১
অনুরাধা আর শুভ বন্ধু সেই ৮ম শ্রেনী থেকে । শুভর এখনও সেইদিনটির কথা মনে পড়ে যেদিন প্রথম অনুরাধা ক্লাসে এসেছিল । ফর্সা হালকা-পাতলা মেয়েটির দিখে চেয়েই বন্ধুত্ব করতে যে কারোই ইচ্ছে করবে । শুভ ছিল ক্লাসের ক্যাপ্টেন । চশমা পড়া সুদর্শন আর যেহেতু ক্লাসের ফার্ষ্টবয় ছিল সেহেতু সবাই তাকে ভালবাসত । শান্ত স্বভাবের আর লাজুক ছিল বলে ক্লাসের মেয়েরা তার সাথে অনেক ফাজলামি করত । কিন্তু তা নিয়ে কখনো সে মন খারাপ করত না । বরং, ক্লাস নোট তৈরিতে অথবা কেউ কিচু না বুঝলে অনন্দচিত্তে তা বুঝিয়ে দিত । অনুরাধার বাবা হলেন একজন প্রতিষ্টিত শিল্পপতি । ব্যাবসার কাজে বেশীর ভাগ সময দেশের বাহিরে থাকেন । মা-বাবার একমাত্র মেয়েরা যে ফার্মের মুরগির মত ভীত থাকে তা অনুরাধার দিকে চেয়েই বুঝতে পারে শুভ । অনুরাধা যেহেতু নতুন স্কুলে তাই টিফিন আওয়ারে শুভ নিজ থেকেই পরিচিত হতে যায় । একাই বসা ছিল অনুরাধা । হ্যালো আমি শুভ, তোমার নাম কি ? আমি অনুরাধা ।অনরাধা জানতে পারল শুভর বাবা-মা দুজনেই ডাক্তার । দুভাই আর দুবোনের মাঝে শুভ তৃত্বীয় । বড় ভাই আর্মিতে ক্যাপ্টেন আর বড় বোন ঢাকা মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়ছেন । এবার তৃত্বীয় বর্ষে । আর সবার ছোট বোনটি ক্লাস ফোর এ পড়ে । এভাবে দুজনই ভালো ব্ন্ধূ হয়ে গেল ।ক্লাসে দুজনই পাশাপাশি বসত । ক্লাসের বাহিরে দুজন একসাথে সময় কাটাতো । এ নিয়ে বন্ধুরা ফাজলামি করত আর শুভ ওদের বুঝাতো অনুরাধা শুধুই ফ্রেন্ড আর কিছু না । অনুরাধা সবকিছু জানত আর মনে মনে হাসত ।এভাবে স্কুল শেষ করে কলেজে এ ভর্তি হয় দুজনেই । দুজনই এসএ্সসি তে গোল্ডেন এ+ পায় ।
২
কলেজে ভর্তি হবার পর অনুরাধা ভাবতে থাকে শুভ কি শুধুই ওর বন্ধু ! যদি শুধু বন্ধুই হবে তবে শুভকে একদিন না দেখে থাকতে পারে না কেন । ছুটির দিনে অনুরাধা ছুটে যায় শুভর বাসায় । আর একদিন যদি ক্লাসে না আসে শুভ ফোন করে বারবার যানতে চায় কেন আসেনি ক্লাসে শুভ । আচ্ছা আমি কি শুভকে ভালবেসে ফেলেছি । শুভ কি আমায় ভালবাসে । বিছানায় শুয়ে শুয়ে এসব ভাবতে ভাবতে হটাৎ মা ডাক দেন । অনুরাধা খেতে আস । আসছি মা । আচ্ছা শুভও কি আমায় ভালবাসে । এ্সব কি ভাবছি আমি । কালকে কলেজে গেলে জিজ্ঞেস করব ।আসছি মা এই বলে অনুরাধা খেতে চলে যায় । পরদিন অনুরাধা অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশী পরিপাটি হয়ে কলেজে যাই । গাড়ি থেকে নেমে যখন কলেজের বারান্দায় আসি তখন লীনার সাথে দেখা । অনুরাধা তুই আজ এত দেরি কেন । আর বলিস না রাস্তায় অনেক জ্যাম । আচ্ছা শুভ কোথায় । ওকে দেখতাছি না যে । কেন অনুরাধা তুই জানিস না আজ আন্ত:কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগীতা চলছে । শুভ , রাসেল আর তৌকির বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশগ্রহন করছে । তাই নাকি কিছুটা বিষ্মিত চোখে অনুরাধা । মনে মনে ভাবলাম শুভ আমায় কিছু বলল না কেন । লীনা চল অডিটরিয়াম এ । অডিটরিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ । চল ঐ দিকটায় বসি বলে লীনা আমার হাতটা ধরে অডিটরিয়ামের ি