somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেখানে ভালোবাসার প্রয়োজন নেই

১৩ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনুরাধা আর শুভ বন্ধু সেই ৮ম শ্রেনী থেকে । শুভর এখনও সেইদিনটির কথা মনে পড়ে যেদিন প্রথম অনুরাধা ক্লাসে এসেছিল । ফর্সা হালকা-পাতলা মেয়েটির দিখে চেয়েই বন্ধুত্ব করতে যে কারোই ইচ্ছে করবে । শুভ ছিল ক্লাসের ক্যাপ্টেন । চশমা পড়া সুদর্শন আর যেহেতু ক্লাসের ফার্ষ্টবয় ছিল সেহেতু সবাই তাকে ভালবাসত । শান্ত স্বভাবের আর লাজুক ছিল বলে ক্লাসের মেয়েরা তার সাথে অনেক ফাজলামি করত । কিন্তু তা নিয়ে কখনো সে মন খারাপ করত না । বরং, ক্লাস নোট তৈরিতে অথবা কেউ কিচু না বুঝলে অনন্দচিত্তে তা বুঝিয়ে দিত । অনুরাধার বাবা হলেন একজন প্রতিষ্টিত শিল্পপতি । ব্যাবসার কাজে বেশীর ভাগ সময দেশের বাহিরে থাকেন । মা-বাবার একমাত্র মেয়েরা যে ফার্মের মুরগির মত ভীত থাকে তা অনুরাধার দিকে চেয়েই বুঝতে পারে শুভ । অনুরাধা যেহেতু নতুন স্কুলে তাই টিফিন আওয়ারে শুভ নিজ থেকেই পরিচিত হতে যায় । একাই বসা ছিল অনুরাধা । হ্যালো আমি শুভ, তোমার নাম কি ? আমি অনুরাধা ।অনরাধা জানতে পারল শুভর বাবা-মা দুজনেই ডাক্তার । দুভাই আর দুবোনের মাঝে শুভ তৃত্বীয় । বড় ভাই আর্মিতে ক্যাপ্টেন আর বড় বোন ঢাকা মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়ছেন । এবার তৃত্বীয় বর্ষে । আর সবার ছোট বোনটি ক্লাস ফোর এ পড়ে । এভাবে দুজনই ভালো ব্ন্ধূ হয়ে গেল ।ক্লাসে দুজনই পাশাপাশি বসত । ক্লাসের বাহিরে দুজন একসাথে সময় কাটাতো । এ নিয়ে বন্ধুরা ফাজলামি করত আর শুভ ওদের বুঝাতো অনুরাধা শুধুই ফ্রেন্ড আর কিছু না । অনুরাধা সবকিছু জানত আর মনে মনে হাসত ।এভাবে স্কুল শেষ করে কলেজে এ ভর্তি হয় দুজনেই । দুজনই এসএ্সসি তে গোল্ডেন এ+ পায় ।

