somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি আল মাহমুদের জন্মদিন : পরাজিত হয় না কবিরা

১১ ই জুলাই, ২০১৭ ভোর ৫:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'কবিতা তো মক্তবের মেয়ে, চুলখোলা আয়েশা আক্তার' এই একটি লাইন ছিল আমার কৈশোরিক প্রেমের সম্বল। তারপরে, যখন এলো বিচ্ছেদ, তখন আমার শক্তি ছিলো—'ভোল না কেন, ভুলতে পারো যদি?' তারপর এলো সেই মহাবিদ্রোহের কাল, বিষাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেকেই আবার নির্মাণ। আমি পারছিলাম না। একদিন, ঐশীবাণীর মতোই কানে বেজে উঠলো—'পরাজিত নই নারী, পরাজিত হয় না কবিরা' সেই থেকেই আমি পুনঃনির্মিত, অপরাজিত এবং কবি।

হ্যা, বলছি কবি কবিতার প্রবাদপুরুষ আল মাহমুদের কথা। বোদলেয়ারীয় আধুনিকতায় জারিত আমাদের প্রায় সব কবির রচনায় যখন স্বকালের বন্ধ্যত্ব, নৈরাশ্যবাদিতা, পাশ্চাত্যের অনুকরণে মেকি নগর-যন্ত্রণা এবং এক সর্বগ্রাসী বিনষ্টি ও বিমানবিকীকরণের আগ্রাসন ঘটেছিল, তখন আল মাহমুদ তাঁর দেশজতা, মানবিকতা ও ইসলামি কবিতা আকুতি দিয়েই আকৃষ্ট করেছিলেন পাঠককে। তবে স্থুলভাবে ধর্মপ্রচারের মাধ্যম গল্প-উপন্যাস নয় এবং কবিতা নয়, গল্প-উপন্যাস এবং কবিতাকে হতে হয় কিছুটা সার্বজনীন। এই ধর্মপ্রীতি ও সাম্প্রদায়িকতার কারণেই পরবর্তীতে আল মাহমুদ সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। কিন্তু আসলেই কি আল মাহমুদ সে রকমভাবে ধর্মকে টানতেন?

তার যেসব গদ্য সাহিত্য পড়েছি, তাতে ধর্মের উপস্থিতি ততটা প্রকট ছিল না। আর গল্পগুলোও তেমন ভালো লাগেনি আমার কাছে। কিন্তু তার কবিতার হাত চমৎকার। তার কয়েকটি কবিতা পড়ে একধরনের ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি হত। তার ‘সোনালী কাবিন’ নিয়ে হুমায়ুন আজাদ সমালোচনা করেছিলেন এই বলে যে, কাবিন হচ্ছে দাসত্বের ফাঁদ আর আল মাহমুদ তাকেই মহিমান্বিত করতে চেয়েছেন! কিন্তু কবিতার পংক্তিগুলো ছিল খুব সুন্দর। কাবিনের চমৎকার সৌন্দর্যটুকু ফুটে উঠেছিল। যাকে বলে, ওল্ড ইজ গোল্ড।

এই বয়সেও কবির বই ছাড়া পৃথিবী লাগে নির্জলা অন্ধকার...

হুমায়ুন আজাদ কবিতা সংকলন করেছিলেন, সেখানে আল মাহমুদের কবিতা স্থান পায়নি। কারণ হিসেবে তিনি তার এই সাম্প্রদায়িকতাকেই দায়ী করেছেন। অথচ আমার কাছে সাম্প্রদায়িকতা একটা নির্দিষ্ট স্থান পর্যন্ত বিধিসম্মত মনে হয়। প্রত্যেকটা মানুষই সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা। নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি তার সামান্য হলেও সেন্সরিটি থাকবে। কিন্তু এর বাইরে অন্য সম্প্রদায়কেও সমীহ করবে—এটাই বিধিসম্মতার প্রান্তসীমা। যখন অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি গণহারে নেতিবাদিচর্চায় যাবে, সেটাই প্রকৃত সাম্প্রদায়িকতা।

এখন যদি রবীন্দ্রনাথের ‘অগ্নিস্নানে শূচি হোক ধরা’কে সাম্প্রদায়িক মনোভাবের বলি, সেক্যুলাররা তেঁতিয়ে উঠবেন। কিন্তু যখন তাদের বলা হবে, উযুর পানিতে শূচি হোক ধরা—তখন তারা বলবে এটা সাম্প্রদায়িক। এখানে ‘উযুর পানি’ যদি নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের বিশ্বাস হয়ে থাকে, তাহলে ‘অগ্নিস্নান’ কিভাবে সার্বজনীন হলো?

বর্তমানে সাম্প্রদায়িকতা শব্দটি শুধু ইসলাম প্রিয়তার সমার্থক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। হয়ত দশবছর পর বাংলা একাডেমি ‘সাম্প্রদায়িকতা’র অর্থ লিখবে এমন—ইসলাম প্রিয়তা, ইসলামপন্থী মনোভাব যার। (সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগে আল মাহমুদ ছিল এক ঠুনকো কবি—হুআ)

তবে লোকে যে যাই বলুক, আপনি আল মাহমুদ। ভালোবাসার সমার্থক আপনি। আপনাকে ভালোবাসি। এই ভালোবাসা আপনি এখন আর উপলব্ধি করতে পারবেন না, একজীবনে এই দুঃখ আমাকে কোন আয়েশা আক্তারের উদোম শরীরও ভুলিয়ে দিতে পারবে না। শুভ জন্মদিন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৭ ভোর ৫:০৫
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×