আচ্ছা, বাংলাদেশের নায়িকারা কি আয়নায় নিজের চেহারাটা দেখেনা? নাকি দেখলেও বোঝেনা যে তাদের সেকাল আর একালের পার্থক্য?
ভক্ত হোক বা নাই হোক, সাধারণ মানুষ সে সিনেমা প্রেমী হোক বা নাই হোক দেশে বা দেশের বাইরের নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা বা বিখ্যাত কোন খেলোয়াড়দের একটা সহজ-স্বাভাবিক ও নিয়মিত ছবি আমাদের মানসপটে আঁকা হয়ে যায়, আমাদের অজান্তেই, সে আমরা সেই সব তারকাদের পছন্দ করি বা নাই করি, ভক্ত হই বা না হই। এটা হয়েই যায় প্রতিনিয়ত পেপার-পত্রিকা-ব্যানার-পোস্টার-বিভিন্ন বিজ্ঞাপন আর নানা মাধ্যমে দেখতে-দেখতে।
তো এইসব মাধ্যমের বদৌলতে এই সব বিশেষ মানুষদের প্রতি একটা বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গী আর কিছু জানা-অজানা চিত্র তৈরি করে ফেলি আমরাই আমাদের চোখ-মন ও ভাবনার মিশেলে কিছু ছবি ও ইমেজও। এবং সেই পটে আঁকা ছবি ও ইমেজই পরবর্তীতে সেইসব তারকাদের বাছ-বিচার আর মূল্যয়নের চাবিকাঠি ও হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে খুব স্বাভাবিক ভাবেই। যেটা সেই তারকার জন্যও গুরুত্তপূর্ণ তার ইমেজ ও পরবর্তী জীবনের স্বাভাবিক ও কম-বেশী জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য। জনপ্রিয়তা সবাই-ই চায় কম বা বেশী, প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে।
এখন অনেকের মনে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জেগেছে, আমার এই সব ফালতু আর একটু গম্ভীর ভাবনার হেতু কি? আমি যে এক-আধ লাইন ভুলভাল আর আতলামি টাইপের লেখা লেখি, সেসবের সাথে এই লেখার সারমর্ম কি? আর আমার এই সব লেখার দরকারটাই বা কি?
সেটা হল, মন-বিবেক আর ভাবনার তাড়না সাথে লেখালেখির নেশা কাটাতে নতুন একটা প্লট যা না লেখা পর্যন্ত ভিতরের খচখচানিটা কাটছেনা।
মূল ঘটনা হলঃ গত সপ্তাহের শেষ দিকে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পত্রিকার সাপ্তাহিক বিশেষ প্রকাশনায় এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় আর কোটি কিশোর-যুবক-মধ্য বয়সী পুরুষের হৃদয়ে ঝড় তোলা এক নায়িকার “তরমুজ” আকৃতি মুখের বীভৎস ছবি! হ্যাঁ বীভৎস-ই, যা দেখে আমার মেজাজ শুধু খারাপ-ই হয়নি, ইচ্ছে হচ্ছিল, নিজের গালে নিজেই কষে দুটো চড় মারি! কেন দেখলাম এই পত্রিকা কেনই বা চোখে পড়লো সেই গাঁ ঘিনঘিনে, অসস্থিকর আর উগড়ে বমি করার মত একটা ছবি?
সেই নায়িকাকে তো আর সামনে পাবার উপায় নেই, তাই এই আত্ন-প্রহারের দ্বারাই যদি প্রশমিত হয় কিছুটা চোখের যে ক্ষতি হল, সেই জ্বালা ও মন বেদনা।
আর সেই পত্রিকাও মাশাল্লাহ! এতো কিছু থাকতে ওই নায়িকাকে নিয়েই কেন তাদের সংবাদ বানাতে হবে আর তা ফলাও করে ছবিসহ প্রচার করে সাধারণ মানুষের মেজাজ খিচিয়ে তুলে আর চোখের আরাম নষ্ট করতে হবে?
ছবিটা দেখেই সেদিনের পত্রিকাটা পড়ার বা আরো একবার দেখার রুচি নষ্ট হয়ে গেছে শতভাগ। তাই ওটা দুরেই রেখেছিলাম। কিন্তু ওই যে আছেনা, যা থেকে আপনি দূরে থাকতে চান বা দূরে সরিয়ে রাখতে চান যেসব চিন্তা ভাবনা, সেই সবই আপনাকে ঘিরে ধরবে আপনি চাইলেও আর না চাইলেও! ঠিক তেমনই। কোত্থেকে যেন গতকাল রাতে আবার ওই পত্রিকাটা আবার আমার চোখের সামনে!
এবার জেগে উঠলো আমার লেখার আকুলতা! আর যদি লিখবোই তবে তো পড়তে হবেই! পড়াশুনা না করে না যেনে বা না বুঝে কি লেখা যায়? না লেখা ঠিক? তাই পড়লাম সহস্র গাঁ ঘিনঘিনে আর অসহ্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও!
পড়ছিলাম আর প্রতিটা শব্দের শেষে মনের ও চোখের মাঝে চলে আসছিলেন সুচিত্রা সেন! সে কি শুধুই নায়িকা? সেতো আসলেই মহা-নায়িকা! আর ভাবছিলাম কে বা কারা দিয়েছিলেন ওনাকে এই নাম তাদের-ই তো একটা অস্কার বা এই জাতীয় পুরস্কার পাওয়া উচিৎ ছিল শুধু সুচিত্রা সেনের মহা-নায়িকা নাম করনের জন্যই! হ্যাঁ আমার অন্তত তেমনই মনে হল।
চলুন দেখি বা পড়ি আমাদের সেই “তরমুজ” মুখো আর “তেলের ব্যারেলসম” এক সময়ের নায়িকার কিছু উক্তিঃ যা সাক্ষাৎকার গ্রহীতার প্রশ্নের আলোকে প্রতি উত্তর হিসেবে উনি দিয়েছেনঃ
১) “হ্যাঁ একটু মোটা হয়ে গেছি, কিন্তু আগামী বছর থেকে আবার ডায়েট শুরু করবো, তবে আমি জিরো ফিগার হতে চাইনা”
- আমার উপলব্ধিঃ আরে জিরো ফিগার হতে কে বলেছে, ক্যামেরার সামনে না এলেই তো হত, সাধারণ মানুষের মনে সেই পুরনো সুন্দর ছবিটাই থাকতো সব-সময়।
২) “আমি বাইরের খাবার খুব পছন্দ করি, খাবার দেখলে আমি লোভ সামলাতে পারিনা, যে দেশেই যাইনা কেন, সেই দেশের সেরা খাবারটা আমার চাই-ই, চাই”
- তো খাবারই খেতো, আবার অভিনয়ের কি দরকার ছিল?
৩) “আজ একটি রোমান্টিক গানের শুটিং করতে এখানে এসেছি!”
-হাঁয় সর্বনাশ! ধরণি দ্বিধা হও, এই অবস্থায় রোমান্টিক গান! আল্লাহ জীবনে যেন সেই গান চোখের সামনে না আসে!
হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে তবে!
আর তার ব্যাক্তিগত কথা গুলো নাহয় বাদই দিলাম, সে যে কি অসংলগ্ন আর শিক্ষা ও বোধহীন তা ভাষায় প্রকাশের অনুপযুক্ত!
(একান্তই ব্যাক্তিগত ভাবনা, কাউকেই কষ্ট দিতে বা হেয় করতে নয়।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

