somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেখানে ভালোবাসার প্রয়োজন নেই (৩)

১৬ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই শুভ ওঠ ওঠ এই শুভ অনেক বেলা হয়ে গেছে ওঠ । শুভ চোখ মেলে দেখল তার মা মিসেস শায়লা বেগম আজ হাসপাতাল যান নি । কিরে আজ এত বেল া অব্দি ঘুমাচ্ছিস । শরীর খারাপ না কি ! না আম্মু এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে । আমার চশমাটা কই বলে শুভ চশমা খুঁজতে লাগল । এই যে তোর চশমা বলে শুভর দিকে বালিশের পাশে রাখা চশমা এগিয়ে দিলেন শুভর মা ।
’’আম্মু আজ তুমি হাসপাতালে যাবে না ?’’- জিজ্ঞেস করল শুভ ।
’’ আমি আর তোর আব্বু দুমাসের ছুটি নিয়েছি । অনেকদিন দেশের বাহিরে যাওয়া হয় না । যাবে না কি ইংল্যান্ডে ? তোর ছোট খালাকেও দেখা হয়ে যাবে । রিমিরও পরীক্ষা শেষ । ও যাবে ।”-বললেন শুভর মা ।
”না আম্মু । আমার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সামনের মাসে ।তোমরা যাও ঘুরে আস । আর রিমিটাও তোমাদের অনেকদিন পর একসাথে পাশে পাবে ।”-বলল শুভ ।
তোর আপা বলল তুই নাকি মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দিবি না ? তা কি নিয়ে পড়তে চাস ? আম্মু ঠিকই শুনছ । আসলে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই । কিন্তু তোর বাবা চাচ্ছিলেন তুই ডাক্তারি পড়িস । আম্মু প্লিজ তুমি বাবাকে বুঝিয়ে বল পৃথিবীতে ডাক্তারি ছাড়াও অনেক মহৎ পেশা আছে । ছেলের দিকে তাকিয়ে শায়লা বেগম কল্পনা করতে লাগলেন যে ছেলে মায়ের মুখ একবার না দেখলে কেঁদে সারা বাড়ী অস্থির করে তুলত , সোই ছেলে আজ কত বড় হয়ে গেছে । মনে মনে অনেক খুশিই হলেন । ঠিক আছে আমি তোর বাবার সাথে কথা বলব । এ্খন তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে টেবিলে আয় । আমি তোর নাস্তা দিতেছি বলে শায়লা বেগম উঠে চলে গেলেন ।
শুভ তাড়াতাড়ি ফ্রেস হওয়ার জন্য তোয়ালে নিয়ে বাথরুেেম চলে গেল ।
ডাইনিং টেবিলে কাছে এসে দেখল শুভর বাবা পত্রিকা পড়ছেন ।চেয়ার টান দিতে দিতে শুভ বলল ”গুড মর্নিং আব্বু । ”
শুভর বাবা পত্রিকা না সরিয়েই বললেন ”গুড মর্নিং । তা তোমার পড়াশোনা কেমন চলছে ?”
ভালই বাবা বলে শুভ মায়ের দিকে প্লেট বাড়িয়ে দিল । শুভর মা ব্রেডে বাটার লাগিয়ে দিলেন । কলা, এ্কটা ডিম আর একগ্লাস দুধ শুভর দিকে বাড়িয়ে দিলেন । আম্মু আমি এখন ছোট না এই রিমি তুই এগুলো খা । আমি খেয়ে ফেলছি ভাইয়া । এ্গুলো তোমার বলে টিভি দেখতে চলে গেল রিমি । মা ছেলের আদর দেখে মনে মনে হাসতে থাকেন শুভর বাবা । আর নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুথী মানুষ ভেবে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন । কিছুক্ষন বাসায় কলিং বেলের আওয়াজ শুনে শুভ বলল আমি দেখছি আম্মউ বলে শুভ উঠে গিয়ে দরজা খুলল ।

