somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন হচ্ছে ভ্রান্তি

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ রাত ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে অত্যন্ত শঙ্কিত ভীতু কিছুটা ঘোরের ভেতর তখনো, অল্প কয়দিনে ওজন পাঁচ কেজি লুজ হয়েছে, বয়স ষাট ছুই ছুই, আমার দিকে তাকিয়ে বললেন আর বোলোনা ইতি ভেতরে কি গেঞ্জাম হুড়োহুড়ি চিল্লাচিল্লি, আমি যে রোগী একটা, সেদিকে ওদের খেয়ালই নেই, হাসছে , গান গাইছে , কথা বলছে,
আমি বললাম ভেতরে কারা ডাক্তারেরা?
নাআআআআআ, ওরা ওরা, ঐ যে থাকেনা ওয়ার্ড বয় ক্লিনার নার্স এইসব, ওরা অনেক, আর হইচই চিৎকার, আমি তো একমনে আয়াতুল কুরছি পড়ছি ওদের জ্বালায় পড়তেও পারছিনা শুরুতেই গোলমাল পাকিয়ে যাচ্ছিলো বলবো আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু বলতেছি আল্লাহুমা ছাল্লে আলা মোহাম্মাদ, ওরা এত কথা বলে, তখনো ডাক্তার আসেনি।
আমি তো ভয়ে আধমরা একবার ভাবলাম একটা ধমক দিয়ে বলি থামো এতো জোরে কথা বলছ কেন? এত নয়েজ করছ যে তোমাদের এখানে তো থাকতেই পারছি না ইচ্ছে করছে এখান থেকে উঠে চলে যাই।

আগ্রহ নিয়ে উনাকে বললাম বলছিলেন? উনি মুখ বেজার করে বললেন, নাআআআআআ কি করে বলবো আমি তো হাতটাই উঁচু করতে পারছিলাম না কি একটা ইঞ্জেকশন দিয়েছিল মনে হচ্ছিল সারা শরীর অবশ, আর মরা মানুষের মতন দুই টুকরা সাদা কাপড় গায়ের উপর, নীচে এক টুকরা উপড়ে এক টুকরা।তখন কেমন লাগে বলতো?
কি ইকজেকশন দিয়েছিল অ্যানেসথেটিক ?
হবে হয়তো এরকম কোন কিছু আবার নাও হতে পারে কারণ আবার আমাকে একটা রুমে ঢুকিয়েছিল কেমন বেল্ট বেল্ট চারদিকে ওটায় ঢোকার পর আর কিছু মনে নেই হতে পারো ওটা একটা অ্যানেসথেটিক রুম।
সে আরও জানালো যে তার পায়ের রগ কেটে নিয়ে ওটা বুকে লাগিয়ে দিয়েছে একদম উপর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত।
আমি বললাম রগ কেটে ফেলেছে! তাহলে আপনি হাঁটবেন কীভাবে, পঞ্চাশোর্ধ্ব তার অতি রূপবতী ওয়াইফ বললেন যে মানুষের পা এ দুইটা রগ আল্লাহ্‌ এক্সট্রা দিয়ে দিয়েছেন, যেন জরুরী প্রয়োজনে কেটে নিয়ে শরীরের কোনখানে লাগানোর দরকার পড়লে কেটে নিতে পারে।
উনি আমার অফিসের জী এম, সে তার জীবনের সবথেকে আতঙ্কগ্রস্ত একটি সময়ের বর্ণনা দিচ্ছিলেন ওপেন হার্ট সার্জারি অপারেশন এবং সে অত্যন্ত ভীতু মানুষ ।

উনার কথা শুনতে শুনতে মাথায় এলো যে এভাবে একটা মৃত মানুষ যদি আবার জীবিত হন এবং তার আত্মীয় স্বজনদের কাছে ফিরে এসে সবাইকে তার দুর্বিষহ সেই মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করতে পারতেন!
কিভাবে সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন? তখন তার কি অনুভূতি হয়েছিলো? যখন তাকে খাটিয়ায় শুইয়ে অন্যান্যরা জানাজা পড়ছিলেন কিংবা তাকে কবরের উদ্দেশে নিয়ে যাচ্ছিলেন? কীভাবে তাকে কবর দেয়া হয়েছে ?কবর দেওয়ার পর তার কেমন লেগেছিল? যখন তার পেট ফুলে উঠেছিল যখন তার শরীরের মাংস পচা শুরু করল? পেটের নাড়িভুঁড়ি পচে যখন নাক মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছিলো তখন তার ঘৃণা লাগেনি? কবরের একেকটি অন্ধকার রাত কতটা ভয়াবহ ছিল? আল্লাহ্‌ মাবুদ।

আমার কলিগ বান্ধবী অনামিকা অবুঝের মতন আমাকে বলে আচ্ছা হানি মানুষ একসময় মরে যাবে মরে যায় তাহলে মানুষ কেন এত হিংসা করে কেন এত শত্রুতা করে কেন এত রাগ জিদ মারামারি হানাহানি লোভ ক্ষতি ?
বললাম, অন্য মানুষের কথা বাদ দাও আপন মানুষই তো কত অমন করে তবে এটাই জীবনের বৈচিত্র্য, কেউ ভালো কাজ করবে, কেউ খারাপটা, কেউ ভালবাসবে কেউ ঘৃণা করবে কেউ উপকার তো কেউ ক্ষতি পৃথিবীর আলো অন্ধকারের মতন, অমাবস্যা পূর্ণিমার মতন সত্য আর মিথ্যার মতন বিচিত্রতা মানুষের আচরনে থাকবেই এই হচ্ছে পৃথিবী এই হচ্ছে জীবন। (রিপোষ্ট)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ রাত ১:২৮
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×