somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যাডভেঞ্চার : ভূমিকা

১৮ ই নভেম্বর, ২০১১ ভোর ৪:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভূমিকা

রোম এয়ারপোর্ট থেকে প্লেনে উঠেছি। যাবো ইস্তামবুল, তুরস্ক। দীর্ঘ, একঘেয়ে, কান্তিকর বিমান ভ্রমণ। তবে একঘেয়ে বিমানযাত্রা বিনোমুখী করার নানান ব্যবস্থাও আছে। বিমানে বসে গাদাখানেক সিনেমা দেখা যায় এবং প্রচুর খানাপিনার আয়োজনও থাকে। বিশেষ করে পিনার আয়োজন বেশ সন্তোষজনক। নানান পদের মদ্যপানের সুব্যবস্থা আছে, বিনামূল্যে।

কথায় আছে, বাঙালি মাগনা পেলে আলকাতরাও খেয়ে ফেলে। আমি আবার জাতে মাতাল এবং বাঙালি- উভয়ই। কাজেই আমার জন্য বিমানযাত্রা - শশুরবাড়িতে যাওয়ার আনন্দের চাইতে কোনো অংশে কম নয়।

বিমান তখনো আকাশে সোজা উড়তে শুরু করেনি, এরই মধ্যে আমি দু বোতল ওয়াইন শেষ করে ফেলেছি। বোতলগুলো সাইজে বেশ ছোট ছিল। অবশ্য নিন্দুকেরা বলবে, বোতলের সাইজ ঠিক আছে, তোমার জিহবাই বরং ...
যাই হোক, আমি হ্যাংলা নই। কেবল হতচ্ছাড়া বোতলগুলো সাইজে ছোট হওয়ার কারণেই সুবেশি বিমানবালাদের কাছ থেকে আমি কিছুক্ষণ পর পর ওয়াইনের বোতল চেয়ে নিচ্ছি।

বিমান তখন মাঝরাস্তায় - এমন সময় এক কাণ্ড হলো। পেটে অলরেডি ছয় বোতল সুপেয় ওয়াইন নিরাপদে পৌছে আমার সাথে ইস্তামবুলের দিকে যাচ্ছে। সিটের সামনে একটা খাবারের ট্রে আছে, সেখানে আরও চার বোতল মজুদ রয়েছে। তবুও মনে হচ্ছে , দীর্ঘ যাত্রায় এই স্টক খুবই সামান্য, সমুদ্রে আধা লিটার পানির মতো। বিমানবালারা যেরকম ব্যস্ত ভাব দেখাচ্ছে, পরে আবার বোতল চেয়ে পাই কিনা - কে জানে। অনেকণ ধরে বেল বাজাচ্ছি, এয়ারহোস্টেসের দেখা নেই। ঠিক সেই সময়ই আমার সিটের পাশ দিয়ে দারুন সুবাস ছড়িয়ে জনৈক বিমানবালা যাচ্ছিলেন। আমি লাফ দিয়ে, হাতছুড়ে বলে উঠলাম, এই মেয়ে আমাকে আরও দুটো বোতল দিয়ে যাও। উত্তেজনার চোটে হাতটা বোধহয় বেশি জোরেই ছুড়েছিলাম। হাতের ধাক্কার খাবার ট্রে গেলো উল্টে । ফলে সেখানে মজুদ করে রাখা ওয়াইনের মুখখোলা ছোট ছোট বোতলগুলো নিমিষেই ছিটকে শূণ্যে উড়ে গেল। আমি ভিজলাম, আমার পাশে বসা শ্রদ্ধেয় বড় ভাই সাইফুল আজিমও ভিজে গেলেন , আশেপাশে আরও জনাচারেক মানুষ বিশুদ্ধ ওয়াইন দিয়ে প্রায় গোছল সেরে ফেললেন। আমি মরমে মরে গেলাম, বিশেষত, এই ওয়াইন ভেজা যাত্রীদের মধ্যে একজন সাচ্চা ধার্মিক মুরুব্বিও ছিলেন, যিনি হালাল খাবার , হালাল খাবার, বলে কিছুক্ষণ আগেও এয়ারহোস্টেসের সাথে ক্যাঁচক্যাচ করছিলেন।
সঙ্গে সঙ্গেই দুইজন বিমানবালা ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে। গভীর মমতা এবং পাতলা টিস্যু পেপার দিয়ে আমাদেরকে গা থেকে ওয়াইন মুছে ফেলার চেষ্টা করলেন।

