৪
এই শুভ ওঠ ওঠ এই শুভ অনেক বেলা হয়ে গেছে ওঠ । শুভ চোখ মেলে দেখল তার মা মিসেস শায়লা বেগম আজ হাসপাতাল যান নি । কিরে আজ এত বেল া অব্দি ঘুমাচ্ছিস । শরীর খারাপ না কি ! না আম্মু এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে । আমার চশমাটা কই বলে শুভ চশমা খুঁজতে লাগল । এই যে তোর চশমা বলে শুভর দিকে বালিশের পাশে রাখা চশমা এগিয়ে দিলেন শুভর মা ।
’’আম্মু আজ তুমি হাসপাতালে যাবে না ?’’- জিজ্ঞেস করল শুভ ।
’’ আমি আর তোর আব্বু দুমাসের ছুটি নিয়েছি । অনেকদিন দেশের বাহিরে যাওয়া হয় না । যাবে না কি ইংল্যান্ডে ? তোর ছোট খালাকেও দেখা হয়ে যাবে । রিমিরও পরীক্ষা শেষ । ও যাবে ।”-বললেন শুভর মা ।
”না আম্মু । আমার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সামনের মাসে ।তোমরা যাও ঘুরে আস । আর রিমিটাও তোমাদের অনেকদিন পর একসাথে পাশে পাবে ।”-বলল শুভ ।
তোর আপা বলল তুই নাকি মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দিবি না ? তা কি নিয়ে পড়তে চাস ? আম্মু ঠিকই শুনছ । আসলে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই । কিন্তু তোর বাবা চাচ্ছিলেন তুই ডাক্তারি পড়িস । আম্মু প্লিজ তুমি বাবাকে বুঝিয়ে বল পৃথিবীতে ডাক্তারি ছাড়াও অনেক মহৎ পেশা আছে । ছেলের দিকে তাকিয়ে শায়লা বেগম কল্পনা করতে লাগলেন যে ছেলে মায়ের মুখ একবার না দেখলে কেঁদে সারা বাড়ী অস্থির করে তুলত , সোই ছেলে আজ কত বড় হয়ে গেছে । মনে মনে অনেক খুশিই হলেন । ঠিক আছে আমি তোর বাবার সাথে কথা বলব । এ্খন তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে টেবিলে আয় । আমি তোর নাস্তা দিতেছি বলে শায়লা বেগম উঠে চলে গেলেন ।
শুভ তাড়াতাড়ি ফ্রেস হওয়ার জন্য তোয়ালে নিয়ে বাথরুেেম চলে গেল ।
ডাইনিং টেবিলে কাছে এসে দেখল শুভর বাবা পত্রিকা পড়ছেন ।চেয়ার টান দিতে দিতে শুভ বলল ”গুড মর্নিং আব্বু । ”
শুভর বাবা পত্রিকা না সরিয়েই বললেন ”গুড মর্নিং । তা তোমার পড়াশোনা কেমন চলছে ?”
