somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লেখালেখি বনাম কুপাকুপি

১৩ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৩:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তুমি আমারে কুপাইবা আর আমি তোমারে কুপামু না তা তো হইতে পারে না । তুমি কইবা, আমি তো কুপাই নাই শুধু কিছু লেখালেখি করছিলাম। তো ভাইজান কি কি যেন লিখছিলেন ? না মানে এই তো তোমাদের নবিজিরে নিয়া একটু গবেষনা করছিলাম আর কি। ও আচ্ছা তো গবেষনা কইরা কি কি প্রসব করলেন ? :(
আমি গবেষনায় পাইলাম, উনি বাচ্ছা মেয়েকে বিয়ে করে সমাজে বাল্য বিবাহ করতে উৎসাহ দিতেছেন, লোকজনকে যুদ্ধে যেতে উৎসাহ যুগিয়েছেন যার ফলে তারা আজ জংগি হয়ে যাচ্ছে । মেয়েদের ঘরে বন্ধি করে রাখার জন্য বিবিধ প্ররোচনা চালিয়ে গেছেন এইসব আর কি । আর কিছু পান নাই ? অ মমম, অ মম (মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে) চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি দেখি আর কি কি পাওয়া যায়।
বুঝলাম যে, আপনি মস্ত বড় গবেষক!! তো উনারে নিয়া যেহেতু আপনি গবেষনা করতেছেন তো এটা নিশ্চয় গবেষনায় পাইছেন যে, উনিই (নবিজী সাঃ) সর্বপ্রথম আরব সমাজ থেকে জিবন্ত কন্যা শিশু হত্যা বন্ধ করেছিলেন। নারিদেরকে উনিই সর্বপ্রথম সম্মান ও উত্তম মর্যাদা দিয়ে আরব সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আপনার মা, মেয়ে, বোনকে কেউ রেপ করলে রেপকারিকে মৃত্যু দন্ড দেয়ার জন্য আপনার অধীর ইচ্ছাকে ইসলাম সেই ১৫০০ বছর আগেই বাস্তবায়ন করেছিল উনার মাধ্যমেই। আপনার উপর কেউ অন্যায়ভাবে ঝাপিয়ে পরলে আপনি যে আত্মরক্ষা করার জন্য তাকে প্র্রতিরোধ করতে পারবেন সেই অধিকার উনি অনেক আগেই আপনাকে দিয়ে গেছেন। ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরউৎসাহিত করেছিলেন, গরিবের প্রতি সদয় ব্যবহার, শ্রমিকের সঠিক মজুরি, সদা সত্য কথা বলাসহ হাজার হাজার ভাল কাজের আদেশ ও ব্যবহারিক জিবনে সেসবের প্রয়োগ করেছিলেন আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগেই। সমাজ থেকে র্দুনিতি, ঘুষ, চুরি-ডাকাতি ইত্যাদি সব কিছুর উপর কারফিউ জারি করেছিলেন যেন আপনেরা শান্তিতে বসবাস করতে পারেন। কি ভাই এইসব আপনার গবেষনাতে পান নাই ? আপনার গবেষনার কোথাও তো এই কথা গুলো দেখলাম না। না মানে…মানে… বুঝলেন না এইসব লিখে তো আর পাবলিকের দৃষ্টি আকর্ষন করা যায় না তাই আর কি। B-)
হুমম… তো কেমন দৃষ্টি আকর্ষন করলেন যে একবারে আপনের দৃষ্টি শক্তিই শেষ কইরা দিল। (কাল্পনিক কথপোকথনটা শেষ)। এবার বাস্তবে আসা যাক-
আমরা যা করি, কোন একজন ব্লগার মারা পড়লেই বলতে শুরু করি এটা মুসলিম জঙ্গিরা করেছে, তারা উগ্রপন্থি তাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই (যদিও মনে মনে অধিকাংশরা ঠিকই খুশি হয়)। কেন ভাই, এটা যে মুসলমান জঙ্গিরাই (উগ্রপন্থিরা) করেছে এটা আপনে কই পাইলেন? আপনি নিজ চোখে দেখেছেন, নাকি আদালত কতৃক রায় ঘোষনা হইছে? যতগুলো ব্লগারা মারা গেল তার একটার ও চূড়ান্ত কোন রায় বা সিদ্ধান্ত এখনো হয় নি, সুতরাং অনুমান নির্ভর কথা না বলাই ভাল। হা, তবে এটা মুসলিম উগ্রপন্থিরা করতে পারে আবার তার কোন ব্যক্তিগত শত্রু দ্বারা ও হয়ে থাকতে পারে। যদি তার কোন ব্যক্তিগত শত্রু দ্বারা ব্যক্তিগত কারনে হয়ে থাকে তাহলে আমার আর কোন কথা না বলাই ভাল। :|
