রাখাইনে যারা মানুষ হত্যা করছে মানুষের ঘর বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করছে এবং কিছুদিন আগে যারা লংদুদে আগুন দিয়েছে। আপনার কাছে মনে হতে পারে এরা আলাদা লোক, হ্যা এরা আলাদা লোক কিন্তু এরা আদর্শগত দিক থেকে একই। লংদুদে আগুন দেয়ার ব্যাপারটা হয়তো আপনি মনে মনে বা প্রকাশ্যেই সমর্থন করেছেন। কখোনো এর প্রতিবাদ করেননি। এর কারনটা হল নির্যাতিত মানুষগুলো তখন বৌদ্ধ ছিলো। বিপরীতে তখন বৌদ্ধ ধর্মের লোকেরা প্রতিবাদ করেছে। আর এখন রাখাইনে মুসলমানদের উপর নির্যাতন হত্যায় বৌদ্ধরা কেউ নিরবে কেউ প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দিক থেকে কোন প্রতিবাদ নেই। বিপরীত সকল মুসলমান, রোহিঙ্গা দের পাশে গিয়ে দাড়াচ্ছে প্রতিবাদ করছে।
একটু ভাবুনতো প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই এইসব মানবরূপি জানোয়ার গুলো তাদের মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডে কোনো না কোনো কমিউনিটি থেকে সর্মথন পাচ্ছে।
এ দুটো ঘটনা কেবল উদাহরন মাত্র। এমন অনেক মানবতা বিরোধী কর্মকান্ড তারা যুগে যুগে করেছে এবং কোনো না কোনো কমিউনিটি থেকে সর্মথনও পেয়েছে। বুঝতেই পারছেন তাদের এই সহজ সর্মথন পাওয়ার কারনটা হচ্ছে ধর্ম। তারা যুগে যুগে এই ধর্মটাকে পুজি করেই তাদের এই মানবধংশী কাজ গুলো করেছে এবং সহজেই কারো না কারো নিকট হতে সর্মথনও পেয়েছে, যেটা তাদের জন্য একটা বিশাল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
সুতারং, যতদিন পযর্ন্ত আমরা ধর্মীয় একগুয়েমি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারবো। যতদিন পযর্ন্ত আমরা অসাম্প্রদায়িক চিন্তা না করতে পারবো। যতদিন পযর্ন্ত আমরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ সব ভুলে পুজিঁ ব্যাবস্থার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারবো। ততোদিন আপনি আমি কেবল নির্যাতিত হতে থাকবো, শোষিত হতে থাকবো ।
আচ্ছা আমি মুসলিম, আমি নামাজ পড়লে অথবা গরু খেলে আপনার কি কোনো সমস্যা হয়? এ কারনে একবেলার জন্যও কি আপনাকে অনাহারে থাকতে হচ্ছে বা হয়েছে ।
আবার আপনি মুর্তিপূজা করলে আমারতো কোন অসুবিধা হয় না, আপনার পূজার কারনে আমাকে এক বেলার জন্যওতো অভূক্ত থাকতে হয়নাই।
আপনার ভগবানকে আমি মানিনা বিধায় আমাকে আপনার ভগবানতো কোনো কষ্ট দিচ্ছে না। আপনার ভগবানকে আমি মানিনা বিধায় আমাকে তো আপনার ভগবান জনসম্মুখে বিচারের মুখোমুখি করছে না ।
আবার আমার আল্লাহ্কে আপনি মানেননা এজন্য আমার আল্লাহ্তো আপনাকে কোন কষ্ট দিচ্ছে না। আমার আল্লাহ্কে আপনি মানেননা এজন্য সে আপনার বিচারওতো করছেনা। তাহলে আপনি কেন আমার বিরুদ্ধে যাবেন? আমি কেনো আপানার বিরুদ্ধে যাব?
কারটা সত্য কারটা মিথ্যা সেটাতো মৃত্যুর পরেই বুজতে পারবেন।
তাহলে অল্প সময়ের এই জীবনটাকে আমরা কেনো মারামারি- হানাহানি করে পার করে দিচ্ছি?
বিশ্বাস করুন বেচে থাকার এই সময়টা একেবারেই অল্প। তারপরেও আবার আমরা এটাও জানিনা এই সময়ের পরিমানটা কতটুকু।
আচ্ছ আমরা কি পারিনা এই সল্প সময়টাতে মিলেমিশে একসঙ্গে বসবাস করতে।



সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