ভালই বাবা বলে শুভ মায়ের দিকে প্লেট বাড়িয়ে দিল । শুভর মা ব্রেডে বাটার লাগিয়ে দিলেন । কলা, এ্কটা ডিম আর একগ্লাস দুধ শুভর দিকে বাড়িয়ে দিলেন । আম্মু আমি এখন ছোট না এই রিমি তুই এগুলো খা । আমি খেয়ে ফেলছি ভাইয়া । এ্গুলো তোমার বলে টিভি দেখতে চলে গেল রিমি । মা ছেলের আদর দেখে মনে মনে হাসতে থাকেন শুভর বাবা । আর নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুথী মানুষ ভেবে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন । কিছুক্ষন বাসায় কলিং বেলের আওয়াজ শুনে শুভ বলল আমি দেখছি আম্মউ বলে শুভ উঠে গিয়ে দরজা খুলল ।
আরে বড় আপু তুমি । হ্যালো দুলাভাই বলে হ্যান্ডশেক করল । ওরা ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে শুভর আপু সাবিহা বলল তুই ত আমাদের বাসায় আসিসই না । বোনকে দেখতে কি মন চায় না ! যাব যাব করে যাওয়া হয়ে উঠে নি । হম আর বাহানা বানাতে হবে না বলে সাবিহা মায়ের কাছে চলে যায় । রিমি দৌড়ে এসে তার পেইন্টিং দুলাভাইকে দেখায় ।
এরমাঝে শুভর মোবাইলে অনুরাধার ফোন আসে । দুলাভাই আমি আসছি বলে উঠে চলে যায় । শুভর দুলাভাই শুবর এভাবে ফোন পেয়ে াুঠে যাওয়ায় মুচকি হাসেন আর বুঝতে পারেন শালাবাবু লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করছেন ।
”হ্যালো অনু কেমন আছ ”-শুভ বলল ।
”সরি শুভ আমি আসলে বুঝতেই পারিনি কখন যে ঘুমিয়ে পড়ছি । ”-বলল অনুরাধা ।
”আরে আমি কিছু মনে করি নি । আজ প্রথম আমি অনেক বেলা করে ঘুম থেকে উঠলাম ।”-বলল শুভ ।
”আরে আমিও উঠছি এ্কটু আগে শুভ । জানিনা প্রেমে পড়লে সব এমন উ্লটপালট হয়ে যায় নাকি । শুভ আমি তোমায় অনেক ভালবাসি ”।
”আমিও তোমায় ভিষণ ভালবাসি অনু ” ।
”আজ আমি আর মা খুলনা যাচ্ছি শুভ । নানুর শরীরটা খারাপ । মা যেতে চাইছেন । দুদিন পর আসব ।” –বলল অনুরাধা ।
আমি তোমায় অনেক মিস করব অনু । আমি তোমায় অনেক মিস করব শুভ । এখন রাখি শুভ পরে কখা হবে । ভালো থেকো ।
মোবাইল পকেটে রেখে শুভ আবার ড্রয়িং রুমে চলে আসে ।
৫
অনু দুদিন থাকবে বলে খুলনা গিয়ে একসপ্তাহ হয়ে গেছে এখনও খুলনায় । নানুর শরীর এখন মুটামুটি ভাল িিকন্তুু আসতে দিচ্ছেন না । আগামীকাল সকালে ওর্ া ঢাকা রওয়ানা হবে । শূভর জন্য মন বড় অস্থির । আচ্ছা দেব নাকি একটা ফোন ওকে এখন । মোবাইল এ রিং বেজে উঠল । চেয়ে দেখলাম শুভই ফোন করছে । ফোর রিসিভ করেই আমিই প্রথম বললাম শুভ আমি তোমাকে অনেক মিস করছি । তোমাকে না দেখে থাকাটা কত কষ্টের তা আমি বলে বুঝাতে পারব না শুভ । আমারও ত একি অবস্থা অনু ।তুমি ঢাকা আসছ কবে অনু ? আগামীকাল বলল অনু । আগামীকালই তোমার সাথে আমার দেথা হচ্ছে অনু । আমি এ্খন ফোন রাখলাম একটু বাহিরে যেতে হবে , বলল শুভ । আর এ্কটু কথা বল শুভ প্লিজ । ওকে জান বল কি কথা বলবা, বলল শুভ । এই তুমি আমায় জান ডাকছ ,বলল অনু । হ্যাঁ, তুমিত আমার জান ই । তাই নাকি শুভ বাবু ? বলে হাসল অনু । এ্কদম হাসবা না বলছি ,যা সত্য তাই বলছি । আচ্ছা আমায় এ্খন সত্যি বের হতে হবে অনু । সাব্বির ভাইয়ের সাথে দেখা করতে হবে ।এ্কটা বিষয়ে কথা বলতে হবে , বলল শুভ । সাব্বির ভাইয়ের সাখ কোমার এত দরকার কি শুভ , আমার বিষয়টা ভাল লাগে না শুভ । আরে উনি অনেক ভাল একজন মানুষ । ওকে ভাল থাক জান । অনু এ্কটু হেসে বলে ঠিক আছে কাল দেখা হবে ।
অনুর মামাত বোন শীলা যে ক্লাস টেন এ পড়ে সে অনুর ফোন এ কথা বলা শুনল। আপু ছেলেটা কে? তুমি কি ওকে খুব ভালবাস?