কিন্তু যদি কোন মুসলিম জঙ্গির মাধ্যমে এটা হয়ে থাকে তবে তাদের বলতে চাই, নবিজি (সাঃ) এর সম্পর্ক এ কেউ বাজে মন্তব্য করলে আপনার যেমন মনে আগুন লাগে আমাদেরও তেমনই লাগে। যদি কোন মুসলমানের মনে এ নিয়ে রিএ্যাকশন না হয় তবে বুঝতে হবে সে মুসলিমই নয়। আমার বস্ কাজী নজরুল ইসলাম তাই লিখেছিলেন, রাসুলের অপমানে যদি কাদে না তোর মন, মুসলিম নয় মোনাফেক তুই রাসুলের দুশমন। আমাদের পরিবারের, নিকট আত্মিয়দের কাউকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করলে যতটা আঘাত মনে লাগে তার থেকে শতগুন বেশি কষ্ট লাগে নবিজী (সাঃ) কে নিয়ে কেউ বাজে মন্তব্য করলে। এটা জন্মগতভাবে বিশ্বের প্রতিটা মুসলমানদের ইমান ও বিশ্বাসের সাথে জড়িত। আর আপনেরা এমন একটা শত্রুকে হত্যা করে একবারেই মুক্তি দিয়ে দিলেন, আমাদের ও কিছু পাওনা ছিল তার সাথে । বড় বড় শত্রুদেরকে কখনো হত্যা করতে নেই তাদের তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারতে হয়। আমরা তাদের দেখাতে চাই আমরা মুসলমানরাই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিস্ঠা করতে পারি, আর সেটা সম্ভব কেবলমাত্র ইসলাম র্ধমের মাধ্যমেই। এটা তারা যেদিন উপলদ্ধি করতে পারবে সেদিন থেকেই তাদের তিলে তিলে মারার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। তাদের বুঝাতে হবে যে, তাদের করা এতদিনের গবেষনার নারি-ভুড়ি বের হয়ে গন্ধ বের হতে শুরু করেছে। তাদের সব চক্রান্ত সমাপ্তির পথে এগুতে শুরু করেছে।
যেমনটা হয়েছিল ইসলামের চির শত্রু আবু জাহেলের বেলায়, তাকে যদি প্রথম দিনই হত্যা করা হত তাহলে সে মুক্তি পেয়ে যেত। কিন্তু তাকে বাচিয়ে রেখে দেখানো হয়েছে ইসলামের প্রতিটা সাফল্য, প্রতিটা মাইলফলক। তখন ইসলামের এক একটা সাফল্যই তার কলিজাতে কাটার মত বিধেছিল, তার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। আমরাও তাই চাই…
মাথা গরম উগ্রবাদি ভাইদের প্রতি আমার অনুরোধ দয়া করে নিজেরাই তাদের হত্যা করবেন না, আমাদের ও সুযোগ দেন যেন আমরাও তাদেরকে ইসলামের সাফল্য দেখিয়ে তিলে তিলে মারতে পারি। B:-)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৩:০৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৮



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

​ক্যালেন্ডারে নামটা দেখেছেন হয়তো— ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।
​ছোটবেলায় স্কুলে পড়েছেন যারা, তাদের অনেকের কাছেই নামটা পরিচিত। কারণ, এই নামটার সঙ্গে জড়িয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×