
এবার কী হবে?
কংগ্রেসের ভাগ্য এখন পড়তির দিকে। অনেকের মতে যে দলটি ব্রিটিশের হাত থেকে এদেশের স্বাধীনতা এনেছিল, পরে দুর্নীতি, অদক্ষতা আর অরাজকতার পার্টি হয়ে উঠেছিল, সেটি এখন আগের চেয়েও দুর্বল। কংগ্রেসের এর আগের প্রেসিডেন্ট সীতারাম কেশরী ১৯৯৭ সালে বামের দিকে ঝুঁকে থাকা ইউনাইটেড ফ্রন্ট সরকার থেকে সমর্থন তুলে নিয়ে তার পতন ঘটান। তার ফল হয় অন্তর্বর্তী নির্বাচন ও বিজেপি-র নেতৃত্বে কেন্দ্রে জোট সরকার। আরএএস-এর বাজপেয়ী এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
কংগ্রেস আবার ভাঙছে। কংগ্রেসের রক্ষণশীল অংশটি বিজেপি-র দিকে ঝুঁকছে। বুটা সিং, মেনকা গান্ধী, সুখ রাম, কে সি পন্থ-এর মত কংগ্রেস নেতারা এখন বিজেপি সরকারকে সমর্থন করছেন।
স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এদেশের উঁচু জাতের রক্ষণশীল হিন্দুরা—চিরাচরিতভাবে যারা এদেশের শাসকদের পেছনের প্রধান শক্তি—তাদের পছন্দের দল এখন বিজেপি। রাজনৈতিক ভারসাম্য এখন সেদিকে হেলে গেছে। বিজেপি এখন আরএএস-এর হিন্দু আধিপত্যবাদী ধারণাগুলিকে কতটা প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করবে আর সে চেষ্টা ঠিক কতটা ফলবতী হবে, সেটাই এখন দেখার। ভারতের গরীব ও নিপীড়িত মানুষের জন্য অবশ্য একটা অন্ধকারময় অধ্যায়ের বদলে আর একটা অন্ধকারময় অধ্যায় শুরু হল।
এই দরিদ্র ভারতবাসীরা যুগ যুগ ধরে ব্রাহ্মণ ও অন্যান্য উঁচু জাতের লোক ও সমাজের মাথাদের কাছে পদদলিত হয়েছেন। তাঁদের একমাত্র আশা হল তৃতীয় শক্তির—অস্পৃশ্য, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী, গরিব মজুর ও প্রান্তিক চাষিদের শক্তির—একটা সত্যিকারের সংহতি। সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলি দেখাচ্ছে যে সেরকম একটা সম্ভাবনা দানা বাঁধার আগেই বাইরের শক্তিগুলির হাতে—একদিকে কংগ্রেসের অন্তর্ঘাত আর অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে অন্তর্কলহ—তা ভেঙে যাচ্ছে। বিজেপি আজ এদেশের বড় শিল্পপতিদের প্রিয়পাত্র। ১৯৯৮ সালে বড় বড় ব্যবসায়ীরা বিজেপি-র পক্ষে সংবাদপত্রে বিশাল বিশাল বিজ্ঞাপন দিয়ে এই দলকে জয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।
এ সবের সুফল ভোগ করবে কে? জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষমতার দালালরা, আর অবশ্যই “সঙ্ঘ পরিবারের” গেরুয়া আধিপত্যবাদীরা। (ক্রমশ)

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



