এমনিতো রঙ ছিল সেই উচ্ছসিত বিকেলে ;
বাবা আর মেয়ের কু ঝিক ঝিক খেলা ,
তবে আজ কেন এমন মলীন মনে হয়।
সেই একি রকম ঘাট বাঁধানো বাঁশের শারি ,
ছোট ছোট কুঁড়ে ঘর উঁকি দিয়ে যাচ্ছে প্রানানন্তর ।
কপোত-কপোতীদের অনর্গল হাসির ফোয়ারা –
বাচ্চাদের কিচির মিচির আর পানকৌড়ির টুপ করে ভেসে ওঠা।
বাঁধের গাঁ ঘেষে কচি কাশবন ফুল ফোঁটাবার আশায় প্রবল ব্যস্ত,
কিন্তু সেই না ফোঁটা পদ্ম আজো ছড়াতে পারেনি নীল আভা ;
এখানেই জন্মাতে পারতো কোন একটি রক্ত গোলাপ।
গোধুলীর শেষ আলোয় ঝরে গেছে ,পদদলিত এবং অবহেলিত- তার নিয়তি।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সমর্থ মানুষ, যার হাত ইচ্ছে করলেই মুঠিতে রেখে দেওয়া যায় ;
যে হাতে ইচ্ছে করলেই নির্ভরতার সমস্ত দায়ভার নিরাপদে তুলে দেওয়া যায়-
আমি সেই হাত মুষ্ঠিতে নিতে পারি না, কেবল ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই।
প্রবল আলিঙ্গনে যার বুকের মধ্যে খরগোশ হয়ে থাকতে চেয়েছিলাম ;
সেই দূর্ভাগা অতীত আমার সুন্দর বর্তমানকে হায়েনার মতোন গিলে ফেলে ,
কেবল আমাকে নয় ,আমার প্রজন্মকেও গিলে ফেলে।
আমরা প্রবল আগ্রহে ঠান্ডা শীতল মানুষটার জায়গায় খুব চঞ্চল –উচ্ছল
আলোকচিত্রকারকে খুঁজতে থাকি, যদিও একদম বোকার মতোন এ চাওয়া।
তুলনা করার স্পর্ধা আমি সর্বাঙ্গে ধারন করিনি কোন দিন,
এই বর্তমান আমাদের ভালো লাগাকে আরো বেশি রাঙ্গিয়ে দিতে সদা প্রস্তুত,
যার সুনিপূন পর্যালোচনায় আমি প্রতিদিন লেখার শক্তি পাই –
তাকে বিচার করার সাহস আমার নেই।
সুখে কিংবা দুঃখে ,আমার একাকীত্বের সাথে যার অপার মেল বন্ধন-
তাকে উপেক্ষা করার শক্তি আমার নেই।
তবু বোকার মতোন তুলনা করে যাই বারংবার ;
যার অনাবিল হাসিতে কেবল সততারা খেলা করে –
তার থেকে দূরে থাকার স্পর্ধা আমার নেই।
কেবল এই টুকু জানি-এখানে আমি কেবলি কবিতা।
আর ঐ পাড়ে অপেক্ষা করে ত্রিশোর্ধ রমনী ;
তার উপেক্ষার যন্ত্রনা কেবল স্মৃতি হয়ে প্রকান্ড প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়।
আমি আর আগের মতোন নারী হতে পারিনা কিছুতেই।
সে আমার কবিতার মধ্যেই বাস করে নিরন্তর –
কবির মাঝে তার কোন ঘর-বসতি নেই।।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

