ডায়েরি লেখা ছেড়ে দেওয়ার পর আবার কখনো বাংলায় কিছু লেখার সুযোগ পাবো, একথা-টা কখনো মাথায় আসেনি। ঘটনাচক্রে (জীবনানন্দের কবিতা-র খোঁজ করতে গিয়ে) এই ব্লগ-টার সন্ধান পেয়ে এখন আমি এটাই ভাবার চেষ্টা করছি যে কি নেখা যায়। একে তো বাংলায় টাইপ করার অভ্যাস একেবারেই নেই, তাও আবার ব্লগে! কিন্তু তবুও, শিরোনামের কথাটা বুকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটা সত্যিকারের অনুভূতি বা ভয় থেকেই যখন বেরিয়েছে তখন সেটা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেই বা লাভ কী? মনে হতেই পারে যে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে আমার কী এমন হয়েছে যে রোদ্দুরের হলদে রং আমাকে মেদুর রোমান্টিকতায় আচ্ছন্ন করার বদলে একটা শীতালি হাও্য়ায় কাঁপিয়ে তুলছে? আসলে সেদিন ৫ বছর বয়সী আমার মেয়ের পাশে বসে একটা পুরনো অ্যালবাম দেখতে গিয়ে কয়েকটা কথা মনে হলো, যেমন: -
১) আমার চেহারাটায় খুব একটা বদল আসেনি, বা এসে থাকলেও সাম্প্রতিক ওজন-হ্রাসের ধাক্কায় চেহারাটা আবার আগের মতো হয়ে গেছে, কিন্তু কোথায় যেন একটা বয়সের ছাপ পড়েছে। সেটা দৃষ্টিতে (মানে ৫ বছর আগের দৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করলে) না মনে তা বলা মুশ্কিল, কিন্তু ব্যাপারটা কোনো অবস্থাতেই উপেক্ষণীয় নয়।
২) আজকাল খুব বেশি করে আমার মনে হয় যে ঘড়ির কাঁটা-টা আমার থেকে অনেক বেশি তাড়াতাড়ি চলছে, অথচ আমার কিচ্ছু করা হচ্ছে না। এটাকে সুখে থাকতে ভূতে কেলানো বা মিড-লাইফ ক্রাইসিস, যে ভাবেই ব্যাখা করা হোক না কেন, অস্বীকার করার উপায় নেই।
অতঃপর, এই ব্লগ, এবং আত্মকথন। এমন কপাল যে সামনের খোলা জানালা দিয়ে দৃশ্যমান ছবিটাও মানানসই রকম হতাশাদায়ক: দ্রুত ফুরিয়ে আসা বিকেলের শেষ আলোয় ঘুরপাক খাচ্ছে একটা চিল। অন্য সময় হলে "হায় চিল, সোনালি ডানার চিল..." এসব ভাবতাম, কিন্তু এখন মনটাই খারাপ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