আরে বড় আপু তুমি । হ্যালো দুলাভাই বলে হ্যান্ডশেক করল । ওরা ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে শুভর আপু সাবিহা বলল তুই ত আমাদের বাসায় আসিসই না । বোনকে দেখতে কি মন চায় না ! যাব যাব করে যাওয়া হয়ে উঠে নি । হম আর বাহানা বানাতে হবে না বলে সাবিহা মায়ের কাছে চলে যায় । রিমি দৌড়ে এসে তার পেইন্টিং দুলাভাইকে দেখায় ।

এরমাঝে শুভর মোবাইলে অনুরাধার ফোন আসে । দুলাভাই আমি আসছি বলে উঠে চলে যায় । শুভর দুলাভাই শুবর এভাবে ফোন পেয়ে াুঠে যাওয়ায় মুচকি হাসেন আর বুঝতে পারেন শালাবাবু লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করছেন ।

”হ্যালো অনু কেমন আছ ”-শুভ বলল ।
”সরি শুভ আমি আসলে বুঝতেই পারিনি কখন যে ঘুমিয়ে পড়ছি । ”-বলল অনুরাধা ।
”আরে আমি কিছু মনে করি নি । আজ প্রথম আমি অনেক বেলা করে ঘুম থেকে উঠলাম ।”-বলল শুভ ।
”আরে আমিও উঠছি এ্কটু আগে শুভ । জানিনা প্রেমে পড়লে সব এমন উ্লটপালট হয়ে যায় নাকি । শুভ আমি তোমায় অনেক ভালবাসি ”।
”আমিও তোমায় ভিষণ ভালবাসি অনু ” ।
”আজ আমি আর মা খুলনা যাচ্ছি শুভ । নানুর শরীরটা খারাপ । মা যেতে চাইছেন । দুদিন পর আসব ।” –বলল অনুরাধা ।
আমি তোমায় অনেক মিস করব অনু । আমি তোমায় অনেক মিস করব শুভ । এখন রাখি শুভ পরে কখা হবে । ভালো থেকো ।
মোবাইল পকেটে রেখে শুভ আবার ড্রয়িং রুমে চলে আসে ।

অনু দুদিন থাকবে বলে খুলনা গিয়ে একসপ্তাহ হয়ে গেছে এখনও খুলনায় । নানুর শরীর এখন মুটামুটি ভাল িিকন্তুু আসতে দিচ্ছেন না । আগামীকাল সকালে ওর্ া ঢাকা রওয়ানা হবে । শূভর জন্য মন বড় অস্থির । আচ্ছা দেব নাকি একটা ফোন ওকে এখন । মোবাইল এ রিং বেজে উঠল । চেয়ে দেখলাম শুভই ফোন করছে । ফোর রিসিভ করেই আমিই প্রথম বললাম শুভ আমি তোমাকে অনেক মিস করছি । তোমাকে না দেখে থাকাটা কত কষ্টের তা আমি বলে বুঝাতে পারব না শুভ । আমারও ত একি অবস্থা অনু ।তুমি ঢাকা আসছ কবে অনু ? আগামীকাল বলল অনু । আগামীকালই তোমার সাথে আমার দেথা হচ্ছে অনু । আমি এ্খন ফোন রাখলাম একটু বাহিরে যেতে হবে , বলল শুভ । আর এ্কটু কথা বল শুভ প্লিজ । ওকে জান বল কি কথা বলবা, বলল শুভ । এই তুমি আমায় জান ডাকছ ,বলল অনু । হ্যাঁ, তুমিত আমার জান ই । তাই নাকি শুভ বাবু ? বলে হাসল অনু । এ্কদম হাসবা না বলছি ,যা সত্য তাই বলছি । আচ্ছা আমায় এ্খন সত্যি বের হতে হবে অনু । সাব্বির ভাইয়ের সাথে দেখা করতে হবে ।এ্কটা বিষয়ে কথা বলতে হবে , বলল শুভ । সাব্বির ভাইয়ের সাখ কোমার এত দরকার কি শুভ , আমার বিষয়টা ভাল লাগে না শুভ । আরে উনি অনেক ভাল একজন মানুষ । ওকে ভাল থাক জান । অনু এ্কটু হেসে বলে ঠিক আছে কাল দেখা হবে ।
অনুর মামাত বোন শীলা যে ক্লাস টেন এ পড়ে সে অনুর ফোন এ কথা বলা শুনল। আপু ছেলেটা কে? তুমি কি ওকে খুব ভালবাস?
অনু বুঝত পাড়ল লুকিয়ে লাভ নাই । শীলা সব যেনে গেছে । অনু লাজুক মুখে বলল হ্যা, ওর নাম শুভ । কিন্তু এই কথা কাউকে এখন বলবি না শীলা । সময় হলে আমিই সবাইকে বলব । শীলা বলল মাথা খারাপ আমি কাউকেই বলব না আপু । তুমি নিশ্চিত থাকতে পার । শুনে খুশি হল অনু । আমার লক্ষীবোন বলে শীলাকে আদর করল ।

