খুব ক্লান্ত লাগছে,
ঘুম আসছেনা কিছুতেই।
হাত-পা কাঁপছে,
শরীর জুড়ে বাষ্প ছড়াচ্ছে প্রচন্ড উত্তেজনা।
কাল হয়তো ১৪৪ ধারা-
ভাঙতে হতে পারে।
শেষ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে-
আমতলার মিটিংয়ে।
আজ সারাদিন আমি আর জগন্নাথ কলেজের-
রফিক ছুটে বেড়িয়েছি সারা ক্যাম্পাস।
কাশেম স্যারের নির্দেশ মতো বিলি করেছি
অসংখ্য হ্যান্ডবিল,পোস্টার আর লিফলেট।
বইখাতা,মুদ্রা,ডাকটিকেট,অফিস-আদালত
সব জায়গাতে ঊর্দূ্।
বাঙালিরা এতো সহজে মেনে নেবে?
ওরা তাই ভেবেছে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গন আজ
ছিলো বিদ্রোহীদের শপথস্থল।
বাংলায় দুটো কথা বলবে বলে,
ওরা প্রাণ দিতেও প্রস্তুত!
আচ্ছা!আমরা কি দুঃসাহসী?
নাকি মহা উন্মাদ?
উত্তেজনায় কপাল ঘেমে যায়,
হাত-পা নিশপিশ করে আমার।
দুপুর বেলা একবার
বরকত ভাইকে দেখেছিলাম।
হলের বারান্দায় বসে
পোস্টার লিখে চলেছেন।
বিকেলে একটা চিঠি পোস্ট করে এসেছি।
মায়ের জন্য লেখা।
বলেছি,আমি ভালো আছি।
নইলে মা অযথা চিন্তা করবে।
সন্ধ্যায় ঢাকা হলের পাশের পুকুরপাড়ে
জরুরি মিটিং ডাকা হলো।
মতিন ভাই চোয়াল শক্ত করে বললেন,
”কিছুতেই এই কার্ফূ আমরা মানবো না।”
নাহ্, এখন একটু ঘুমাতে হবে।
সকালে মিটিং আছে আমতলায়।
চিঃকার করে কাল বলবো,
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

