে।

বাসার ভিতর তিনটি ছোট্ট-ছোট্ট ছানা হয়েছে। খুব ছোট্ট ছানা, তারা উড়তে পারে না, চোখও মেলতে পারে না।
খালি হাঁ করে আর চীঁ-চীঁ করে।



সেই কৃষকের বাড়িতে ছিল মোটা কেঁদো একটা বিড়াল। বিড়ালটা ছিল খুবই দুষ্টু। সে খালি ভাবে "টুনটুনির ছানা খাব।"

একদিন সে বেগুন গাছের তলায় এসে বলল, "কি করছিস রে টুনটুনি?"



টুনটুনি তার মাথা হেঁট করে বেগুণ গাছের ডালে ঠেকিয়ে বললে, "সেলাম, মহারানী! তাতে বিড়ালনী ভারি খুশি হয়ে চলে গেল।"

এমনি সে রোজ আসে, রোজ টুনটুনি তাকে প্রণাম করে আর মহারানী বলে, আর সে খুশি হয়ে চলে যায়।


এখন টুনটুনির ছানাগুলি বড় হয়েছে, তাদের সুন্দর পাখা হয়েছে। তারা আর চোখ বুজে থাকে না। তা দেখে টুনটুনি তাদের বলল, "বাবারা, তোরা উড়তে পারবি?"

ছানারা বললে, হ্যাঁ মা, পারব।
টুনটুনি বললে, "তবে দেখ তো দেখি, ঐ তাল গাছটার ডালে গিয়ে বসতে পারিস কি না।"
ছানারা তখনই উড়ে গিয়ে তাল গাছের ডালে বসল।


তা দেখে টুনটুনি হেসে বললো, এখন বজ্জাত বিড়াল আসুক দেখি! এমন
মজা দেখাবো যে সারা জীবনের শিক্ষা হয়ে যাবে।

এর খানিক বাদেই বিড়াল এসে বলল, "কি করছিস রে টুনটুনি?"
তখন টুনটুনি পা উঁচিয়ে তাকে লাথি দেখিয়ে বললো, "দূর হ, লক্ষ্মীছাড়ী, পাজী, বদমাইশ, হতচ্ছাড়ি বিড়াল!
এই কথা বলেই সে ফুরুৎ করে উড়ে পালাল।

পাজী বিড়ালটা তখন দাঁত খিঁচিয়ে লাফিয়ে গাছে উঠতে গেলো, কিন্তু না পারলো টুনটুনিকে ধরতে, না পারলো ছানাদের খেতে।
শুধু শুধু বেগুন কাঁটার খোঁচা খেয়ে নাকাল হয়ে ঘরে ফিরল।






টুনটুনি পাখির ছবি গুলো মহলদার ভাইয়ের টুনটুনির বাসা নামক পোস্ট থেকে কাট করা B-)
২৭টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুধু আমাকে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:২২


প্রণয়ের হাওয়া
রোদ পোড়া ছোলনা
এই যে আমাকে
পোড়া ইটভাটা ছাই
করে শুধু আমাকে।

রঙধনু আকাশে
বৃষ্টি ভিজা বাতাসে
কখনো বুঝে ওঠা হয়নি
যে তোমাকে
স্মৃতির কষ্ট চাপা গন্ধ পাই
এই আমাকে;

একাকী আধারে
জানতেও চাবে না
প্রণয় পোড়া দায় কে
উত্তর পাড়ায় শৈশব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আমার দশ বছর

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২৮

সামুতে আমার দশ বছর পূর্ণ। হঠাৎ গতকাল রাতে লক্ষ্য করে দেখলাম, দশ বছর পেরিয়ে দুই সপ্তাহ অতিক্রম করেছে।

আমি সাধারণত বছর শেষে বর্ষপূর্তি -মর্ষপূর্তি পোস্ট তেমন দেই না। এই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যামিলি কার্ডঃ ভাল চিন্তা ও ছোট সুরক্ষা, অভিনন্দন।

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১২ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৫

(মাসে ২৫০০টাকা নেহাত কম কিছু না, ১০কেজি চাল, ৫কেজি আটা, তেল, পেয়াজ, আলু, লবন, চিনি সহ অনেক কিছু কেনা যায়, বিশেষ করে হিসাব করে কিনলে এই টাকার গ্রোসারী দিয়ে একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনামূল্যে সামুর মত একটা কমিউনিটি ব্লগ তৈরি করে ফেললাম ;)

লিখেছেন অপু তানভীর, ১২ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:১৬

কথায় আছে বাঙালি ফ্রি পাইলে আলকাতরাও খেয়ে ফেলে আর আমি কেন ফ্রিতে একটা কাস্টম ব্লগ নিবো না বলেন!!
যদিও একেবারে পুরোপুরি কাস্টম ডোমেইন না, তবে প্রায় কাস্টম ডোমেইনের মতই। গত মাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালপুরুষদা, সবসময় আপনাকে মিস করব

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১২ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৫১


যাবার যখন সময় হয় সবাইকে যেতে হয়। গতকাল রাতে শুনলাম কালপুরুষ দা চলে গেছেন। মানে বাংলাদেশ সময় ৯ই মার্চ ২০২৬ রাতে। একেক জন মানুষ আসেন পৃথিবীতে, তাদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×