somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনে যন্ত্রনাগুলো আসে সুখ দেওয়ার জন্য

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা শহরে বেড়ে উঠা এক কিশোরের। নাম ছিলো তার স্বপ্ন, খুবই দুরন্তপনা। পড়াশোনায় একদম মনোযোগ নেই। প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় দুটি বিষয়ে খারাপ করছে। কিন্তু বাবাকে বলেছে এখনো রেজাল্ট দেয় নি, বাবাকে খুবই ভয় পেত স্বপ্ন। স্কুলে রেকর্ড কার্ড জমা দেয়ার লাস্ট ডেইট, কিন্তু বাবার কাছ থেকে কিভাবে স্বাক্ষর নেবে, তাই এক বন্ধুর স্বাক্ষর নিয়ে (বাবা স্বাক্ষর নকল করে) স্কুলে রেকর্ড কার্ড জমা দেয়। বাবার কাছে স্কুল থেকে ফোন আসে, ওর পড়াশোনার যত্ন নেয়ার জন্য। বাবা প্রি-টেস্ট এর রেজাল্ট জিজ্ঞেস করেন,ফোনে রেজাল্ট না বলে, স্কুল থেকে তাকে বলে যাওয়ার জন্য। গিয়ে শুনেন দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য।

বাবা যখন দেখেন, ছেলেটা স্বাক্ষর ও নকল করেছে, তখন বাবা রেগে অস্থির হয়ে যান। বাসায় গিয়ে অনেক মারপিট করেন। তারপর স্বপ্ন পড়াশুনায় মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু শত চেষ্টায় ও পারে না। কারণ, ও ছিলো গান এবং গিটারের প্রতি আসক্ত। ও টেস্ট পরীক্ষায় আবার দুটো বিষয়ে খারাপ করে, বাবা জিজ্ঞেস করেন, রেজাল্ট কি হয়েছে, তখন ও বলে ভালো হয়েছে। কয়েকদিন পর বাবার কাছে স্কুল থেকে ফোন আসে, এবং স্কুলের হেডমাস্টার বললেন ওকে ফাইনাল পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হবে না, কারণ ও নির্বাচনী পরীক্ষায় দুটো বিষয়ে খারাপ করেছে। বাবা এই খবর শুনার পর, স্বপ্ন কে খুব বেশি মারপিট করেন।

স্বপ্ন রাগে তার স্কুল ব্যাগ+কাপড়+গিটার নিয়ে বাসা থেকে চলে যায়। মা আটকানোর চেষ্টা করলে ও বাবা আটকান নি। রাত ১২ টা হয়ে যায় স্বপ্ন বাসায় ফিরে না, কারণ রাত ১০ টায় সে গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়, তার আগে এক ছিনতাইকারী তার সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায়, নিঃষ অবস্থায় ছিনতাই কারিকে ধরতে গিয়ে স্বপ্ন এই দুর্ঘটনার শিকার। দুর্ঘটনায় স্বপ্নের তেমন কিছু হয়নি, সামান্য আঘাত এবং, সেন্স হারিয়ে ফেলে। তারপর গাড়ির মালিক তাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে, তার বাসায় নিয়ে যায়।

গাড়ির মালিক ছিলেন মিউজিক ডিরেক্টর আদিব চৌধুরী। স্বপ্নের সেন্স আসার পর, আদিব চৌধুরী জিজ্ঞেস করেন, তার সেন্স ঠিক আছে কি না। সে বলে আপনি আদিব চৌধুরী না, আমি আপনার অনেক বড় ভক্ত। সে বলে হ্যাঁ। তারপর আদিব চৌধুরী বলেন তার বাসার এড্রেস টা কি, তাকে বাসায় পৌঁছে দিতে চান। সে তার পুরো ঘটনা আদিব চৌধুরী কে বলে, যে সে আর বাসায় ফিরতে চায় না, কয়েকদিন ওই খানে থাকতে চায়। স্বপ্নের অনুরোধে তিনি রাজি হন।

