ক্লাস নাইনে যখন পরি তখন একটা নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন ছিল এমন যে, কোন প্রশ্নটা করা অভদ্রতা? অপশন গুলো ছিল সম্ভবত-
১/ আপনার বয়স কত?
২/ আপনার বেতন কত?
৩/ আপনি করেন কি?
৪/ আপনার বংশ কি?
সঠিক উত্তর (বেতন কত) নিয়ে আমি তখন চিন্তিত ছিলাম। ভাবতাম বেতন কত এটা তো খারাপ কিছু বলে নাই, অভদ্রতা হবে কেন? তখন ব্যাখ্যা করার কেউ ছিল না বিধায় মনের ভিতর একটা প্রশ্নবোধক অনুভুতি থেকে গিয়েছিল। হতে পারে তখন বেতন পেতাম না তাই উত্তরটা ও পাই নি। এতগুলো বছর পরে এসে নিতান্তই একটা ছোট চাকরি করার সক্ষমতা আল্লাহ দিয়েছে বিধায় সেই সুবাদে অল্পকিছু বেতনও পাই। অার এই বেতনকে কেন্দ্র করে মগজে জমে থাকা প্রশ্নের জট খুলতে শুরু করে গত ঈদের পর থেকে। অনেক বছর পরে ঈদের ছুটিতে গ্রামে দাদা বাড়ি যাওয়ার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠল। প্লান অনুসারে, সাথে এক বন্ধুকে নিয়ে ঈদের পরদিন গ্রামে পৌছানোর পর আপ্যায়নের পর্ব শেষে অজানা এক মানসিক চাপে মন আবার নতুন করে অস্তিকর ব্যাকুলতা প্রর্দশন করতে থাকে। আশে পাশের বাড়ি থেকে আসা পরিচিত/অপরিচিত মুরুব্বীরা ও মহিলাদের অনেক প্রশ্নের মাঝে ঐ বিখ্যাত (বেতন কত) প্রশ্নটা ছিল হিটলিষ্টে(!!)।
আমি কোথায়, কি করি, বিয়ে কবে করব, এমনকি গার্লফ্রেন্ড আছে কিনা তাও একজন প্রশ্ন করতে বাকি রাখে নি। সব প্রশ্নের মোকাবেলা করে কোন এক অজানা কারনে ঐ বিখ্যাত বেতনের প্রশ্নে আটকে গেলাম। এর উত্তর কিভাবে এড়ানো সেটা ভাবতে ভাবতে বুঝতে পারলাম এই প্রশ্নটা আসলেই অসস্তিকর অভদ্রতা। আমাদের তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের ও অনেকেই এটা করে থাকে কারন এর দ্বারা তারা লোকজনের স্ট্যাটাস পরিমাপ করে।
কেন ভাই, বেতন কম হলে কি তার সামাজিক অবস্থান নিচু হয়ে যাবে? ঐ ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, আচরন, ভদ্রতা, শিষ্টাচার এইসবের কোন মূল্য নেই? ধিক্কার জানাই এই সমাজকে ধিক্কার জানাই এই মানসিকতাকে। মানুষকে মূল্যায়ন করুন তার ব্যবহারে, টাকার পরিমানে নয়।
শিক্ষিত হওয়ার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল একজন ভাল মানুষ হওয়া।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

