৩
এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে অনেক আগেই । অনুরাধা ও শুভ দুজনেই এ্+ পেয়েছে । গোল্ডেন না পাওয়ায অনুরাধার মন কিছুটা খারাপ । কিন্তু শুভ এ্সব নিয়ে কোনো ভাবলেশ নেই । আজ প্রথমবারের মত শুভ অনুরাধার বাড়ী আসল । কলিং বেল টিপতেই অনুরাধার মা দরজা খুললেন । দরজার সামনে ফরসা চশমা পরা শান্ত চোখের ছেলেটাকে দেখে অনুরাধার মা কিছুক্ষনের জন্য স্তম্ভিত হয়ে পড়লেন । ’’স্লামালাইকুম, এটা কি অনুরাধার বাসা ?আমি ওর ফ্রেন্ড ’’- শুভ বলল । ভিতরে এসো বাবা, আমি অনুরাধার মা ।তোমার নাম কি ? জি আমি শুভ । তাহলে তুমিই শুভ ! অনুরাধার মুখে তোমার নাম সারাক্ষন লেগেই থাকে । আচ্ছা তুমি বস । আমি অনুরাধাকে ডেকে দিচ্ছি । কি খাবে চা না কফি ? ’’না আন্টি কিছু না । এ্ক গ্লাস পানি খাওয়াতে পারবেন ?’’- শুভ বলল । নিশ্চয়ই ,অনুরাধা এদিকে এসো । দেখো কে
এসেছে । আমি তোমার পানি পাঠিয়ে দিচ্ছি । কিন্তু আজ দুপ ুরে তুমি আমাদের সাথে খাবে ।এই বলে উনি ভিতরে চলে গেলেন । অনুরাধার মা অনেক মমতাময়ী । প্রথম দেখাতেই শুভর অনেক ভালো লাগল । বিশাল ড্রয়িং রূমে একাকী বসে শুভ দেয়ালে টাঙানো একটা ফটো চোখে পড়ল । মা-বাবার মাঝখানে অনুর মায়াবী মুখ অসাধারণ । ’’কি দেখছ এ্মন করে ?’’-বলল অনুরাধা । কখন যে অনু এসে পিছনে দাড়িয়েছে শুভ বুঝতেই পারেনি । অনু অনেক সুন্দর লাগছে তোমায় ফটোতে । তাই, শুধুই ফটোতেই আমি সুন্দর –? বলল অনুরাধা । আরে তুমি এমনিতেই অনেক সুন্দর এখন খুশিত । তার মানে তুমি আমায় খুশি করার জন্য সুন্দর বলছ শুভ ? দূর আমি গেলাম বলে শুভ উঠতে চাইছিল । অনুরাধা শুভর হাত ধরে বসিয়ে দিল । আহা রাগ করছ কেন শুভ .এমনিতেই দুষ্টুমি করছিলাম । বয় এসে এর ফাঁকে নাস্তা দিয়ে গেল । নাস্তা খাওয়ার সময় অনু জিজ্ঞেস করল তা কোথায় ভর্তি হবে তুমি ? এ্খনো ঠিক করিনি । তবে ডাক্তারি যে পড়ব না এটা নিশ্চিত ।অনু আবার বলল কেন ? তোমার বাবা,মা ও বোন ডাক্তার ।তুমি পড়লে দোষ কি ? এ্জন্যই পড়ব না । ডাক্তারদের পারসনাল লাইফ বলে কিছু নেই । সারাক্ষন রোগী আর হাসপাতাল । আমার ছোট বোন রিমিকে তুমিত দেখেছ । আমি একমাত্র ওর আপনজন বাসায় । ভাইয়া এ্খন পিস মিশনে কঙ্গোতে আর আপুত বিয়ে হয়ে আলাদা ফ্লাটে বনানীতে এ্খন । দুলাভাইও ডাক্তার । কখনই একসাথে সবাইকে পাওয়া যায় না । তাই আমি ঠিক করছি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হব । তোমার ইচ্ছা কি অনু ? আমি মেডিকেলে ভর্তি হব ভাবছি । দেখি ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে । আমার না অনেক ভয় লাগছে শুভ । যদি চান্স না পাই । আরে দূর এত ভয় কিসের আমি জানি তুমি চান্স পাবে । এর মাঝে ভিতর থেকে খাবার ডাক আসল । অনু শুভকে নিয়ে খেতে চলে আস মামনি ।আসছি মা বলে শুভকে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে চলে আসল অনু । এ্ত অল্প সময়ের মাঝে অনুরাধার মা বিশাল আয়োজন করে ফেললেন । অনু একটা চেয়ার টেনে শুভকে বসতে বলে পাশের চেয়ারে বসল । আন্টি এত কষ্ট করতে গেলেন কেন ,এতকিছু রান্ন্া । এ আর এমনকি বাবা বলে আন্টি আমার ও অনুর প্লেটে খাবার তুলে দিলেন । অনু আজ ভিষণ খুশি । মনে মনে ভাবছে শুভ সারাটা জীবন যদি এভাবে তোমার পাশে বসে এ্কসাথে খেতে পারতাম । আন্টি আর না প্লিজ , আমার খাওয়া শেষ । সত্যিই আপনি অনেক ভালো রাঁধেন । খাবার শেষ তথন অনু বলল শুভ আমাদের ছাদে চল । তখন দুজনে ছাদে চলে গেল । ছাদে দাড়িয়ে দুজনে আকাশ দেখছে । হঠাৎ অনুরাধা শুভর হাত ধরে বলল ” শুভ আমি তোমায় ভালবাসি ” ।শুভ একদম অপ্রস্তুত হয়ে গেল । যে কথাটা ও স্কুল জীবন থেকে অনুকে বলতে চাইছে কিন্তু সাহস হয়নি , আজ অনুর মুখ থেকে শুনে বিষ্মিত ।ওর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল । আমিও তোমায় অনেক ভালবাসি অনু । অনু খুশিতে শুভর বুকে মাথা রাখে । আর শুভ অনুকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে । কখন যে বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে দুজনেই বুঝতে পারেনি । সেদিনের মত বিদায় নিয়ে অনন্দচিত্তে বাসায় ফিরল শুভ । যেদিকে তাকায় শুধু অনুর চেহারাই ভেসে উঠে । অনুও বিছানায় শুয়ে শুধু শুভর কথই ভাবতে থাকে । সারারাত দুজনে ফোনে কথা বলে । ভোরে অনু যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখনও শুভ মোবাইলে কথা বলছে ্”অনু এই অনু শুনতে পাচ্ছ ?” কোন সাড়া না পেয়ে বুঝতে পারে শুভ বুঝতে পারে তার প্রেয়সী ঘুমিয়ে পরেছে ।
চলবে....................

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


