গত কিছুদিন আগে মনটা খুব খারাপ যাচ্ছিল। ভাবলাম আজকে অফিস থেকে ফেরার পথে আন্টির বাসায় দেখা করে থেকে যাব, সব কাজিনদের সাথে দেখা হবে, গল্প হবে হয়তবা সময়টা ভালই কাটবে। যেই কথা সেই কাজ, সন্ধার একটু আগেই দরজায় কড়া নাড়লাম। একটু পরেই আন্টি দরজা খুলে আমাকে দেখে আনন্দটা চাপা রেখে বললেন এত কাছে থেকেও কি বাসায় আসার সময় হয় না। যাই হোক এক গ্লাস ঠান্ডা পানি সাথে কিছু ফল কেটে দিয়ে উনি উনার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। আমার কাজিনরা সবাই টিভি দেখছে অধির আগ্রহ নিয়ে, যেন কোন ক্রিকেট ম্যাচে জিততে হলে এক বলে এক রান লাগবে এমন একটা নিশ্চুপ উত্তেজনা বিরাজ করছিল পুরো রুমে।
আমাকে দেখে যতটা উল্লসিত হল, তার থেকে টিভির প্রোগ্রামটার প্রতি বেশি মনযোগী দেখা গেল। আমি ও ভাবলাম নিশ্চয় সিরিয়াস কিছু জয়েন্ট করলাম তাদের গ্রুপে। ও মা, একি তারা বসে বসে সবাই হিন্দি সিরিয়ালের স্লোমোশনের জুম করে বিভিন্ন এ্যংগেল থেকে ক্যারেক্টারদের আসা যাওয়া দেখছিল। নায়িকার সাথে নায়কের ঝগড়া তাই বাপের বাড়ি চলে যাওয়া এখন ভুল বুঝতে পেরে নায়িকার ফেরত আসা হল, কিন্তুু নায়ক মেনে নেবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।
আমিও বুঝলাম খুবই সিরিয়াস সিরিয়াল!! ব্যাংকে চাকরি করা, অনার্সে পড়া কাজিনরা এসব এমনভাবে গিলছিল, মনে হল টিভির ভিতরে নায়িকাকে যদি মেনে না নেয় তবে বাস্তবে তার ব্যাংকের চাকরিটা বুঝি থাকবে না। সো, খুব সিরিয়াস সিরিয়াল।
আমি ভাবতেছিলাম এত স্লোমোশনে এত এ্যংগেল থেকে যদি এক্সপ্রেশন গুলো এতবার করে দেখাতে থাকে তবে পুরো ঘটনা শেষ হতে হতে তার ব্যাংকের চাকরিতে এমনিতেই রিটায়ার্ডের সময় হয়ে যাবে।
মজার ব্যাপারটা হল আংকেল ও পেপার পড়ার ফাকে ফাকে কাহিনি আপডেট দেখে নিচ্ছিল। আমি আবার সবকিছুতেই ফাস্ট এত ধীরতা আমার সাথে মানায় না তাই অনিচ্ছা সত্তেও কেটে পরলাম, রাস্তায় হাটতে হাটতে ভাবছিলাম কপালে যদি এমন বউ পরে তাইলে তো আমি শেষ(!!)।
আমি দরজায় কড়া নেড়ে নেড়ে বউয়ের দরজা খুলার জন্য অপেক্ষায় থাকলে কি হবে, সিরিয়ালের ক্যামেরাম্যানরা তো স্লোমোশন আর বিভিন্ন এ্যাংগেলের জালে বউকে উঠতেই দেবে না। সারারাত আবার আমার বাইরেই না কাটাতে হয়।।।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১০:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




