আগামীকাল আমার মেয়ের জন্মদিন। ৮ই ডিসেম্বর ২০০৫ যখন আমি "বাবা" এই উপাধিতে ভূষিত হওয়ার জায়গায় পৌছেঁছিলাম, তখন মাথায় অনেক কথা ভিড় করেছিলো [করুণাময়ের আশীর্বাদে আমার মেয়ে হয়েছিলো, নইলে বড়ো হয়ে ছেলের সৌজন্যে ক'জায়গায় গালাগাল শুনতে হবে, তেমন দুর্ভাবনা তখন থেকেই শুরু হয়ে যেতো]। এটা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমি হঠাৎ-ই বড়ো হয়ে গেছি, এটাও বুঝতে পেরেছিলাম যে আমার স্ত্রী-র সঙ্গে আমার তার আগে দু-বছর ধরে চলে আসা সম্পর্কে একটা মৌলিক পরিবর্তন আসতে চলেছে।আমার তখনকার ড্রাইভার আমাকে "মেয়ের বাবা" হবার তাৎপর্য বোঝাতে চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু আমার তখন সেসব নিয়ে ভাবার মতো অবস্থা ছিলো না, হয়তো বা অতোটা পরিণত-ও হইনি। তারপর কোথা দিয়ে ৫ বছর কেটে গেলো, আর এখন-ই আমার মেয়ের দিকে তাকালে মনে হয় ভবিষ্যতের অন্য কোনো এক বাড়ির বা সংসারের বউ-এর দিকে তাকিয়ে আছি।
আমার স্ত্রী-র সঙ্গে সত্যিই আমার সম্পর্কের অনেক-অনেক পরিবর্তন হয়েছে, যাকে সচ্ছন্দেই বিবর্তন-ও বলা চলে। আমরা একজন এখন অন্য জনকে অনেক বেশি বুঝতে পারি, বোঝাতেও পারি; আমাদের মেয়ে আমাদের অনেক বেশি বুঝদার করে দিয়েছে একথা তাই অনস্বীকার্য। কিন্তু তবু, অনেক বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী পুরোপুরি আলাদা ছিল, আছে, থাকবে, কারণ আমরা দুজনে খুব কাছাকাছি থেকেও দুই ভিন্ন পৃথিবীর বাসিন্দা (সাধে কি আর বলা হয় যে "মেন আর ফ্রম মার্স, উওমেন আর ফ্রম ভেনাস")। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই আগামীকাল তুতুন, মানে আমার মেয়ে মেঘনা গাঙ্গুলির জন্মদিন-পালনের উৎসব-টাকে দেখা যায়। আমার মেয়ের কাছে এটা বাড়িতে আসা আরো অনেক কচি-কাঁচার সঙ্গে মিশে বেলুন ফাঁটানো আর কেক খাবার (বেচারির অ্যালার্জির জন্য অন্য সময় কেক-প্যাস্ট্রি এসব বারন) উপলক্ষ। আমার স্ত্রী-র কাছে এটা সামাজিক মেলামেশার মাধ্যমে নিজের নিঃসঙ্গতার দেওয়ালে বন্দি-জীবন থেকে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য পালিয়ে যাবার একটা মাধ্যম। আর আমার কাছে এটা আরো বছর কুড়ি বাদে অনিবার্য ভাবে আসা একটা দিনের প্রস্তুতি। কাল, ৮ই ডিসেম্বর আমাদের বাড়িতে তাই উৎসব। সবার নিমন্ত্রণ রইলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