সাব্বির ভাই ভিতরে আসব । আরে কমরেড শুভ তা এত দেরী কেন বলে আমায় হাত দিয়ে ইশারা করলেন বসার জন্য । আর বলবেন না ভাইয়া রাস্তায় এত জ্যাম । এর আগে কখনও হলে আসছ । না ভাইয়া এই প্রথম আসা হলে । ভার্সিটিতে ভর্তি হও দেথবে হলটাই ক্লাসরুম হয়ে যাবে বলে হাসতে লাগলেন । সাথে সাথে উনার পাশে থাকা দুবন্ধু রাশেদ ও তৌকির ভাই হাসতে লাগলেন । তৌকির ভাই সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র আর রাশেদ ভাই, সাব্বির ভাইয়ের সাথে ফিজিক্সে পড়েন । রাশেদ ভাই বিশ্ববিদ্যালয় বাম দল একটার সভাপতি আর সাব্বির ভাই সাধারন সম্পাদক । তৌকির ভাই ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন । তৌকির ভাই আরেকটা পরিচয় হল উনি মঞ্চনাটকও করেন । তৌকির ভাই বসে এ্কটা নতুন নাটক লিখতেছেন । বিদেশী বেনিয়াদের কাছ থেকে দেশের খনিজ¯ম্পদ রক্ষা করা তাই নাটকের পটভূমি । সাব্বির ভাই আমায় বললেন শুভ তোমায় মুলত আজ ডাকলাম যে কারণে তা হল আমি তোমাকে আজ দটা বই দিব তা বাসায় নিয়ে পড়বে । মাও সে তুং ও চেগুয়েভেরার জীবনি বলে বই দুটি আমার দিকে এগিয়ে দিলেন । আমি বই দুটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলাম ।তাড়াহুড়ার দরকার নেই তুমি ধীরে সুস্থে বই দুটি পড় । ও আচ্ছ্া , তা তোমার ভর্তি প্রিপারেশন কেমন চলছে শুভ ? ভাল সাব্বির ভাই । গুড ভেরি গুড বলে উনি বললেন চল হলের পাশে এ্কটা চা দোকান আছে ভাল চা বানায় । খেয়ে আসি । এই্ কথা শুনে রাশেদ ভাই আর তৌকির ভাই দুজনে একসাথে বলে উঠলেন চল । সাব্বির ভাই বললেন চল তবে চা আমাদের আজ রাশেদ খাওয়াবে বলে আবার হাসতে লাগলেন । আমরা সবাই নিচে চা স্টলে চলে আসলাম । সেি দনের মত চা খেয়ে বাসায় ফিরলাম । রাতকে খাবার পর চেগুয়েভারার জীবনী পড়তে বসলাম । সংগ্রামী জীবন আর দেশে দেশে বিপলব ছড়িয়ে দেয়ার আতœবিশ্বাস আমায় সত্যি বিমোহিত করল । বইটি রেখে আমি অনুর কথা ভাবতে লাগলাম । আচ্ছা আমি কি পারব সারাজীবন সুখে রাখতে ? ওর হাসিমুখে কখনও দু;খের ছোয়া লাগুক এটা আমি কল্পনাই করতে পারি না । এ্সব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ছি তা বুঝতেই পারি নি ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×