somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতলান্তিকে বসতি

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রুপন্তির সাজঘরে বাড়ির সবার ঢুকতে মানা!
শোনা যায়, তার সাজঘরে নাকি স্বয়ং তার স্বামী পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারেনি আজ অবধি। তাছাড়া স্বামীর সময়-টাই বা কোথায় যে রুপন্তি'র সাজঘরে ঢুকে অল্প-আধটু রঙচঙ করবে!
রুপন্তির স্বামী ইয়াসির খান। পরপর দুই মেয়াদে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাছাড়া সবসময় সরকারি দলে থাকার বৌদলতে এ এলাকার রাজনীতিতে তার বিশাল প্রভাব। এম্নিতেই আমাদের দেশের সরকার দলীয় এমপি'র চেয়ে গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের ব্যাস্ততা বেশী। সেদিক থেকে হিসেব করলে ইয়াসির সাহেবের ব্যাস্ততা কিছুটা কম। সপ্তাহের প্রায়ই তাকে ঘরে ফিরতে দেখা যায়!

ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া ভেঙে রুপন্তি দেখল বিকেল পাঁচটা বাজে। কেমন একটা তরিঘরি'র মাঝে রুপন্তি সাজঘরে ঢুকলো। একটু পরেই অনিক আসবে। অনিক রুপন্তির ফিজিওথেরাপিস্ট। বছর দুই আগে সিলেটে বেড়াতে গিয়ে পা ফসকে পড়ে গিয়েছিলো রুপন্তির। দু'পায়েই বেশ বড় রকমের আঘাতও পেয়েছিলো।মাস কয়েক সিআরপিতে থেরাপি নেয়ার পর ডাক্তার অবশ্য বলেছে বাসায় বসেই বাকি থেরাপিগুলো নিতে পারবে। রুপন্তি তাই করেছিলো। এক প্রসিদ্ধ ফিজিও'র অধীনে বাসাতে বসেই থেরাপি চলতো তার। কিন্তু অনিককে নিয়োগ দেয়ার পর পূর্বের ফিজিওকে ছাটাই করা হয় কোন কারন ছাড়াই।

আজ মঙ্গলবার। রুপন্তি বিশ্বাস করে প্রতি মঙ্গলবার তার সবচেয়ে মঙ্গলের দিন। কেননা প্রায় বছরখানেক ধরে মঙ্গলবারে ঠিক বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অনিক দরজায় এসে কড়া নারে। রুপন্তি এ মধ্য তেত্রিশে এসেও ইয়োগা ড্রেসটা খুব যত্ন করে পড়ে প্রতি মঙ্গলবার! তার স্বামী সর্বদাই কাজে ব্যস্ত। গুণে হয়ত কয়েক ঘন্টা বাড়িতে থাকে সপ্তাহে। কাজেই অনিকের আসা নিয়ে তার কোনো চাপ সামলাতে হয়না।

অনিকের খোঁজ রুপন্তি পেয়েছি তাঁর বাড়িতে একটা পার্টিতে। সেদিন পার্টিতে ইয়াসিরের ঘনিষ্ট বন্ধু সম্রাটের স্ত্রীকে রুবিনাকে একে একে পাঁচ-পাঁচ'টা প্যাগ মারতে দেখে জিজ্ঞ্যেস করেছিল, এত বড় বাড়িতে আপনি একা থাকেন, মানে আপনাদের তো কোনো ইস্যুও নেই, কী করে সময় কাটান, শুনি?
রুবিনা কথার ধাঁচ বুঝেছিলো। হালকা চোখ টিপে তাকে বলেছিলো, 'সময় কাটানোর উপায় বলে দিতে পারি, লাগবে নাকি?' বলে তাকে অনিকের ফোন নম্বর দিয়েছিলেন।

রুপন্তি প্রথমে বুঝতে পারেনি এক রোগের দুই চিকিৎসক দিয়ে সে কী করবে! একাকীত্ব কাটাতে অনিককে একদিন ডেকেই নিয়েছিল। সেদিন প্রথম অনিক তাকে এমন চিকিৎসা দিয়েছিলো যে রোগের চিকিৎসাহীনতায় ভুগছে সে দীর্ঘদিন!

