somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিন্দি সিরিয়ালের স্লোমোশনের ফাঁদ

১৩ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১০:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কিছুদিন আগে মনটা খুব খারাপ যাচ্ছিল। ভাবলাম আজকে অফিস থেকে ফেরার পথে আন্টির বাসায় দেখা করে থেকে যাব, সব কাজিনদের সাথে দেখা হবে, গল্প হবে হয়তবা সময়টা ভালই কাটবে। যেই কথা সেই কাজ, সন্ধার একটু আগেই দরজায় কড়া নাড়লাম। একটু পরেই আন্টি দরজা খুলে আমাকে দেখে আনন্দটা চাপা রেখে বললেন এত কাছে থেকেও কি বাসায় আসার সময় হয় না। যাই হোক এক গ্লাস ঠান্ডা পানি সাথে কিছু ফল কেটে দিয়ে উনি উনার কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। আমার কাজিনরা সবাই টিভি দেখছে অধির আগ্রহ নিয়ে, যেন কোন ক্রিকেট ম্যাচে জিততে হলে এক বলে এক রান লাগবে এমন একটা নিশ্চুপ উত্তেজনা বিরাজ করছিল পুরো রুমে।

আমাকে দেখে যতটা উল্লসিত হল, তার থেকে টিভির প্রোগ্রামটার প্রতি বেশি মনযোগী দেখা গেল। আমি ও ভাবলাম নিশ্চয় সিরিয়াস কিছু জয়েন্ট করলাম তাদের গ্রুপে। ও মা, একি তারা বসে বসে সবাই হিন্দি সিরিয়ালের স্লোমোশনের জুম করে বিভিন্ন এ্যংগেল থেকে ক্যারেক্টারদের আসা যাওয়া দেখছিল। নায়িকার সাথে নায়কের ঝগড়া তাই বাপের বাড়ি চলে যাওয়া এখন ভুল বুঝতে পেরে নায়িকার ফেরত আসা হল, কিন্তুু নায়ক মেনে নেবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

আমিও বুঝলাম খুবই সিরিয়াস সিরিয়াল!! ব্যাংকে চাকরি করা, অনার্সে পড়া কাজিনরা এসব এমনভাবে গিলছিল, মনে হল টিভির ভিতরে নায়িকাকে যদি মেনে না নেয় তবে বাস্তবে তার ব্যাংকের চাকরিটা বুঝি থাকবে না। সো, খুব সিরিয়াস সিরিয়াল।
আমি ভাবতেছিলাম এত স্লোমোশনে এত এ্যংগেল থেকে যদি এক্সপ্রেশন গুলো এতবার করে দেখাতে থাকে তবে পুরো ঘটনা শেষ হতে হতে তার ব্যাংকের চাকরিতে এমনিতেই রিটায়ার্ডের সময় হয়ে যাবে।
মজার ব্যাপারটা হল আংকেল ও পেপার পড়ার ফাকে ফাকে কাহিনি আপডেট দেখে নিচ্ছিল। আমি আবার সবকিছুতেই ফাস্ট এত ধীরতা আমার সাথে মানায় না তাই অনিচ্ছা সত্তেও কেটে পরলাম, রাস্তায় হাটতে হাটতে ভাবছিলাম কপালে যদি এমন বউ পরে তাইলে তো আমি শেষ(!!)।
আমি দরজায় কড়া নেড়ে নেড়ে বউয়ের দরজা খুলার জন্য অপেক্ষায় থাকলে কি হবে, সিরিয়ালের ক্যামেরাম্যানরা তো স্লোমোশন আর বিভিন্ন এ্যাংগেলের জালে বউকে উঠতেই দেবে না। সারারাত আবার আমার বাইরেই না কাটাতে হয়।।।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১০:০১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৮



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

​ক্যালেন্ডারে নামটা দেখেছেন হয়তো— ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।
​ছোটবেলায় স্কুলে পড়েছেন যারা, তাদের অনেকের কাছেই নামটা পরিচিত। কারণ, এই নামটার সঙ্গে জড়িয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×