অনু বুঝত পাড়ল লুকিয়ে লাভ নাই । শীলা সব যেনে গেছে । অনু লাজুক মুখে বলল হ্যা, ওর নাম শুভ । কিন্তু এই কথা কাউকে এখন বলবি না শীলা । সময় হলে আমিই সবাইকে বলব । শীলা বলল মাথা খারাপ আমি কাউকেই বলব না আপু । তুমি নিশ্চিত থাকতে পার । শুনে খুশি হল অনু । আমার লক্ষীবোন বলে শীলাকে আদর করল ।
৫
সাব্বির ভাই ভিতরে আসব । আরে কমরেড শুভ তা এত দেরী কেন বলে আমায় হাত দিয়ে ইশারা করলেন বসার জন্য । আর বলবেন না ভাইয়া রাস্তায় এত জ্যাম । এর আগে কখনও হলে আসছ । না ভাইয়া এই প্রথম আসা হলে । ভার্সিটিতে ভর্তি হও দেথবে হলটাই ক্লাসরুম হয়ে যাবে বলে হাসতে লাগলেন । সাথে সাথে উনার পাশে থাকা দুবন্ধু রাশেদ ও তৌকির ভাই হাসতে লাগলেন । তৌকির ভাই সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র আর রাশেদ ভাই, সাব্বির ভাইয়ের সাথে ফিজিক্সে পড়েন । রাশেদ ভাই বিশ্ববিদ্যালয় বাম দল একটার সভাপতি আর সাব্বির ভাই সাধারন সম্পাদক । তৌকির ভাই ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন । তৌকির ভাই আরেকটা পরিচয় হল উনি মঞ্চনাটকও করেন । তৌকির ভাই বসে এ্কটা নতুন নাটক লিখতেছেন । বিদেশী বেনিয়াদের কাছ থেকে দেশের খনিজ¯ম্পদ রক্ষা করা তাই নাটকের পটভূমি । সাব্বির ভাই আমায় বললেন শুভ তোমায় মুলত আজ ডাকলাম যে কারণে তা হল আমি তোমাকে আজ দটা বই দিব তা বাসায় নিয়ে পড়বে । মাও সে তুং ও চেগুয়েভেরার জীবনি বলে বই দুটি আমার দিকে এগিয়ে দিলেন । আমি বই দুটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলাম ।তাড়াহুড়ার দরকার নেই তুমি ধীরে সুস্থে বই দুটি পড় । ও আচ্ছ্া , তা তোমার ভর্তি প্রিপারেশন কেমন চলছে শুভ ? ভাল সাব্বির ভাই । গুড ভেরি গুড বলে উনি বললেন চল হলের পাশে এ্কটা চা দোকান আছে ভাল চা বানায় । খেয়ে আসি । এই্ কথা শুনে রাশেদ ভাই আর তৌকির ভাই দুজনে একসাথে বলে উঠলেন চল । সাব্বির ভাই বললেন চল তবে চা আমাদের আজ রাশেদ খাওয়াবে বলে আবার হাসতে লাগলেন । আমরা সবাই নিচে চা স্টলে চলে আসলাম । সেি দনের মত চা খেয়ে বাসায় ফিরলাম । রাতকে খাবার পর চেগুয়েভারার জীবনী পড়তে বসলাম । সংগ্রামী জীবন আর দেশে দেশে বিপলব ছড়িয়ে দেয়ার আতœবিশ্বাস আমায় সত্যি বিমোহিত করল । বইটি রেখে আমি অনুর কথা ভাবতে লাগলাম । আচ্ছা আমি কি পারব সারাজীবন সুখে রাখতে ? ওর হাসিমুখে কখনও দু;খের ছোয়া লাগুক এটা আমি কল্পনাই করতে পারি না । এ্সব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ছি তা বুঝতেই পারি নি ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


