
আজ তার জন্ম ও মৃত্যু দিবস। এই দিনে গুগলও তার জন্য ঘটা করে আয়োজন করেছে। একই সাথে কেউ তার জন্মদিনে কেক কাটবে, অন্যদিকে মোমের আগুনে জ্বলে উঠবে শোকের মাতম। এটাই পৃথিবী।
নারীর জন্য তার কীর্তি অশেষ। একদিকে নারীকে ঘরের বাইরে আনা এবং তাদেরকে কর্মমুখর করে তোলার যে স্লোগান তিনি শুরু করেছিলেন, তা আজও ইথারে পাথারে বেজে ওঠে। তিনি বলতেন, “পর্দা অর্থে ত আমরা বুঝি গোপন হওয়া বা শরীর ঢাকা ইত্যাদি- কেবল অন্তঃপুরের চারি প্রাচীরের মধ্যে থাকা নহে। এবং ভালমতে শরীর আবৃত না করাকেই বেপর্দা বলি। যাঁহারা ঘরের ভিতর চাকরদের সম্মুখে অর্ধ নগ্ন অবস্থায় থাকেন, তাঁহাদের অপেক্ষা যাঁহারা ভালমত পোষাক পরিয়া মাঠে বাজারে বাহির হন, তাঁহাদের পর্দা বেশী রক্ষা পায়।”
এভাবে নারীমুক্তির পাশাপাশি তিনি ধর্মের দিকে প্রশ্নের আঙ্গুল তুলতে ভুল করেননি। তিনি বলেছেন, আমাদের ধর্মমতে বিবাহ হয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা। তাই খোদা না করুক বিচ্ছেদ যদি আসে, তবে সেটা আসবে উভয়ের সম্মতিক্রমে। কিন্তু এটা কেন হয় এক তরফা, অর্থাৎ শুধু স্বামীর দ্বারা?
বিচ্ছেদ যে সমঝোতার মাধ্যমে হয়- এটাও নারীদের শিখিয়েছেন বেগম রোকেয়া। এমনকি তিনি এটাও বলেছেন, “স্রষ্টা বলিয়া কিছু নাই, এটা হল মেয়েদের শৃংখলে বাধার জন্য পুরুষেরই সৃষ্টি।”
আমার কাছে মনে হয়, বেগম রোকেয়া ছিলেন সেই আমলের তসলিমা, এ কথা মানতে আমাদের অনেকেরই ভালো না লাগলেও এটাই সত্যি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৩:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



