somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জামাতি অক্টোপাসের বিশ্বজিৎ ক্যামোফ্লেজ

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ৩:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাঙ্গালী যে কতোটা হুজুগে… দেখলাম… আমরা হুজুগে অন্ধ। আর সেই ফাঁকে স্বার্থ উদ্ধার করে নিয়ে যায় রাজাকার আলবদর ও শিবির…

স্বাধীন দেশে বসে আজ জামাত শিবির তাদের দেশদ্রোহী কর্মকান্ড চালাবার অধিকার আদায়ের জন্য তান্ডব করছে। তাদের এইসব তান্ডবের প্রতিবাদে কোথায় আমরা সারা দেশের মানষ ফুসে উঠবো, তা না আমরা এখন মেতে আছি বিশ্বজিৎ হত্যা নিয়ে। রাজাকারদের বিচার ঠেকাতে জামাত মরিয়া.. তারা তাদের স্বার্থ উদ্ধার করতে কতোটা মরিয়া গত কদিনে তাদের কাজ দেখলেই বোঝা যায়। বিশ্বজিৎ হত্যা তারই একটা অংশ মাত্র।

হ্যাঁ, বিশ্বজিৎ হত্যা জামাত শিবিরের বৃহৎ পরিকল্পনারই একটা অংশ… সেদিন জামাতের যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবীতে সমাবেশ করতে না দেবার জন্য ডাকা হরতালের বিরুদ্ধে আমাদের প্রবল প্রতিবাদে ফেটে যাবার কথা ছিল, সেখানে একজন বিশ্বজিতের হত্যা নিয়ে আমরা এতোই মগ্ন যে জামাত শিবির ও তাদের সহযোগীদের পরবর্তী কর্মকান্ডে আমাদের কোন মনযোগই নেই… কারো এটা মাথাতেই নেই যে জামাত শিবির এই হত্যাকান্ডটা ঘটিয়েছেই তাদের ওপর থেকে আমাদের মনযোগ ফিয়িয়ে নেবার জন্য, যাতে তারা নির্বিঘ্নে তাদের পরবর্তী কাজগুলো নির্বিঘ্নে সবার সামনেই চালিয়ে যেতে পারে!

আলোচ্য বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার আমরা সবাই চাই, কিন্তু অন্য আরো তিনজন মানুষ নিহত হয়েছে, তাদের প্রতি আমরা উদাসীন কেন? শিবির গত কয়েকমাসে রাজশাহী আর সিলেটে যেসব রগকাটা ও হত্যাকান্ড চালিয়েছে তাতে আমরা নিরব কেন? দেশে বসে জামাতের রাজাকাররা আমাদেরই ওপর দেশদ্রোহের অভিযোগ করছে তাতে আমরা নিরব কেন? আর এক ছাত্রলীগের পান্ডারা একজন বিশ্বজিৎকে হত্যা করলো তাতেই আমরা সবাই মানবতা বাদী হয়ে গেলাম… অন্যরা কি তবে মানুষ না? শিবিরের হাতে নিহত ছাত্রলীগের ছেলেরা কি মানুষ না নাকি তারা শিবিরের হাতে মরেছে বলে শহীদ মর্যাদা পেয়ে বেহেস্তে গিয়েছে বলে আমাদের আর তাদের নিয়ে চিন্তার দরকার নেই… আশ্চর্য!

এটা কেউ বুঝতে পারছে না যে জাতি যখন জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে একাট্টা হচ্ছে ঠিক তখনই তারা এক একটা ইস্যু নইলে এক একটা ঘটনা ঘটিয়ে পুরো দেশকে দ্বিধা বিভক্ত করে দিয়ে নিজেদের আড়াল করে দিচ্ছে… রোহিঙ্গা ইস্যু-রামুর দাঙ্গা-গার্মেন্টসে আগুন-আমারদেশ, বিচারকও ইকনমিস্ট ইস্যু–বিশ্বজিৎ হত্যা সব আসলে একই অক্টোপাসের একেকটা শুঁড়, মাথা কিন্তু একটিই।

