somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এফসিটিসির আলোকে ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন উন্নয়ন প্রয়োজন- বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তারা

৩১ শে মে, ২০১১ বিকাল ৫:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার একটি বিরাট সমস্যা। উন্নত বিশ্বে তথা ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় তামাকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা, ধূমপানের তিকর দিক সর্বোপরি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় তামাক কোম্পানীগুলো নতুন বাজার সৃষ্টির জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। আর তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোই ভবিষ্যতে এ সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হবে সবচেয়ে বেশী। বর্তমানে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগের কারণে বিশ্বে ৪০ লাখেরও বেশী লোক মৃত্যুবরণ করে। যদি বর্তমান অবস্থা চলতে থাকে ২০৩০ সাল নাগাদ তামাকের কারণে বছরে ১ কোটি লোক মারা যাবে যার মধ্যে ৭০ ল আমাদের মত দরিদ্রতম দেশগুলোতে। তামাকের বিপণন, চোরাচালান, অবাদ বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা অধিকাংশ দেশেই প্রায় একই রকম। আর এ সকল সমস্যাগুলো এককভাবে কোন দেশের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই বিশ্বব্যাপী তামাকের ভয়বহতা বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে তামাক নিয়ন্ত্রণের ল্েয কার্যকর পদপে গ্রহনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা । যার ফলশ্রুতিতে ২০০৩ সালে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি), যা বিশ্বে তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রণীত হয়।এফসিটিসি তে বাংলাদেশ ১ম স্বাক্ষরকারী দেশ। এর প্রেক্ষিতে ২০০৫ সালে বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ প্রণীত হয়। ৩১ মে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়ের তাৎপর্য তুলে ধরে ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, সিরাক-বাংলাদেশ, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, ব্র্যাক, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, বসন্ত রেণু সংস্থা, ওয়ার্ল্ড ভিশন, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা, শৈবাল, উশিকার যৌথভাবে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভায় আইনটির বিভিন্ন দূর্বলতা চিহ্নিত করে এফসিটিসির আলোকে এর উন্নয়নের দাবি জানান বক্তারা।

সকাল ৯.৩০ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী শহরের টাউন হল মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদণি করে। র‌্যালীর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসনের এনডিসি শরীফ মোহাম্মদ ফয়জুল আলম এবং জেলা সিনিয়র স্বাস্থ্য শিা কর্মকর্তা মোঃ বজলুর রহমান। এরপর এইচএসটিটিআই মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দিবসের প্রতিপাদ্য ও তাৎপর্য তুলে ধরেন বক্তারা। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের নেতা ও সিরাক-বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক এস.এম.সৈকত এর সঞ্চালনায় এবং জেলা সিনিয়র স্বাস্থ্য শিা কর্মকর্তা মোঃ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক প্রশিণ ইনস্টিটিউট (এইচ এস টি টি আই) এর পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল খান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জুনিয়র স্বাস্থ্য শিা কর্মকর্তা সৈয়দ জাবেদ হোসেন, বসন্ত রেণু সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইন্দ্রজিৎ কুমার নন্দী। মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন ব্র্যাক এর প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মমতাজ বেগম, ওয়ার্ল্ড ভিশন এর মনিকা মজুমদার, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নবযোগ কান্তি ঘোষ, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এস এইচ এম ওয়াহিদুল হক, তৃণমূল এর জাহাঙ্গির হোসেন, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মসজিদের ইমাম মোঃ ইলিয়াছ ও উশিকার সভাপতি মোঃ আঃ কদ্দুছ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইচএসটিটিআই এর পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল খান বলেন- তামাক সেবনের প্রত্য ও পরো কারনে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের এবং তাদের গর্ভের সন্তানের তি হয়। তিনি সকল শিা প্রতিষ্ঠানে ধূমপান ও তামাক সেবন নিষিদ্ধকরণ এবং ২০০৫ সালে প্রণীত আইনটিতে বিদ্যমান দূর্বলতাসমূহ এফসিটিসি-র আলোকে দূর করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা সিনিয়র স্বাস্থ্য শিা কর্মকর্তা মোঃ বজলুর রহমান বলেন, পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান বন্ধের মাধ্যমে অধূমপায়ীর অধিকার রায় সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ বিষয়ে জেলা টাস্কফোর্স কমিটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক কার্য্যক্রম গ্রহন করেছে। তিনি তামাকের উপর উচ্চ হারে কর আরোপ করে দরিদ্র জনগণকে তামাকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখার জন্য জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ জানান।

আলোচনা সভার শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনে তামাক বিরোধী সংগীত পরিবেশন করেন কন্ঠশিল্পী ইন্দ্রজিৎ কুমার নন্দী। অনুষ্ঠানে সিরাক-বাংলাদেশ, ব্র্যাক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, বসন্ত রেণু সংস্থা, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার স্বেচ্ছাসেবক-কর্মী সহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার জনগণ অংশগ্রহন করেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×