কলেজে ভর্তি হবার পর অনুরাধা ভাবতে থাকে শুভ কি শুধুই ওর বন্ধু ! যদি শুধু বন্ধুই হবে তবে শুভকে একদিন না দেখে থাকতে পারে না কেন । ছুটির দিনে অনুরাধা ছুটে যায় শুভর বাসায় । আর একদিন যদি ক্লাসে না আসে শুভ ফোন করে বারবার যানতে চায় কেন আসেনি ক্লাসে শুভ । আচ্ছা আমি কি শুভকে ভালবেসে ফেলেছি । শুভ কি আমায় ভালবাসে । বিছানায় শুয়ে শুয়ে এসব ভাবতে ভাবতে হটাৎ মা ডাক দেন । অনুরাধা খেতে আস । আসছি মা । আচ্ছা শুভও কি আমায় ভালবাসে । এ্সব কি ভাবছি আমি । কালকে কলেজে গেলে জিজ্ঞেস করব ।আসছি মা এই বলে অনুরাধা খেতে চলে যায় । পরদিন অনুরাধা অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশী পরিপাটি হয়ে কলেজে যাই । গাড়ি থেকে নেমে যখন কলেজের বারান্দায় আসি তখন লীনার সাথে দেখা । অনুরাধা তুই আজ এত দেরি কেন । আর বলিস না রাস্তায় অনেক জ্যাম । আচ্ছা শুভ কোথায় । ওকে দেখতাছি না যে । কেন অনুরাধা তুই জানিস না আজ আন্ত:কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগীতা চলছে । শুভ , রাসেল আর তৌকির বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশগ্রহন করছে । তাই নাকি কিছুটা বিষ্মিত চোখে অনুরাধা । মনে মনে ভাবলাম শুভ আমায় কিছু বলল না কেন । লীনা চল অডিটরিয়াম এ । অডিটরিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ । চল ঐ দিকটায় বসি বলে লীনা আমার হাতটা ধরে অডিটরিয়ামের ি পছনের দিকে চেয়ারে গিয়ে বসে । আজকের বিতর্কের বিষয় : সমাজতন্ত্র ও বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর গ্রহনযোগ্যতা ।। মানবিক বিভাগের বিতার্কিকরা এর বিপক্ষে বক্তিতা দিতেছিল । সবশেষে শুভ আসল । শুভ এত সুন্দর করে সাবলীলভাবে তার বক্তব্য উপস্থাপন করছিল আমি মন্ত্রমুগ্ধবাবে শুনেই যাচ্ছিলাম । কিন্তু তখনো জানতাম না সেখানে আর একজন শুভর বক্তিতা শুনছিল । সে হলো সাব্বির । সাব্বির কলেজের সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী এক নেতা ।র্ বিতর্কপ্রতিযোগীতায় শুভরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে অডিটরিয়াম হতে বের হয়ে আসল আমি ডাকদিলাম শুভ শুনছ । আমি পিছনে ফিরে তাকাই । অরে অনু তোমায় আজ দারুন লাগছে । অনুরাধ কে আমি অনু বলেই ডাকি । দেখলাম অনু কিছুটা লজ্জা পাচ্ছে । যাও তোমা র সাথে আজ কথাই বলব না বলে অনু পিছন ফিরে হাঁটা শুরু করে । আহা অনু এত রাগ করছ কেন । সরি‌্য । তোমায় সুন্দর লাগছে এই কতাটি তোমায় বলতে পারব না ! শুভ তুমি বিতর্ক প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করবে এই্ কথাটি আমায় আগে বললে কি এ্মন ক্ষতি হত ? ও এই জন্য তোমার মন খারাপ । আরে আমি নার্ভাস ছিলাম । যদি হেরে যাই । আর তুমি যান অন ু আমি হারতে পছন্দ করি না । আচ্ছা আমি কি আজ শুভকে বলব আমি যে ওকে কতটা ভালবাসি । যদি শুভ আমায় ফিরিয়ে দেয় । শুভ আমি তোমায় হারাতে পারব না । থাক আজ বলব না । এই অনু কি ভাবছ ? নিরব কেন । না কিছুনা এমনিই । অনু আমার দিকে তাকাও বলে হঠাৎ আমি তার বামহাতটা ধরলাম । আজ তোমায় অনেক সুন্দর লাগছে । ডান হাত দিয়ে শুভ যখন আমার চুল নাড়ছে আমি স্বপনবিভোর হয়ে গেলাম । আমি তোমায় অনেকদিন ধরে একটা কথা বলব বলে ভাবছি । বল শুভ আমি শুনতে চাই । না আজ থাক আন্যদিন বলব । আচ্ছা আমাদের ফাইনাল পরীক্ষার আর বেশ দেরি নেই । তোমার পড়া কেমন চলছে অন ু ? ভালোই ত । শুভ তুমি কি বলবা বলে ফেল । আমি শুনতে চাই । আরে এই কথাটাই । ও আমি ভাবলাম অন্যকিছু । তোমার পড়াালেখা কেমন চলছে ? ভালোই । অনু আমি তোমায় অনেক ভালবাসি । কি করে এই কথাটা তোমায় বলব ।অনেক বেলা হয়ে এবার বাসায় ফিরা যাক । হে এইত আমার গাড়ি চলে আসছে । শুভ চল আমার সাথে রাস্তায় নামিয়ে দিব । না আমার একটু কাজ আছে । সাব্বির ভাই ডাকছেন । দেখা করতে হবে । অনু তুমি চিনতে পারছ না ? আরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে পড়েন । আমাদের বাসায় ডুকতে মোড়ে যে দোকানটা দেখছ । ঐখানে উনি চা খান মাঝে মাঝে । একটা টিউশনি পড়ান আমাদের পাড়ায় । আমাদের কলেজের সাবেক সভাপতি ছিলেন বিতর্ক ক্লাবের । আজকের বিতর্ক প্রতিযোগীতায় উনিও একজন বিচারক ছিলেন । তুমি খেয়াল করো নাই অনু ? হ্যাঁ, আমি দেখছি শুভ । কিন্তু উনার তোমার সাখে কি কাজ । জানি না ত । আচ্ছা আমি গেলাম শুভ । পরিক্ষার আগে আর হয়ত কলেজে ক্লাস হবে না । বাসায় এসো দেখা হবে । আর ফোনে কথাতো হবে । ওকে অনু মন দিয়ে পড় । আমি গেলাম । ভালো থেকো ।
চলবে.............




সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ১:৪৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×