একদিন সে আদিব চৌধুরীর গিটার বাজানোর জন্য অনুমতি চায়, স্বপ্ন কে আদিব চৌধুরী জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি গিটার বাজাতে পারো। সে বললো, সে পারে। তারপর বাজালো, অন্য রোম এ গিয়ে। এভাবে আরেকদিন, কোন এক কারণে আদিব চৌধুরীর মন খারাপ, সে পাশের রোম এ গান গাওয়া শুরু করলো, এবং গিটার বাজাতে লাগলো। আদিব চৌধুরী তার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে, তাকে নিয়ে মিউজিকে কাজ শুরু করলো, অবশেষে তাকে নিয়ে একটি এলবাম প্রকাশ করলো। অবশেষে স্বপ্নের স্বপ্ন সত্যি হলো।

একদিন স্বপ্ন আদিব চৌধুরী কে বলেছিল, ন্যাশনাল এওয়ার্ড নিয়ে সে বাসায় ফিরবে,তার আগে বাসায় ফিরবে না । আজকে তার স্বপ্ন সত্যির কাছাকাছি। যেই রাতে স্বপ্ন এক্সিডেন্ট করেছিল, তখন এক নিউজপেপার ছাপিয়েছিল কোন এক অজ্ঞাতনামা যুবকের রোড এক্সিডেন্টে মৃত্যু। সেইদিন বাবা-মা ধরে নিয়েছিলেন তাদের একমাত্র সন্তান স্বপ্ন আর পৃথিবীতে নেই। স্বপ্ন নতুন এলবাম নিয়ে যখন কিছু বলছিল, তখন বাবা কোন এক টেলিভিশন চ্যানেলে স্বপ্ন কে দেখতে পেয়ে, চোখের অশ্রু আটকাতে না পেরে স্বপ্নের মা কে নিয়ে লাইভ শো তে চলে গেলেন। তারপর বাবা-মা কে দেখে স্বপ্ন নিজেকে আটকাতে না পেরে বাবাকে জড়িয়ে ধরল, এবং অনেক বেশি কাঁদতে লাগলো।

মরাল অব দ্যা স্টোরিঃ জীবনের কিছু খারাপ মূহুর্তো গুলো অনেক সুখ বয়ে আনে। স্বপ্নের জীবন পাল্টানোর জন্য গাড়ি দুর্ঘটনা টা খুব দরকার ছিলো। গাড়ি দুঃর্ঘটনা স্বপ্নের জীবন পালটে দিলো । তাই ভেবে নিবেন, আপনার জীবনে যন্ত্রনা গুলো আসে আপনাকে সুখ দেওয়ার জন্য ।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৩:৪০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ খোকার অভিমান

লিখেছেন ইসিয়াক, ২০ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬


খোকা খাবে মুড়ি মুড়কি, মা দিলো খই
এই নিয়ে অশান্তি, ব্যাপক হই চই।

বাবা যাচ্ছে হাটে, খোকা পিছু ছোটে
বকা খেয়ে ঘরে ফিরে কাঁদছে মাথা খুঁটে। 

কত কাজই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: বালির নীল গোলকধাঁধা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:১২



কুয়ালালামপুর অপারেশনের ঠিক সাতদিন পর। ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ‘নগুরা রাই’ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান ল্যান্ড করল, তখন বালির আকাশ জুড়ে গোধূলির রক্তিম আলো।

বিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি কার জন্য বাঁচো? কীভাবে এ-আই দিয়ে কভার সং তৈরি করি?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

প্রথমত, এ-আই দিয়ে গান তৈরি করা অনেক সহজ। আপনি নিজে কোনো লিরিক না লিখে, কোনো সুর তৈরি না করেও এ-আই-তে প্রম্পট দিয়েই গান তৈরি করে ফেলতে পারেন। তবে সেটা আপনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশবাড়ীর মূর্তি বিতর্ক, ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালে কি অন্য কোনো নীলনকশা?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:১৪

সাম্প্রতিক ভূরাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সমীকরণে হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারবা অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যার প্রধান লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ফাটল ও অননুমোদিত কাঠামোর মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×