
হ্যা, বলছি কবি কবিতার প্রবাদপুরুষ আল মাহমুদের কথা। বোদলেয়ারীয় আধুনিকতায় জারিত আমাদের প্রায় সব কবির রচনায় যখন স্বকালের বন্ধ্যত্ব, নৈরাশ্যবাদিতা, পাশ্চাত্যের অনুকরণে মেকি নগর-যন্ত্রণা এবং এক সর্বগ্রাসী বিনষ্টি ও বিমানবিকীকরণের আগ্রাসন ঘটেছিল, তখন আল মাহমুদ তাঁর দেশজতা, মানবিকতা ও ইসলামি কবিতা আকুতি দিয়েই আকৃষ্ট করেছিলেন পাঠককে। তবে স্থুলভাবে ধর্মপ্রচারের মাধ্যম গল্প-উপন্যাস নয় এবং কবিতা নয়, গল্প-উপন্যাস এবং কবিতাকে হতে হয় কিছুটা সার্বজনীন। এই ধর্মপ্রীতি ও সাম্প্রদায়িকতার কারণেই পরবর্তীতে আল মাহমুদ সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। কিন্তু আসলেই কি আল মাহমুদ সে রকমভাবে ধর্মকে টানতেন?
তার যেসব গদ্য সাহিত্য পড়েছি, তাতে ধর্মের উপস্থিতি ততটা প্রকট ছিল না। আর গল্পগুলোও তেমন ভালো লাগেনি আমার কাছে। কিন্তু তার কবিতার হাত চমৎকার। তার কয়েকটি কবিতা পড়ে একধরনের ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি হত। তার ‘সোনালী কাবিন’ নিয়ে হুমায়ুন আজাদ সমালোচনা করেছিলেন এই বলে যে, কাবিন হচ্ছে দাসত্বের ফাঁদ আর আল মাহমুদ তাকেই মহিমান্বিত করতে চেয়েছেন! কিন্তু কবিতার পংক্তিগুলো ছিল খুব সুন্দর। কাবিনের চমৎকার সৌন্দর্যটুকু ফুটে উঠেছিল। যাকে বলে, ওল্ড ইজ গোল্ড।

হুমায়ুন আজাদ কবিতা সংকলন করেছিলেন, সেখানে আল মাহমুদের কবিতা স্থান পায়নি। কারণ হিসেবে তিনি তার এই সাম্প্রদায়িকতাকেই দায়ী করেছেন। অথচ আমার কাছে সাম্প্রদায়িকতা একটা নির্দিষ্ট স্থান পর্যন্ত বিধিসম্মত মনে হয়। প্রত্যেকটা মানুষই সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা। নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি তার সামান্য হলেও সেন্সরিটি থাকবে। কিন্তু এর বাইরে অন্য সম্প্রদায়কেও সমীহ করবে—এটাই বিধিসম্মতার প্রান্তসীমা। যখন অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি গণহারে নেতিবাদিচর্চায় যাবে, সেটাই প্রকৃত সাম্প্রদায়িকতা।
এখন যদি রবীন্দ্রনাথের ‘অগ্নিস্নানে শূচি হোক ধরা’কে সাম্প্রদায়িক মনোভাবের বলি, সেক্যুলাররা তেঁতিয়ে উঠবেন। কিন্তু যখন তাদের বলা হবে, উযুর পানিতে শূচি হোক ধরা—তখন তারা বলবে এটা সাম্প্রদায়িক। এখানে ‘উযুর পানি’ যদি নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের বিশ্বাস হয়ে থাকে, তাহলে ‘অগ্নিস্নান’ কিভাবে সার্বজনীন হলো?
বর্তমানে সাম্প্রদায়িকতা শব্দটি শুধু ইসলাম প্রিয়তার সমার্থক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। হয়ত দশবছর পর বাংলা একাডেমি ‘সাম্প্রদায়িকতা’র অর্থ লিখবে এমন—ইসলাম প্রিয়তা, ইসলামপন্থী মনোভাব যার। (সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগে আল মাহমুদ ছিল এক ঠুনকো কবি—হুআ)
তবে লোকে যে যাই বলুক, আপনি আল মাহমুদ। ভালোবাসার সমার্থক আপনি। আপনাকে ভালোবাসি। এই ভালোবাসা আপনি এখন আর উপলব্ধি করতে পারবেন না, একজীবনে এই দুঃখ আমাকে কোন আয়েশা আক্তারের উদোম শরীরও ভুলিয়ে দিতে পারবে না। শুভ জন্মদিন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৭ ভোর ৫:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