সন্তান হওয়ার পর থেকে ইয়াসিরের কাজের চাপ আরো বেড়ে গেছে, আরো নিরাসক্ত হয়ে গেছে সে। ছেলে হওয়াতে তার প্রয়োজন বোধহয় ফুরিয়ে এসেছে স্বামীর কাছে। যদিও ছেলে ছ’বছরের হতেই তাকে বোর্ডিং স্কুলে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইয়াসির নাকি চায় না তার রাজনৈতিক কীর্তিকলাপের প্রভাব ছেলের ওপর পড়ুক।

ঠিক ঘড়ির কাটা ৫টা বেজে ৩০ এর কাটা ছুঁতেই কলিং বেল বেজে উঠলো। রুপন্তি সাজ ঘর থেকে বের হয়ে তার ঘরে গেলো। অনিককে দেখে মুচকি হেসে বললো- বেশ সময়ানুবর্তিতা শিখেছো দেখছি! এতোটা সময়ানুবর্তিক কি করে হলে?
অনিক কিছু বলেনা।
রুপন্তি আবার প্রশ্ন করে- কিছু বলছো না কেন শুনি! এই সত্য করে বলোতো- তোমার নাম কি সত্যিই অনিক নাকি অন্যকিছু?
স্বভাবে শান্ত এবং প্রচন্ড মিতভাষী অনিক মৃদু গলায় বললো- আমার নাম অনিক না হয়ে ইয়াসির খান হলে কি আপনার ভাল লাগত, ম্যাডাম?
প্রেমের চৌষট্টি কলা জানা এমন পুরুষের সাথে কথায় পেরে উঠা যাবে না,রুপন্তি তা জানে! প্রতি মঙ্গলবারের মত আজও অনিক রুপন্তিকে একটু একটু করে জাগিয়ে তুলে। নিঃশ্বাস ভারি হতে থাকে তার। যে মুহুর্তে রুপন্তি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছে না, আবেশে তার চোখ বন্ধ, তার ভেতরে অনিকের শত জনমের প্রেম – ঠিক সেই মুহুর্তে একটা ছোট্ট ধারালো ছুরি নির্ভুলভাবে তার হৃদপিন্ড ভেদ করে গেল। নিপুণ দক্ষতায় নিজেকে হারিয়ে ফেলার আগেই অনিক বেরিয়ে এল রুপন্তির ভেতর থেকে। ছুরির বাঁট থেকে আঙুলের ছাপ মুছে ফেলল, তার কাজ শেষ!

খুব ছিমছাম আর চুপিসারে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো অনিক। কিন্তু হাটতে হাটতে তার বোধ হচ্ছে ম্যাডামের সঙ্গে অভিনয় করতে শেষের দিকে তার ক্যামন একটু খারাপই লাগছিল!

সে ভাবছে ম্যাডাম কখনো জানবে না যে এই এসাইনমেন্টটা তাঁর স্বামীই অনিককে দিয়েছিলো।
'স্যার, কাজটা শেষ'
'সাব্বাশ ব্যাটা'
মোবাইলটা কান থেকে নামিয়েঅদূরে গিয়ে অটো রিক্সাতে উঠতেই পিছন থেকে একটা গুলি, লাগলো অনিকের মাথায়! অনিক মাটিয়ে লুটিয়ে পড়লো।

ইয়াসির সাহেব পার্টি অফিসে। মাত্র সাংবাদিকদের ঘর থেকে বিদায় দিলেন। কাল পত্রিকায় কি লেখা হবে সেটাও প্রুফ রিডিং হয়ে গেছে!
এলাকায় দ্রুত এ খবর পৌছালো। স্থানীয় এমপি রশিদ সাহেব সমবেদনা জানাতে ইয়াসির খানকে ফোন দিলো। ইয়াসির খানের মোবাইলে রিংটোন বেজে উঠলো-
'আমার পরাণ যাহা চাই, তুমি তাই... তুমি তাই গো...।।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×