somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাইপে পড়ে একটি শিশুর মৃততু এবং আমাদের সেল্ফ এক্সিলারেটেড বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী আবেগ

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা শিশু পাইপে আটকা পড়ল। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা হল। পারা গেল না। সে মরার পর তাকে তোলা গেল। তাও বেসরকারি চেষ্টায়। দায়ী পক্ষ কারা? আওয়ামীলীগ: কারণ এটা সাজানো নাটক। আর্মি ও ফায়ার সার্ভিস: কারণ তারা অভিযান পরিত্যাগ করেছে। বিএনপি: কারণ তারা সমাবেশ ডেকেছিল। পাইপের মালিকানার প্রতিষ্ঠান: কারণ সেখানে শিশু পড়তে পারে।

আমাদের বাঙালিদের এই একটা শিশু আটকে পড়ার পর থেকে যে আবেগ দেখা গেল, সেই আবেগ দেখে যে কেউ মনে করবে বাঙালি বুঝি পৃথিবীর সবচে মমতাময় জাতি। বিশ্বাস করুন, কাল রাত থেকে এখন পর্যন্ত আমি এ বিষয়ে কোন খবরই নেইনি। হোমপেজে যেটুকু এসেছে, ব্যস। একবারো টিভির সামনে যাইনি। টিভির সামনে থেকে সরে গেছি। এবং না কাউকে কিছু জিগ্যেস করেছি না পত্রিকা পড়েছি।

এই পার্টিকুলার কাজটার একটা কারণ আছে। বাঙালি মমতাময় জাতি নয়। বাঙালি হুজুগের জাতি। আত্ম-উদ্দীপনায় গতিবৃদ্ধিপ্রাপ্ত আবেগের জাতি। বাঙালি ট্রেন্ডি জাতি। ট্রেন্ডি। ব্যস। আমি যদি এটা নিয়ে একটু হুলস্থূল না করি, তাহলে ক্যাম্নে চলে? বাঙালির কোটি কোটি এমন শিশু আছে, বাঙালি সেইসব শিশুকে হাসিমুখে বিষ খাওয়ায়। ঢেলে ঢেলে বিষ খাওয়ায়।

যত মানুষ টিভির সামনে হা হুতাশ করল,
যত মানুষ কোটি স্ট্যাটাস-মন্তব্য আর চায়ের কাপে ঝড় তুলল,
তারা যদি সত্যি আবেগি মানুষ হয়ে থাকত, সত্যি মমত্বময় মানুষ হয়ে থাকত-

তারা আজকে ঘাড় ধরে সব কলা ব্যবসায়ীকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করতো। আছড়ে ওদের মাথার মগজ বের করে ফেলত। পুড়িয়ে দিত ওইসব প্রতিষ্ঠান, যেসব প্রতিষ্ঠানে কলা পাকানোর বিষ আছে। কারণ বাংলাদেশের প্রায় সব শিশুই কলা খায়। বাংলাদেশের প্রায় সব শিশুই বিষাক্ত ফার্মের মুরগির ডিম খায়। ফর্মালিন দেয়া ডিম, ফর্মালিন দেয়া মাছ খায়। চরম বিষাক্ত কীটনাশক ও মাত্রাতিরিক্ত সারে ছাওয়া সবজি ফল মূল খায়। বাংলাদেশের শিশুরা বিষাক্ত শিশুখাদ্য মুখ ব্যদান করে খায়। পরম মাত্রার বিষ মিশানো দুধ। তরল হোক, গুঁড়া হোক। বাংলাদেশের শিশুরা যত ঝাল খাদ্য খায়, তার সবতাতেই টেস্টিং সল্ট বা আজি-নো-মতো। কোলন ক্যান্সার। প্রতিটা ঝাল খাদ্যে কোলন ক্যান্সার লুকিয়ে আছে। তা দেশি ঝাঁঁঝ বেশি স্বাদ হোক, আর শুধুই দেশি তাই স্বাদ বেশি হোক। মৌসুমী দেশি ফল অথবা বিদেশি ফল- উপড়ে ফেলত গাছ, খুবলে ফেলত এর গোড়ার মাটি, রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলত বিদেশি বিষ মিশানো ফলের কার্টন। রাস্তায় যেখানে দেখতো সেখানেই দু হাত তুলে মারতে যেতো ডাইঙ এর কর্মকর্তা-মালিকদের। আটা প্রসেস করার কোম্পানিগুলোর দেয়াল ভেঙে ফেলত, আটায় থাকা কীটনাশকের পরিমাণের কারণে। যে বাড়িতে নকল চকলেট-চিপস-আইসক্রিমের ফ্যাক্টরি সেই বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে বাড়ির মালিকের নামে মামলা করতো, রাস্তায় পিটিয়ে মেরে ফেলতো ওইসব ভয়ানক বিষ মেশানো নকল কোম্পানির মালিকদের।

আরে হাজার বার না হোক, কোটিবার না হোক, একটা বার তো এমন হবে!!!
বাঙালি এইসব কিছুই করবে না।
কারণ বাঙালি জাতির মরণের জন্য সে নিজে দায়ী। ওই মাছে বিষ দেয়া, কলায় বিষ দেয়া, সবজিতে বিষ দেয়া, নুডলস-আটায় বিষ দেয়া, নকল চকলেটের নামে চরম ভয়ানক খাবারে বিষ দেয়া লোকটাই আহা উহু ইসসি রে করেছে কাল রাতভর নাটক দেখে এবং আজকে স্ট্যাটাস দিয়ে ও বিকালে চায়ের দোকানে পত্রিকা রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে।

ওই লোকটাই নষ্টের মূল। ওই লোকটা সম্ভবত আমি এবং আপনি। এইসব এক শিশুর জন্য এইরকম তাড়ন দেখিয়ে কোন লাভ নেই। শিশুটার কপালে আপনার আমার সমন্বিত ব্যর্থতার কারণেই মরণ ছিল। অন্য কোন কারণে না। বাকি যে কোটি শিশুর কী করছি, সেটা সময় বলে দিবে, যখন প্রতি থানায় ক্যান্সার হাসপাতালের রমরমা ব্যবসা থাকবে।

আত্মবিধ্বংসী বাঙালি জাতির গোড়ায় 'পতন' লেখা আছে, উত্থান দেখলে বুঝতে হবে এটা পতনকে আরো ত্বরাণ্বিত করার জন্যই হচ্ছে।
১২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×