somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসি তারে কত যতন করে

০৪ ঠা মে, ২০১৪ রাত ৮:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পিতা মাতার একমাত্র সন্তান অন্তু। ছোট বেলা থেকে খুবই মেধাবী। পিতা মাতার একমাত্র সন্তান হওয়ায় সবাই তাকে খুব ভালবাসে। ক্লাস ওয়ান থেকে রোল সবসময় এক হয়। সবাই দেখে অন্তু খুব ভালভাবে পড়াশুনা করে। প্রতি বছর ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার আগে সবাই বলে যদি রোল এক হয় তাহলে তোমাকে এটা দেবো ওটা দেবো ইত্যাদি। রেজাল্ট দেয়ার পর দেখা যায় অন্তুর আর খুশি ধরেনা। একে তো প্র্রথম হয়েছে আবার সবার কাছ থেকে অনেক পুরষ্কার পাওয়া ইত্যাদি। এভাবে অন্তু পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এরপর সে নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়। সব কিছু ঠিকঠাক ভাবে চলতে থাকে। অন্তু এস,এস,সি ও এইচ,এস,সিতে গোল্ডেন এ+ পায়। এবার তার চোঁখে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয় একটি নামকরা প্রাইভে বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্র্রথম সেমিষ্টার,দ্বিতীয় সেমিষ্টার খুব ভাল রেজাল্ট করে। যেহেতু অন্তু বড় হয়েছে,অনার্স পড়ে তাই পিতা মাতা আর ঠিকভাবে খবর নিতে পারেনা। এভাবে কেটে যায় প্রায় চার বছর। অন্তুর আর কিছুদিন পর অনার্স শেষ হওয়ার কথা। পিতা কোনদিন টাকা দিতে কার্পন্য করেনি। পিতা অন্তুকে প্রশ্ন করে তোমার অনার্স শেষ হতে আর কতদিন লাগবে। অন্তু বলে আর মাত্র এক মাস পরেই অনার্স শেষ হবে।

পিতা মাতার অনেক স্বপ্ন অন্তু ইঞ্জিনিয়ার হবে,বড় চাকরি করবে আরও কত স্বপ্ন। পিতা আশায় থাকলেন অন্তু কখন বলবে বাবা আমি এখন ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু অনার্সের রেজাল্ট শোনায়না। একদিন বলে বাবা আমি অনার্স পাশ করেছি। আমি এম,এস,সি দেশের বাইরে করবো,আমার পাঁচ লাখ টাকা লাগবে। পিতা অনেক কষ্ট করে টাকা যোগাড় করে দেয়। অন্তু ইন্টারনেট থেকে ফোন দেয় পিতাকে বাবা আমি অষ্ট্রেলিয়া পোঁছে গেছি। পিতা খুব খুশি। অন্তুর খালাতো ভাই একদিন দেখে অন্তু ঢাকা উত্তরাতে একটি অপরিচিত মেয়ের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে ফোন দেয় অন্তুর পিতাকে। পিতা প্রথমে বিশ্বাস করতে চায়নি। এর পর অনেকেই যখন একই তথ্য ‍দিল তখন অন্তুর পিতার বিশ্বাস হল। খোঁজ নিয়ে জানা গেল অন্তু অনার্স শেষ করতে পারেনি। বিদেশ যাওয়ার কথা বলে পাঁচলাখ টাকা নিয়ে ঢাকাতে বাসা ভাড়া করে একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে। পিতা হার্টফেল করে মারা গেলেন। পিতার মৃত্যু সহ্য না করতে পেরে তার মাও কিছুদিন পর পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। অন্তুর বাবার সম্পদ ছিল অঢেল। অন্তুর পিছনে সব শেষ। স্বপ্নও শেষ অন্তুর সবকিছু শেষ। কি বলবো আর ভাষা নেই।

এঘটনার পেছনে আসলে কাকে দোষ দিবো। পিতা মাতা ছেলেকে মানুষ করতে কতকিছুইনা করলেন। অথচ তার পড়াশুনা হলনা। অন্তু এত মেধাবী হওয়ার পরও কেন একটি মেয়ের পিছনে ঘুুরে তার,পিতা মাতার, একদল মানুষের, সকলের স্বপ্ন শেষ করল শুধু অসতেচনতার কারনে। এজন্য বলি যারা এখন ছাত্র তাদের খুবই সচেতন হওয়া দরকার। পড়াশুনা সফল ভাবে শেষ করতে পারলে সকল স্বপ্ন হাতে ধরা দিবে। স্বপ্নের পিছনে ছোটা লাগবেনা,স্বপ্নই তোমার পিছনে ছুটবে। তাই সকল ছাত্রের উদ্দেশ্যে আমার একটি পরামর্শ ভালভাবে পড়ালেখা করুন জীবনে সফলতা আসবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০১৪ রাত ৮:৪৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×