ঘটনাটা মিটে যাবার কিছুক্ষণ পর - আমি বেল টিপে বিমানবালাকে ডাকলাম। এরপর তার সঙ্গে আমার নিন্মলিখিত কথপোকথন হলো। সেই কথপোকথনের কোনো প্রকার তাফসির ছাড়া কেবল বাংলা তরজমাটুকু তুলে দিলুম।


- হে তরুনী, অনুগ্রহ করে দু বোতল ওয়াইন দিয়ে যান।
- স্যার, আমি অত্যন্ত দুঃখিত। ওয়াইন শেষ হয়ে গেছে।
- ও আচ্ছা , খুবই হতাশাব্যঞ্জক ঘটনা। ঠিক আছে, তাহলে স্কচ হুইস্কি দিন।
- হুইস্কিও নেই স্যার, শেষ।
- বলেন কি? পবিত্র গরু। খুবই আহত হলাম শুনে । ঠিক কাছে , একটা কিছু দিন, ভদকা, জিন অথবা রাম ..
- স্যার, আমি অত্যন্ত মর্মাহত এবং লজ্জিত। ভদকা, জিন, রাম- সবই শেষ।
- ঠিকাছে- কিছুই লাগবে না। দয়া করে একটা হ্যানিকেন বিয়ার দিয়ে যান।
- স্যার বিয়ারও শেষ।

এবার আমার মাথা টং করে উঠলো। খেপে গিয়ে বললুম, কি সর্বনাশ। এখনও অর্ধেক পথ আসলাম না, এর মধ্যে সব শেষ । আমার তো মনে হয়, তোমরা ‘লিকুইডিটি’ ক্রাইসিসে ভুগছো। টয়লেটে গিয়ে হয়তো দেখবো পানিও শেষ। তোমার পাইলটকে বলো প্লেনের তেল শেষ হয়ে গেছে কিনা চেক করে দেখতে ? শেষ হয়ে থাকলেও কোনও সমস্যা নাই, আমাকে একটা প্যারাসুট দিয়ে যাও। নাকি প্যারাসুটও শেষ ?


এবার তরুণী চোখ পাকিয়ে বললো, স্যার, আপনাকে কোনো কিছুই সার্ভ করা যাবে না, ড্রিংক কিংবা প্যারাসুট। কেননা, আপনি আউট অব কন্ট্রোল।


একটি বিখ্যাত এয়ারলাইন্সের সুপ্রশিক্ষিত , অভিজ্ঞ এয়ারহোস্টেট বলেছেন, আমি আউট অব কন্ট্রোল। কথাটা আমি তাৎণিকভাবে মেনে নিলাম। রূপবতী নারীদের কথা মেনে না নেয়ার মতো মেষবালক আমি নই।

কাজেই এই ভ্রমণকাহিনীতে যা লিখেছি , অনুগ্রহ করে সেইসব লেখাকে কেউ সিরিয়াসলি নেবেন না। এটি একজন ' আউট অব কন্ট্রোল' ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুভূতি। যারা শিল্পসম্মত রুচিকর জীবনবোধের লেখা পড়ে অভ্যস্ত, তাদের জন্য এই ভ্রমণকাহিনীটি স্পর্শ না করার হবেই বুদ্ধিমানের কাজ। আর যারা পড়েই ফেলবেন ভুল করে, তারা দয়া করে, লেখাগুলোকে সিরিয়াসলি নেবেন না।

এই আমার বিনীত অনুরোধ।

ভবদীয়
আশীফ এন্তাজ রবি
মিরপুর, ঢাকা।
১৭ নভেম্বর ২০১১


(চলিবে, আগামী পর্বে চোখ রাখিতে পারেন।)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৭:৩৮
২১টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×