জীবন বাজী রেখে দীর্ঘ আট মাস ধ'রে এক অন্তর্তদন্ত'র পথে যাত্রা করেছিলেন সাংবাদিক রাণা আইয়ূব। তারই ফসল এই গুজরাত ফাইলস্ । অন্তর্তদন্ত'র বিষয়বস্তু ছিল গুজরাত দাঙ্গা, ভুয়ো সংঘর্ষে নিরীহ মানুষের হত্যা করাএবং গুজরাতের গৃহমন্ত্রী হরেন পান্ডিয়া'র হত্যা রহস্য। প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর কিনারা ধ'রে চলতে চলতে অসংখ্য চমকপ্রদ তথ্য তুলে এনেছেন লেখিকা।
২০০১ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে যে-সব আমলা ও পুলিশকর্তা গুজরাতের সর্বোচ্চ পদে ছিলেন, ছদ্ম পরিচয়ে গোপনে তাঁদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাণা। তাঁর অনুসন্ধান দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থেকেছে গুজরাত রাজ্য প্রশাসন আর তার কর্মকর্তারা। আমরা জানতে পারি নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের গুজরাত থেকে দিল্লির মসনদ অভিমুখী যাত্রাপথকে কীভাবে মসৃণ করে তুলেছিল এইসব ঘটনা। তদন্ত কমিশনের সামনে যে-সব কর্মকর্তার স্মৃতিভ্রংশতা দেখা দিয়েছিল, তাঁদেরই বয়ানে উন্মোচিত হয়েছে এক নির্মম ভয়াবহ সত্য।....(শুনুন লেখিকার কথা)
"২০০৭ সালের কোনো এক সময়ে একটি নিউজ চ্যানেলের রিপোর্টিং করাটা আমার জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে গিয়ে দগদগে স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। তিন বছরের একটি বাচ্চা মেয়েকে ধর্ষণ করা নিয়ে রিপোর্টিং করতে হয়েছিল আমাকে। মিউনিসিপ্যাল হসপিটালে ভর্তি ছিল মেয়েটি। একটা ট্রাফিক সিগন্যালে চোরাই বইপত্র বিক্রি করতেন তার বাবা-মা। সম্ভবত ড্রাগের নেশায় আচ্ছন্ন থাকার দরুন নিজেদের পাঁচ মেয়ের একজনের যন্ত্রণা ও দুর্দশা বুঝে ওঠার অবস্থায় ছিলেন না তাঁরা। মেয়েটির মুখে আর শরীরে প্রহারজনিত কালশিটের দাগ। ছোট্ট নিষ্পাপ শরীরের সর্বত্র বর্বরতার চিহ্ণ আঁকা। রিপোর্টের টেপটা দিল্লির স্টুডিয়োয় পাঠিয়ে দিয়ে রাত দুটোয় বাড়ি ফিরলাম।....(দীর্ঘ বর্ণনা ক্রমানুসারে চলবে)

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