বাংলাদেশের প্রতিটা ক্ষেত্রে জামাতের চর বা এজেন্ট আছে, তা সে সেনাবাহিনীর মতো স্পর্শকাতর জায়গাতেই হোক কিংবা সরকারী আপিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেই হোক… ওসবে জামাতের চর থাকতে পারে আর ছাত্রলীগের মতো একটা ছাত্র সংগঠনে তাদের পোষা দুঃষ্কৃতিকারী থাকবে না এটা বিশ্বাসযোগ্য না। ছাত্রলীগের এই ঘাপটি মেরে থাকা শিবির কর্মীরাই সেদিনের এই নাশকতামূলক কাজটা ঘটিয়েছে… আর এটা তাৎক্ষনিক কোন ঘটনাও না… এটা আগে থেকে পরিকল্পিত একতা ঘটনা। বিশ্বজিৎ ভুক্তভোগী না হলে মদন গোপাল হতো, না গলে সুমন ধর হতো, নইলে হিন্দু সপ্রদায়ের অন্য যে কোন তরন বা তরুনী! এই ঘটনা ঘটাবার জন্য ক্ষেত্রও আগে থেকেই তৈরী করা ছিল… কোন একটা ইস্যু ধরে বিশ্বজিৎকে সম্ভবত আগে থেকেই টার্গেট করে রাখা ছিল।

জামাতকে চিনতে আমাদের এখনো অনেক বাকি… তাদের দ্বারা সম্ভব না এমন কাজ নেই… তারা কোটি টাকা দিয়ে আমেরিকান লবিস্ট পোষে, তারা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এনজিওর মাধ্যমে বাইরে থেকে টাকা আনে, তারা এলাকার মসজিদে দেশদ্রোহী বক্তব্য ছড়ায়… আরো কতো কী! তাদের বার্ষিক আয় জানেন কেউ? আনুমানিক ৩৫ হাজার কোটি টাকা… অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া হিসেব, কিন্তু এর অর্ধেকও যদি সত্য হয় তার পরেও তাদের পক্ষে এক রাতে আমাদের সুশীল সমাজ কিনে নেয়া কোন ব্যাপারই না। আর তারা এই কাজটিই করছে… নইলে আমাদে দেশের সুশীলদের একটা বড় অংশ এখন জামাতের বক্তব্যের বক্তব্যের প্রতিধ্বনী করতো না… নইলে গত কদিনে আমাদের সংবাদ মাধ্যম ছাত্রলীগের কর্মীদের হাতে জনৈক বিশ্বজিতের নিহত হবার দৃশ্য প্রদর্শন ও তার খবর ও ছবি পরিবেশন থেকে জামাতের দেশদ্রোহী কর্মকান্ডের ওপর বিশদ ও বিসস্তারিত সংবাদ ও তথ্য পরিবেশন করতো। কিন্তু তারাও জামাতের এই বিশ্বজিৎ ইস্যুটাকেই আমাদের সামনে তুলে ধরে জামাত শিবিরকে আড়াল করে যাচ্ছে কেন? প্রশ্নটা কাউকে করতে দেখছি না!

সেদিন জামাত সমাবেশ করতে চেয়েছিল যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের মুক্তির দাবীতে, সরকার সেটা করতে দেয় নি। গনতন্ত্র চর্চার নামে সরকারের বিরুদ্ধে জামাতের গনতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুন্ন করার অভিযোগ এনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বি-এন-পি, সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে জামাতের ডাকা হরতালে নৈতিক সমর্থন দিল। আর এখন জনাব মউদুদ আহমেদ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের শেষ পর্যায়ে এসে আবার শুরু থেকে বিচারিক কার্যক্রম আরম্ভ করার দাবী জানালেন আদালতের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করলেন… বাংলাদেশের আইনে জনাব মউদুদ আদালত অবমাননার মতো দৃষ্টতা দেখালেন, কার জন্য বা কাদের জন্য? বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জামাত শিবির ও তাদের দলীয় রাজাকার নেতা-কর্মীদের স্বার্থ দেখতে গিয়ে! এখন প্রশ্ন হল যুদ্ধাপরাধীদের স্বার্থ রক্ষার দায়ে বি-এন-পিও কেন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গন্য হবে না?
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাপালিশ গাছের ফল চাম কাঠাল এর উপকারিতা

লিখেছেন রবিন.হুড, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৮


চাপালিশ, চামল, চাম্বল, চাম্বুল, টোপোনি (মগ), বলস্রাম (গারো), কাঁঠালি চাম বা চাম কাঁঠাল (বৈজ্ঞানিক নাম: Artocarpus chama; আর্টোকার্পাস চামা) হচ্ছে মোরাসি পরিবারের কাঁঠাল-জাতীয় একটি বন্য প্রজাতির ফল। বিপন্ন এই বৃক্ষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×