
“সঙ্ঘ পরিবার”
শিবসেনা, এবিভিপি, বিএমএস ইত্যাদি
শিবসেনা—
অনেকে বলেন, হিন্দু উগ্রপন্থী শিবসেনা (অর্থাৎ, মারাঠা রাজা শিবাজী-র সেনাদল) শুরু হয়েছিল অ-মারাঠিদের বিরুদ্ধে হিন্দু মারাঠিদের একটা অংশের ঘৃণার আন্দোলন থেকে। তামিল, তারপর বাঙালি ও অন্যান্য অ-মারাঠী ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের রাজ্য থেকে তাড়িয়ে কুখ্যাত হয়েছিল তারা। অনেকের অভিযোগ, বম্বের এক সময়ের শক্তিশালী বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নগুলি ভেঙে দেওয়ার জন্য কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠী শিবসেনাকে আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে সাহায্য করেছিল।
শিবসেনার বিস্ময়কর উত্থান ঘটেছিল বম্বের শ্রমিক-বিরোধী স্বৈরাচারী কাপড়-কল মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক শ্রমিক ধর্মঘটের পর। নিহত শ্রমিক নেতা দত্ত সামন্ত ও অন্যান্য শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা শ্রমিকদের একটা অভূতপূর্ব জোট গড়ে এই ধর্মঘট সফল করতে পেরেছিল—অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় শ্রমিক ধর্মঘট।
শিবসেনা একটি আধা ফ্যাসিস্ট সংগঠন। তারা ধর্মভিত্তিক হিন্দু জাতিতে বিশ্বাসী। তাদের সর্বোচ্চ নেতা (এখন প্রয়াত) বালাসাহেব ঠাকরে ভয়ানক হিটলার-পন্থী। জনসভাতেও তিনি প্রায়ই নাৎসি জার্মানির উচ্চ প্রশংসা করে থাকেন। শিবসেনা বিভিন্ন সময়ে মহারাষ্ট্রে বিজেপি-র সঙ্গে জোট সরকারের অংশ হয়ে থেকেছে। শ্রী ঠাকরের এই উগ্র মতবাদের জন্য বিজেপি বা আরএসএস কখনও তাঁর নিন্দা করেনি। আরএসএস নেতারা মনে করেন যে শিবসেনা নিজেকে “পরিবর্তিত” করে নিয়েছে, শুধরে নিয়েছে। এখন তারা গণতান্ত্রিকভাবে তাদের হিন্দুত্বের তত্ত্বের জন্য কাজ করছে। কিন্তু এই সেদিন শিবসেনার গুন্ডারা গরিব বাঙালি মুসলমান (অনেকে বাংলাদেশী) ও অন্যান্য অ-মারাঠী বস্তিবাসী ও শ্রমিককে মেরে তাড়াল—এর জন্য তারা বর্বরভাবে খুন, ধর্ষণ, মারধোর, কিছুই করতে বাকি রাখেনি। হাজার হাজার মানুষকে তারা বম্বের ফুটপাথ থেকে উচ্ছেদ করল।
মহারাষ্ট্রের লুপ্তপ্রায় হিন্দু মহাসভা ও তার নানা শাখা-সংগঠনের অনেক ধর্মান্ধ কর্মীই এখন শিবসেনায়। (ক্রমশ)

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



