সময় ! কখনো তুমি স্বপ্ন দেখাও
কখনো স্বপ্ন ভেংগে দাও
কখনো আবার প্রায়শ্চিত্তে পোঁড়াও
কখনো আত্মহণনে দাও ঠেলে; তারপরেও-
তুমি গতিশীল মহামূল্যবান
জীবনের অপর নাম।
সময় ! কেউবা আর জীবনের পূজা পায়
এক কালের সকল বেলায়, আর
কেউবা সকাল দুপুর রজনীকে
সজনী করে পূজার আশে ছুটে বেড়ায় ,
কেউবা মরে পিপাসায়
চরম প্রতিকূলতায়।
সময় ! তোমারে স্মরে কেউ যুগ যুগান্তর ধরে
কেউরা জীবদ্দশায় জীবস্মৃতে হারায়,
কেউরা অপমানে দলে গলে সরে যায়,
কেউরা জীবন শুষে কলাগাছ হয়,
কেউবা আবার দিয়েও চিরতরে মুছে যায়,
তোমারি বিবর্তনের স্রোতধারায়।
সময় ! তুমি স্বান্তনা খোঁজ
খোঁজ সুখ, জানি-
এ তোমার সুখের অসুখ, কিন্তু-
দুখকে তুমি কেন খোঁজ না হয়
দুখের ভালবাসায় ? বলো-
দুখ ছাড়া সুখের অস্থিত্ব কোথায়?
সময় ! কোথাও তুমি গল্পের কল্পের মত,
কোথাওবা গহীন নিশীথ গম্ভীরের,
কোথাওবা আবার অন্তহীন অমাবশ্যার,
বলো-কেন এত রূপ তোমার ?
পরিবার সমাজ দেশ
ধ্রূব বা মরিচীকারময়
এপার সে-পারের বিধি নিষেধ
যাচিত পীড়িত স্বপ্নীল সুখ
স্বপ্ন ভেংগে গেলে পথ বাতলে
ভাসানো নবারূণ ভেলা
সময় ! এই কী তোমার চিরন্তন খেলা ?
তোমার বাঁকে শাখে হাকে ডাকে
পায়ে পায়ে
শেকলে বাঁধা, তারপরেও
কখনো তুমি ঘরে অথবা বাইরে থেকেও বুনে যাও
আগত অনাগত কাণ্ডারীর উত্তরসুরী, অথবা
কখনো সখনো সঘনে সুপ্ত সন্তর্পণে
শৃঙ্খল ভেংগে নিজস্ব অঞ্চলে জাল ফেলে
আঁচল পাতো, এই তো জীবন।
এই তো সময়।
সময় ! তোমার ঘরেতেও নামে
চিরাচরিত নিয়মে
সাবলীলে
সকাল, দুপুর, সন্ধা।
সময় ! সকালকে সকলে রাখে মনে
শক্ত কাঠামোর নরম কাননে। দুপুর !
কতোটা থাকে আর কতোটা বা না থাকে
নিদাঘ নিঠুর উনুনে। কিন্তু সন্ধা !
কামনাবিহীন ভাবনার আঙিনায়
একাকীত্বের নষ্টালজিয়ায়
কন্টকিত অনুশোচনায়
বুকেতে লুকিয়ে রেখে
ফিরে যেতে হয়
ফেরার সময়।
এরি নাম বুঝি সময়।
এরই নাম জীবন।
সময় ! তোমাতে আছে পশুত্ব আর প্রভুত্ব
পশুত্ব কেন জয়ে যায় বারে বার
প্রভুত্বকে ভাসিয়ে বেদনায় ?
সময় ! তুমি অট্টালিকার ইঁট পাথরে পৌঁছালে
কেনো ভুলে যাও
অবহেলে দলে যাও
অধম মধ্যমের ঝরে পড়া থাকা বাসি ফুলগুলোকে ?
যাদের কেউ থাকে বস্তিতে,
কতকেরা রেল লাইনের দু ধারে,
কেউরা পথে প্রান্তরের বিস্তীর্ণ গাছতলাতে,
কেউবা টোকাই ভবঘুরে হয়ে ফুট পথে,
কারো ক্ষেত্রে সব থাকাতেও বৃদ্ধাশ্রমে।
সময় ! কোথাও তুমি মদ আর নিজ বা পর নারীতে,
কোথাও জোচ্চুরি জবরদস্তি করে ঠেকিয়ে ঠকিয়ে চুষে বা কামড়ে,
কোথাও লেহনের অবগাহন গোলামীতে,
কোথাও বা আবার লোকদেখানো নৈতিকতাতে,
কোথাও সভ্য ভব্য রীতিনীতিতে;-
দেখি আমি তুমি থাকো দিব্যি পরম সুখে।
কেনইবা তবে সাঁঝের কোলে চরম বিষাদে ?
সময় ! আমি পড়ে গেছি তোমাকে নিয়ে
ভীষণ রকম বিপাকে।
সত্যি কী আমরা সময়ের মানে খুঁজি,
কেন সে শুধুই দৌড়ায়? খুঁজি কী কখনো
ছোট্ট এ জীবনের সত্যি স্বার্থকতা কোথায় ?
সময়ের সমষ্টি তো জীবন, বুঝি আর না বুঝি
স্বার্থকতায় কাজে লা্গাই-ই বা ক’জনা?
আসলেই জীবনের স্বার্থকতা কোথায় ?
জানি কী আমরা, না জানি ?
হয়ত কতেক জানি, কতেক না জানি; কিন্তু
জানাদের কাছে জানতেই বা যাই ক’জনা ? আর
গেলেও বা তা জীবনে জীবন দিই ক’জনা ?
নশ্বর এ জীবনের স্বার্থকরা বরাবরই হেলিত’
দলিত রাখাই বিবর্তিত কালের কর্ম প্রীত।
সত্য কিন্তু তারপরেও সকল সময়ে বিজিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