পছনের দিকে চেয়ারে গিয়ে বসে । আজকের বিতর্কের বিষয় : সমাজতন্ত্র ও বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর গ্রহনযোগ্যতা ।। মানবিক বিভাগের বিতার্কিকরা এর বিপক্ষে বক্তিতা দিতেছিল । সবশেষে শুভ আসল । শুভ এত সুন্দর করে সাবলীলভাবে তার বক্তব্য উপস্থাপন করছিল আমি মন্ত্রমুগ্ধবাবে শুনেই যাচ্ছিলাম । কিন্তু তখনো জানতাম না সেখানে আর একজন শুভর বক্তিতা শুনছিল । সে হলো সাব্বির । সাব্বির কলেজের সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী এক নেতা ।র্ বিতর্কপ্রতিযোগীতায় শুভরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে অডিটরিয়াম হতে বের হয়ে আসল আমি ডাকদিলাম শুভ শুনছ । আমি পিছনে ফিরে তাকাই । অরে অনু তোমায় আজ দারুন লাগছে । অনুরাধ কে আমি অনু বলেই ডাকি । দেখলাম অনু কিছুটা লজ্জা পাচ্ছে । যাও তোমা র সাথে আজ কথাই বলব না বলে অনু পিছন ফিরে হাঁটা শুরু করে । আহা অনু এত রাগ করছ কেন । সরি্য । তোমায় সুন্দর লাগছে এই কতাটি তোমায় বলতে পারব না ! শুভ তুমি বিতর্ক প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করবে এই্ কথাটি আমায় আগে বললে কি এ্মন ক্ষতি হত ? ও এই জন্য তোমার মন খারাপ । আরে আমি নার্ভাস ছিলাম । যদি হেরে যাই । আর তুমি যান অন ু আমি হারতে পছন্দ করি না । আচ্ছা আমি কি আজ শুভকে বলব আমি যে ওকে কতটা ভালবাসি । যদি শুভ আমায় ফিরিয়ে দেয় । শুভ আমি তোমায় হারাতে পারব না । থাক আজ বলব না । এই অনু কি ভাবছ ? নিরব কেন । না কিছুনা এমনিই । অনু আমার দিকে তাকাও বলে হঠাৎ আমি তার বামহাতটা ধরলাম । আজ তোমায় অনেক সুন্দর লাগছে । ডান হাত দিয়ে শুভ যখন আমার চুল নাড়ছে আমি স্বপনবিভোর হয়ে গেলাম । আমি তোমায় অনেকদিন ধরে একটা কথা বলব বলে ভাবছি । বল শুভ আমি শুনতে চাই । না আজ থাক আন্যদিন বলব । আচ্ছা আমাদের ফাইনাল পরীক্ষার আর বেশ দেরি নেই । তোমার পড়া কেমন চলছে অন ু ? ভালোই ত । শুভ তুমি কি বলবা বলে ফেল । আমি শুনতে চাই । আরে এই কথাটাই । ও আমি ভাবলাম অন্যকিছু । তোমার পড়াালেখা কেমন চলছে ? ভালোই । অনু আমি তোমায় অনেক ভালবাসি । কি করে এই কথাটা তোমায় বলব ।অনেক বেলা হয়ে এবার বাসায় ফিরা যাক । হে এইত আমার গাড়ি চলে আসছে । শুভ চল আমার সাথে রাস্তায় নামিয়ে দিব । না আমার একটু কাজ আছে । সাব্বির ভাই ডাকছেন । দেখা করতে হবে । অনু তুমি চিনতে পারছ না ? আরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে পড়েন । আমাদের বাসায় ডুকতে মোড়ে যে দোকানটা দেখছ । ঐখানে উনি চা খান মাঝে মাঝে । একটা টিউশনি পড়ান আমাদের পাড়ায় । আমাদের কলেজের সাবেক সভাপতি ছিলেন বিতর্ক ক্লাবের । আজকের বিতর্ক প্রতিযোগীতায় উনিও একজন বিচারক ছিলেন । তুমি খেয়াল করো নাই অনু ? হ্যাঁ, আমি দেখছি শুভ । কিন্তু উনার তোমার সাখে কি কাজ । জানি না ত । আচ্ছা আমি গেলাম শুভ । পরিক্ষার আগে আর হয়ত কলেজে ক্লাস হবে না । বাসায় এসো দেখা হবে । আর ফোনে কথাতো হবে । ওকে অনু মন দিয়ে পড় । আমি গেলাম । ভালো থেকো ।
চলবে.............
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


