somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসাম্প্রদায়িকতার মুখোশ

২৫ শে অক্টোবর, ২০২৩ রাত ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবির ছেলেটার নাম Ben Shapiro, আর মেয়েটার Gal Gadot, উভয়েই তাদের নিজ নিজ ফিল্ডে সেরাদের একজন। তারা ইহুদি এবং জায়োনিস্ট, এবং গর্বের সাথে সেটা প্রকাশ করছেন। হামাসের রেজিস্টেন্ট মুভমেন্টের অংশ হিশেবে ইজরায়েলে চালানো অভিযান এবং কিছু যুদ্ধবন্দী গাজায় নিয়ে আসা নিয়ে অন্যান্য অনেকের মতো এই দুজনও অনলাইনে বেশ সরব। গত কয়েকদিন ধরে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া টাইমলাইনে করা প্রায় সব পোস্টই ইসলায়েলকে সমর্থন করে এবং হামাসের চৌদ্দপুরুষ উদ্ধার করে ।

তারা ঠিকমতো ধর্মকর্ম করেন না বলেই অনুমেয়, কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস এবং নিজের আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগেন না। ধর্মকে আধুনিকতার পথে বাধা হিশেবে ভাবেন না, নিজের সাম্প্রদায়িক পরিচয় প্রকাশ করতে লজ্জ্বা বা হীনমন্যতায় ভোগেন না । তথাকথিত সেকুলার সাজেন না। দুকলম লেখাপড়া করে আর কয়েক মিলিয়ন ফলোয়ার পেলে নিজেকে অসাম্প্রদায়িকতার মুখোশে ঢাকেন না । অন্তত (এই সেন্সে) তারা মুনাফেক বা হিপোক্রেট না, যা বিশ্বাস করে সেই বিশ্বাসের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন।

তো উদাহরণে শুধু এই দুজনকে আনলাম, আরও অনেক ইহুদি সেলেব্রিটি এবং স্কলার আছেন যারা নিজেদের ধর্মবিশ্বাস প্রকাশ করতে কুন্ঠা বোধ করেন না, এবং প্রয়োজন দেখা দিলে নিজ ধর্মকে ডিফেন্ড করেন, যদিও তারা ধর্ম প্রাকটিস করেন না তবে অস্তিত্বের প্রশ্ন আসলে ঠিকই নিজের ধর্ম বা আইডিয়লজিকে ডিফেন্ড করতে লজ্জ্বা পান না।

শুধু কি ইহুদি! পশ্চিমের অনেক সেলেব্রিটি আছেন যারা নিজেদের খ্রিস্টান পরিচয় (যেমন টন হ্যানকস, মার্ক ওয়ালবার্গ প্রমুখরা) বা মুসলমান পরিচয় (জিজি/বেলা হাদিদ, মাইক থাইসন, ডিজে খালেদ) গর্বের সাথে প্রকাশ করেন। নিজেকে বিশ্বাসী হিশেবে পরিচয় দিতে তারা লজ্জা পান না। তাহলে পায় কারা?

পায় হচ্ছে বাংলাদেশের সেকুলার সেকুলার লুকোচুরি খেলা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা কিছু গাড়ল, তারা না পারে বাংগালী হতে, না পারে মুসলমান হতে। অথচ একইসাথে এথনিক আর রিজিয়াস আইডেন্টিটি সমান্তরালে ধারণ করা যে যায় তা তারা বুঝে না। তারা মনে করে (ইসলাম) ধর্ম তাদের পুরোপুরি বাংগালী হওয়ার পথে বাধা।
আরেকগোষ্ঠী আছে যারা কিছুটা লেখাপড়া করে,পশ্চিমের অবিশ্বাসী দুয়েকজন স্কলারের বই পড়ে তাদের দর্শনের প্রতি আগ্রহ বোধ করে, তো পরে সেই দর্শনকে উপলব্ধি করতে গিয়ে ধর্মকে বাদ দিয়ে বা একপাশে(দূরে) রাখাকে জরুরি মনে করে। অথচ মার্কসের কাজ বুঝতে হলে তার মতো অবিশ্বাসী হওয়া জরুরি না (উদাহরণ ড. আলী শরিয়াতি) । বিশ্বাসী হয়েও ল্যাকা,দেরিদা পড়া যায়। আবার অবিশ্বাসী বা সংশয়বাদি (যেমন নোয়ান চমস্কি) হয়েও সত্যের পক্ষে বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর পক্ষে কথা বলা যায়। (উত্তর)আধুনিকতার পথে ধর্ম বাধা না।

আপনি বিশ্বাসী অবিশ্বাসী বা সংশয়বাদি যাই হোন না কেনো, বিশ্বাসী হলে বেদান্তবাদী, মুসলিম, ইহুদি, খ্রীষ্টান যাই হোন না কেনো নিজের পরিচয় দিতে লজ্জ্বা পাওয়া উচিত না। দেশে অনেক তথাকথিত বুদ্ধিজীবি দেখেছি বেচে থাকতে একদিনও মুখ খোলে বলে নাই যে সে ইসলাম ধর্মের অনুসারী, বরং উল্টো, নিজেকে কোনো সম্প্রদায়ের লোক পরিচয় না দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো, কিন্তু মরলে পরে জানাজা দাফন কাফন ঠিকই ইসলামি নিয়মে হইছে, অসাম্প্রদায়িক নিয়মে না। তো এইসব আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা গাড়লদের সাহস নাই এটা বলার যে মরলে আমার জানাজা যাতে কোনো হুজুর না পড়ায়, বা শেষকৃত্যে যেনো ধর্ম প্রবেশ না করে।

আপনি মুসলিম পরিবারে জন্ম নিছেন, বিশ্বাসিও বটে, তবে ধর্ম প্রাকটিস করতে পারছেন না, (অনেকেই পারে না, এটা অন্য ডিবেট)। তবে কেনো আপনার সাম্প্রদায়িক পরিচয় প্রকাশ করতে লজ্জা পান? আপনি মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েও অবিশ্বাসী হলে অন্য বিষয়। তখন নাহয় বুঝলাম যে সামাজিক চাপে (ভয়ে) নিজের অবিশ্বাসী পরিচয় প্রকাশ করতে পারছেন না । তখন আপনার নিরবতা কিছুটা জাস্টিফাইড । কিন্তু বিশ্বাসী হলে সেটার প্রকাশ জরুরি । নাহলে সেটা হিপোক্রেসি। হিন্দু,মুসলিম,বৌদ্ধ,খ্রীষ্টান,ইহুদি, অবিশ্বাসী,সংশয়বাদী যাই হোন না কেনো নিজেকে দেখান, মুখোশ খুলুন, অসাম্প্রদায়িকতার মুখোশ ।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৩ রাত ১:১৭
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×