somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইমুম পাব্‌না
জনাব সাইমুম সাহেব একজন সাধারণ বাংলাদেশী পরিবারের সন্তান। লেখাপড়া সামান্য । জন্ম পাবনা জেলার কোনো এক অখ্যাত পাড়াগাঁয়। মনেপ্রাণে মুসলমান, তবে সকল ধর্মের প্রতিই তার রয়েছে অসামান্য শ্রদ্ধা। বাংলাদেশকে ভালোবাসেন প্রাণের চেয়েও, দেশের প্রতি রয়েছে অকৃত্তিম শ্রদ্ধ

প্রসঙ্গ ইন্ডিয়ান সিরিয়াল, ভারতীয় আগ্রাসন।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গুরু তার শিষ্যকে বলছে,
“শিষ্য, তুই কি বিড়ালকে মরিচের গুড়া খাওয়াতে পারবি?"
“এ তো খুবই সহজ কাজ, গুরু।" - শিষ্যের উৎফুল্ল জবাব।
“ঠিক আছে, সহজ কাজটা করে দেখাতো?" -গুরুর গুরুগম্ভীর নির্দেশ।
শিষ্য তৎক্ষণাৎ একটা বিড়াল ধরে আনলো মরিচের গুড়া খাওয়াতে।
প্রথমে দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করল। বিড়াল এক চুমুক খেয়েই যখন বুঝতে পারল যে এটাতে মরিচের গুড়া মিশানো, তারপর আর একবারও মুখ লাগালো না।
এবার শিষ্য জোর করে বিড়ালের মুখ হা করিয়ে মরিচের গুড়া দিল। বিড়াল বমি করে সব বের করে দিল।
শত চেষ্টা করেও বিড়ালকে মরিচের গুড়া খাওয়াতে চরমভাবে ব্যর্থ হলো শিষ্য।
শেষপর্যন্ত লজ্জিত বদনে গুরু সামনে গিয়ে দাড়াল শিষ্য।
গুরু তার শিষ্যকে বললো, “এবার দেখ আমি কিভাবে খাওয়াই।"
গুরু বিড়ালটাকে ধরে এনে বিড়ালের পাছায় মরিচের গুড়া ঘষে দিল। ব্যস! কেল্লা ফতেহ।
জোর জবরদস্তি কিছুই করা লাগলো না।
বিড়াল নিজেই পাছায় লাগানো মরিচের গুড়া চেটে খেতে আরম্ভ করলো।
তারপর শিষ্যের পিঠ চাপড়ে গুরু বললো- “কলের (কৌশলের) কাজ বলে (শক্তিতে) হয় না বেটা।"
পাকিস্তানিরা আমাদের উপর জোর করে উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। ফলাফল সবার জানা।
কিন্তু দাদারা জোর করে হিন্দী ভাষা আমাদের চাপিয়ে দেয়নি।
তারা জায়গা মত বসিয়ে দিয়েছে। ব্যস, কেল্লা ফতেহ। আমরা নিজেরাই চেটে খাচ্ছি।
কারণ????
কারণ, কলের কাজ বলে হয় না।
আজ হিন্দী জানাটা স্মার্টনেসের মাপকাঠি হয়ে দাড়িয়েছে। শহরের প্রায় ৯০ ভাগ শিশু হিন্দীতে অনর্গল কথা পারে। গ্রামের পরিস্থিতিও দ্রুত ওদিকেই ধাবমান হচ্ছে।
শুধু ভাষাগত আক্রমণই না, পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন নষ্টের পাশাপাশি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি গুলোকে ভোতা করে দিচ্ছে ভারতীয় সিরিয়াল গুলো।
আমার মতে এগুলো শুধু নাটক সিরিয়াল ই না, এগুলো হচ্ছে # সিরিয়াল_কিলার।
কারণ কোন জাতিতে শক্তি প্রয়োগে ধ্বংস করা না গেলে তার সংস্কৃতির উপর আঘাত হানতে হয়, ভুলিয়ে দিতে সেই জাতিসত্তার ইতিহাস।
যার উদাহরণ আমরা ভারতবর্ষ থেকেই পাই।
ভারতবর্ষের পাল রাজাদের উৎখাত করে সেন রাজাদের রাজ্য দখল করা মূলত পাল রাজাদের উপর চালানো সাংস্কৃতিক আগ্রাসনেরই ফলাফল।
সুতরাং সকল ধরণের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মোকাবিলায় আমাদের ইতিহাস জানা জরুরি।
২১ শে ফেব্রুয়ারি, মহান ভাষা দিব ভাষার জন্য যারা আন্দোলন করেছিল তাদের আমি শ্রদ্ধা জানাই।
কিন্তু শ্রদ্ধা জানাতে এ কেমন পদ্ধতি বেছে নিয়েছে এদেশের মুসলিমরা?
পাথরের গোড়ায় ফুল দিয়ে পূজা করা ছাড়া শ্রদ্ধা জানানোর আর কোন উপায় ই কি নেই?
ঈমান বিধ্বংসী এ কেমন আত্মঘাতী খেলায় মেতে উঠেছে এদেশের মুসলিম জাতি?
আমরা সবাই জানি, ফুল দিয়ে পূজা অর্চনা করা হিন্দু মুশরিকদের কাজ।
অথচ আমরা এ কাজটাই করছি কোন ধরণের ভাবনা চিন্তা ছাড়াই।
এ যেনো কুরআনের নিচের আয়াতটাকেই কেবল সত্যায়ন করছে ...
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللّهِ إِلاَّ وَهُم مُّشْرِكُونَ
অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনা সত্যেও মুশরিক।
সূরা- ইউসুফ, ১০৬
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:২০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×