লেখালেখি করার কী-কী গূণ/দোষ সেই নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক আছে, কিন্তু ব্লগ লেখার নেশা একবার মাথায় চাপলে যে কী হয় তা নিজেই এখন বুঝতে পারছি। মনে যে ভাব-ই আসুক না কেন, ইচ্ছে করছে সেটাকে লিখে ফেলে তুচ্ছভাবে হলেও অমরত্বের স্বাদ পেতে। এই ভাবা-টা কি অন্যায়? হয়তো যে সৃষ্টির আনন্দ আমি আমার লেখালেখির অক্ষম প্রয়াসের মাধ্যমে পাই নি (মাঝে-মধ্যে ইউনিভার্সিটির ম্যাগাজিনে বা পাড়ার ক্লাব থেকে প্রকাশিত স্যুভেনিরে কবিতা বা অণু-গল্প বা চাটনি-গোছের নিবন্ধ-কে কি আদৌ সাহিত্য বলা যায়?) তার একটা প্রচ্ছায়া আমি এই আত্মানুসন্ধান-এর মাধ্যমে পাচ্ছি! তাহলে চলুক লেখা।
এখন সকাল-টা ফুরিয়ে দুপুর আসতে চলেছে। ক্লান্তভাবে আমার কম্পিউটার-এ বেজে চলা হিন্দি গান বা মাঝে-মাঝে টেবিলে আসা কিছু ফাইল-এ এমন কিছুই নেই যা আমাকে ভাববার মতো কোনো বিষয় দেবে। এই সময়-গুলোয় সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস-টাকে খুব মিস করি। তখন (মানে যখন আমি দিনে দু-আড়াই প্যাকেট সিগারেট খেতাম) এমন নিষ্কর্মা সময়-গুলোতে হাতে সিগারেট গুঁজে অলস ভাবনায় নিজেকে ভাসিয়ে দিতাম, মনের আড়ালে চলতে থাকতো কতো ঘাত-প্রতিঘাত-ময় চিন্তা। কিন্তু সব ভাবনার পাশে নিঃশব্দ দেহরক্ষী/গুপ্তঘাতকের মতো চলতে থাকা কিছু আপশোশের হাত থেকে তখনো রেহাই পেতাম না, আজো পাই না। এই আপশোশ-গুলো এখনকার আমার আর্থ-সামাজিক অবস্থান দেখে হয়তো উপেক্ষণীয় মনে হবে, কিন্তু এদের শিকড় লুকিয়ে আছে অনেক গভীরে এমন এক সময়ে যখন আমি পায়ের তলার মাটি আর মাথার ওপরের ছাদ-দুটোকেই খুঁজে বেড়াচ্ছি, অথচ এমন কাউকে পাচ্ছি না যে আমার ফাঁকিবাজি আর ভয়-কে কাটিয়ে উঠে আমাকে আসল লড়াই-এ নামার সাহস-টা দিতে পারে, পারে আমাকে বাধ্য করতে নিজের সামনে কঠিন থেকে কঠিনতর চ্যালেন্জ ছুঁড়ে দিতে। এই আপশোশ-গুলো আজো আমাকে দাগা দেয় আমার অংক আর পদার্থবিদ্যার দুর্বলতা নিয়ে, যার ধাক্কায় আমি ছিটকে গেছিলাম তথাকথিত ভালো ছেলেদের দৌড় থেকে, হয়ে গেছিলাম "স্রেফ আরো এক জন"। আজ সেই সব ভালো ছেলেরা আমার থেকে অনেক দূরে অস্পষ্ট হয় রয়েছে, কিন্তু আমার আপশোশ-টা এখনো স্পষ্ট-প্রকট। এটাই আমার দুঃখবিলাস, আর এটাই আমার নেশা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


