রিয়াজ রায়হান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: এ যেন অনাকাংখিত নিয়মের এক অলিখিত বাস্তবায়ন। সারাদিন যান্ত্রিক চাকা ঘুরছে তার স্বাভাবিক গতি নিয়ে। কিন্তু সূয্যিমামা পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার সাথে সাথেই যেন গাড়ির চাকাগুলো পিচঢালা কালো পথের সাথে কঠিন বন্ধনে আটকা পড়ে। শত শত যাত্রীর কথা ভুলে অনির্দিষ্ট সময় এক স্থানে দাঁড়িয়ে থাকাই যেন নিয়তি তার।
পবিত্র রমজানে ইফতারির আগ মূহূর্তে রাজধানীর রাজপথে দীর্ঘ যানজটের চিরাচরিত দৃশ্য এটি।
প্রতিবারের মত এবারও এর কোন ব্যতিক্রম হয়নি।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত কোন স্থানে অতিরিক্ত যানজট চোখে পড়েনি।
অথচ মাত্র আধাঘণ্টার মধ্যে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। প্রতিটি সড়কে ভয়াবহ মাত্রার যানজট দেখা দেয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের প্রাপ্ততথ্য ও সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায় যানজটের এই অসহনীয় দৃশ্য।
বিকেল চারটার মধ্যে পল্টন থেকে কাকরাইল, শাহবাগ থেকে বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার থেকে বিজয় স্মরণী, মালিবাগ থেকে মগবাজার, সাতরাস্তা থেকে মগবাজার, মহাখালী থেকে কাকলী, কুড়িল বিশ্বরোড় থেকে কাকলী, বাড্ডা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড়, কাকলী থেকে গুলশান ২, মতিঝিল থেকে দৈনিক বাংলা, যাত্রাবাড়ী থেকে টিকাটুলি, মিরপুর ১০, ২-সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর দু’পাশে শতশত গাড়ি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, যানজট সৃষ্টি করা গাড়িগুলোর মধ্যে অধিকাংশই ব্যক্তিগত।
কাকলী এলাকায় এক যাত্রীবাহী বাসের চালক আজাদ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, বিমানবন্দর থেকে কাকলী পর্যন্ত আসতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে।
একই অবস্থা ফার্মগেট এলাকায়। সেখানকার এক গাড়ী চালক সুমন জানান, বাংলামোটর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে একঘণ্টারও বেশি।
রমজানের প্রথম দিনের এই ভয়াবহ যানজটের ব্যাপারে ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার (ট্রাফিক) ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ‘রমজানে শেষ বিকেলে যানজটের পরিমান কিছুটা বাড়ে। এর কারণ সবাই তখন একসাথে অফিস শেষ করে বাসা-বাড়িতে ফেরে। সবাই পরিবারের সাথে ইফতার গ্রহণ করতে বাসায় ফেরার জন্য অনেকটা প্রতিযোগিতায় নামে।’
এছাড়া তাড়াগুড়া করতে গিয়ে ট্রাফিক আইন অমান্য করাকেও যানজটের আরেকটি কারণ হিসেবে মনে করছেন এ কর্মকর্তা।
রমজানের প্রথম দিন রাজধানীতে শেষ বিকেলের যানজট ঠেকাতে অধিকাংশ স্থানে ট্রাফিক পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি যানজট নিরসনের চেষ্টা চালিয়েছেন।
এদিকে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়- বাহারি ইফতারি ও নানা রকমের পণ্যের পসরা সাজিয়ে রাস্তার উপরই বসে পড়েছেন অনেক দোকানি। এ কারণেও ওইসব স্থানে তৈরি হচ্ছে যানজট।
একদিকে রাস্তায় শতশত গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে মোড়ে মোড়ে শতশত মানুষ অপেক্ষা করছে যানবাহনের জন্য। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে একটি বাসের দেখা পেলেও তাতে পা রাখারও যেন কোন জায়গা নেই।
যানবাহন না পেয়ে ইফতারের আগে ঘরমুখো হাজারো মানুষ পড়েন চরম ভোগান্তিতে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৮ ঘণ্টা, আগস্ট ২, ২০১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


