somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুধ গ্রহ কাহিনী...

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সকাল ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুধ গ্রহের তাপমাত্রা আমাদের পৃথিবীর মতো স্থিতিশীল নয়। কারণ পৃথিবীর মতো বুধে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। বুধপৃষ্ঠদেশের গড় তাপমাত্রা ৪৫২ কেলভিন বা ৩৫৩.৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ১৭৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রায় টিন ও সিসা পর্যন্ত গলে যেতে পারে। তবে এই মান স্থানভেদে ৯০ কেলভিন থেকে ৭০০ কেলভিনে উঠানামা করে। এই হিসাব থেকে বোঝা যায় বুধপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৬১০ কেলভিন পর্যন্ত উঠানামা করে যেখানে পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৮০ কেলভিন পর্যন্ত উঠানামা করতে পারে। একে তো বুধে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই, তার ওপর পৃথিবীর তুলনায় বুধপৃষ্ঠে সূর্যরশ্মির তীব্রতা ৬.৫ গুণ বেশি। তবে এই সমানুপাতিক সম্পর্কের মধ্যে একটি সৌর ধ্রুবক রয়েছে যার মান ৯.১৩ কিলোওয়াট/বর্গ মি.। বুধের বায়ুমণ্ডলের অভাবে এ তাপমাত্রা রাতে মাইনাস ১৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত নেমে যায়। সবচেয়ে উত্তপ্ত স্থান হচ্ছে অর্ধ সৌরবিন্দু এবং শীতলতম স্থান হলো এর মেরুর কাছে অবস্থিত খাদসমূহের নিম্নবিন্দু। মজার বিষয়, বুধপৃষ্ঠের এত উচ্চ তাপমাত্রা থাকা সত্ত্বেও বুধে বরফ থাকতে পারে। বুধের মেরুর কাছে অবস্থিত কিছু গভীর খাদের সমতলে সূর্য রশ্মি কখনো সরাসরি পেঁৗছায় না। এতে সেখানকার খাদগুলোর তাপমাত্রা সবসময়ই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রার চেয়ে কম থাকে। এর ফলে সেখানে বরফের সৃষ্টি হয়। পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীদের প্রেরিত রাডার সংকেত বুধগ্রহের মেরুর সনি্নকটে অবস্থিত বরফ খণ্ড থেকে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। তবে এই সংকেত প্রতিফলনের কারণ বরফ ছাড়া অন্য কিছুও হতে পারে। কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে এটি বরফ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ধারণা করা হয়, বুধ গ্রহের মেরুর সনি্নকটে অবস্থিত খাদগুলোতে বরফের আবরণের পুরুত্ব মাত্র কয়েক মিটার। আশা করা হচ্ছে, সেখানে ১০১৪ থেকে ১০১৫ কেজির মতো বরফ রয়েছে। পৃথিবী ও মঙ্গলের সঙ্গে এই বরফের পরিমাণের তুলনা করলে দেখা যাবে_ পৃথিবীর এন্টার্কটিকায় বরফের পরিমাণ ৪১০১৮ কেজি আর মঙ্গলের দক্ষিণ মেরুতে বরফের পরিমাণ প্রায় ১০১৬ কেজি। বুধ গ্রহে বরফের উৎপত্তির কারণ এখনো অজানা, তবে দুটি সম্ভাব্য কারণ ব্যখ্যা করা হয়। গ্রহের অভ্যন্তরভাগ থেকে পানি চুবিয়ে চুবিয়ে বেরিয়ে আসে এবং ঠাণ্ডায় জমে বরফে পরিণত হয়। ধূমকেতুর সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে জমা হওয়া পানি ও অন্য বস্তু থেকে বরফের উপাদান। প্রধান গ্রহগুলোর মধ্যে বুধের কক্ষপথ সবচেয়ে উৎকেন্দ্রিক। সূর্য থেকে এর দূরত্ব ৪ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৭ কোটি কিলোমিটারের মধ্যে। নিজের কক্ষপথে চারদিকে একবার ঘুরে আসতে এর সময় লাগে ৮৮ দিন। চিত্রটিতে বুধের কক্ষপথের ওপর উৎকেন্দ্রিকতার প্রভাব দেখানো হয়েছে।

আমরা জানি, বুধের আবর্তন কাল ৮৮ দিন। কিন্তু পৃথিবী থেকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখা যায়, এর কক্ষপথের ধীর পরিবর্তন ঘটছে। এ পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বুধের অনুসূর বিন্দুর পরিবর্তনের মাধ্যমে। এ ঘটনাটি বুধের অনুসূরের অগ্রগমন নামে চিহ্নিত। এর পরিমাণ প্রতি ১০০ বছরে ১ ডিগ্রি ৩৩'২০''। এ অগ্রগমনের একটি কারণ হচ্ছে ভূ-কক্ষের বিষুব বিন্দুর অগ্রগমন। এই কারণটিই মুখ্য। এছাড়া শতকরা ৭ থেকে ১০ ভাগ অগ্রগমনের কারণ হচ্ছে অন্যান্য গ্রহের আকর্ষণ। প্রতি একশ বছরে বুধের অনুসূর বিন্দু ৪৩ পরিমাণ অগ্রসর হয়। নিউটনীয় বলবিজ্ঞানের সাহায্যে এর কোনো ব্যাখ্যা প্রদান সম্ভব হয়নি। অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী মনে করতেন বুধ ও সূর্যের মাঝে অন্য কোনো গ্রহ আছে। পরবর্তীতে আলবার্ট আইনস্টাইন তার আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বে বলেন, সূর্যের অবস্থিতির জন্য স্থান-কাল মহাশূন্যে একটি বক্রতার সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ নিউটনীয় নীতি এই বক্রতারই ফল। সূর্যের চারদিকে ওই বক্রপথে যেতে বুধের কক্ষের পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে এর অনুসূর বিন্দুর অগ্রগমন ঘটে। এ তত্ত্ব অনুসারে অগ্রগমনের পরিমাণ প্রতি ১০০ বছরে ৪৩.০৩ যা মূল পরিমাণের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলে যায়। তাই বুধের অনুসূরের অগ্রগমন বর্তমানে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বের একটি প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×