somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শর্মিলা বসুর মিথ্যাচার

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখাটি বিডিনিউজ থেকে নেওয়া:

শর্মিলা বসু অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন গবেষক। তার দাবী- তিনি ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধের ওপর বিস্তারিত গবেষণা করেছেন। নিরপেক্ষভাবে তার কাজ পর্যালোচনা করলেও পাকিস্তান দেশটির প্রতি অন্ধ আনুগত্য টের পাওয়া যায়। তিনি মূলত শোষকের অত্যাচারের পক্ষে কলম ধরেন, সাফাই গান। তাদের অত্যাচার ও গণহত্যার পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য একপেশে তথ্য হাজির করে তত্ত্ব প্রকাশ করেন। একাত্তরের যুদ্ধের গায়ে তিনি গৃহযুদ্ধের তকমা লাগান, যুদ্ধের মধ্যে পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরতা খুঁজে পান না, ধর্ষণ আদৌ কোনো পাকিস্তানি সৈন্য করেছে কিনা সেই ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেন। একাত্তরের যুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের দায় পাকিস্তানিদের দিক থেকে সরিয়ে তথাকথিত বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের দিকে তাক করাই তার গবেষণাকর্মের মূল উদ্দেশ্য।

শর্মিলা বসু(১) আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় মাঝে সাঝে প্রবন্ধ লিখেন। এছাড়া তার বেশিরভাগ কাজ ইংরেজিতে। গুজরাট দাঙ্গার সময় কলকাতার ‘দা টেলিগ্রাফ’ পত্রিকায় তিনি বেশ কিছু কলাম লিখেছেন। তার গবেষণার একটা প্রধান আগ্রহ ১৯৭১ সালের যুদ্ধ; তবে ইতিহাসের অনুগত না থেকে ইতিহাস বিকৃতির নির্লজ্জ কাজ ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছেন হার্ভাডের ডিগ্রী আর অক্সফোর্ডের চাকুরির ওজন দিয়ে। ভারতীয় জার্নাল ইকোনোমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলিতে প্রকাশিত তার দুটি গবেষণাপত্রের সীমাহীন মিথ্যাচার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রথমটি প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে। প্রবন্ধের শিরোনাম: ‘অ্যানাটমি অফ ভায়োলেন্স: অ্যানালাইসিস অফ সিভিল ওয়ার ইন ইস্ট পাকিস্তান ইন ১৯৭১’; পরের গবেষণাপত্রের নাম: ‘লুজিং দা ভিক্টিমস্‌: প্রবলেমস্‌ অফ ইউজিং উইম্যান অ্যাস্‌ ওয়েপানস্‌ ইন রিকাউন্টিং দা বাংলাদেশ ওয়ার’; এটি প্রকাশিত হয় একই জার্নালে (সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালে)।

শর্মিলা বসুর গবেষণা একটি বিশেষ উপপাদ্যকে আগে স্থির করে পরে সেটিকে প্রমাণ করতে এগিয়েছে। মূল উপপাদ্যটি হলো: ১৯৭১ সালের যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পূর্ব পাকিস্তানিদের বাঙালি জাতীয়তাবাদ ছিল সশস্ত্র ও উগ্র এবং এদের অবাঙালি হত্যাকাণ্ড পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয়তাবাদী গুণ্ডারাই প্রথম করেছে বলে সেটা দমন করতে পাকিস্তান সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়। মূল উপপাদ্যকে ঘিরে তার আরো কিছু বক্তব্য আছে। জাতিবৈরিতায় পাকিস্তানিদের চেয়ে বাংলাদেশের জনগণ এগিয়ে ছিল। গণহত্যা ও ধর্ষণের সংখ্যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্যে অনেকগুণ বাড়িয়ে বর্ণিত আছে। ১৯৭১ সালে অবাঙালি হত্যাকাণ্ড পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি হত্যাকাণ্ডের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। তিনি তার প্রথমদিকের গবেষণাতে এই উপপাদ্য ও অন্যান্য বক্তব্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত তার বই ‘ডেড রেকনিং: মেমোরিজ অফ দা ১৯৭১ বাংলাদেশ ওয়ার’- এ তার যাবতীয় অনুসিদ্ধান্ত নানারকম পক্ষপাতদুষ্ট বরাত টেনে পাকিস্তানের পক্ষে যায় এমন উপসংহারে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে।

বিস্তারিত পড়তে:View this link
১২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×