গতকাল বলেছিলাম ------ "ধর্ম হচ্ছে বিশাল সাইজের একটি মুলা । যা আসমানে ঝুলছে । আর জমিনে বসে কেউ সেই মুলার চাষ করছে আবার কেউ সেই মুলা ব্যবসায়ী হয়ে গেছে । একটু গুজ গাছ করে নিতে পারলেই ব্যবসা বেশ জমে যায় । চাবি মাইরা দিছে ছাইড়া অবস্থা । থামার নাম নাই । যে যেখানেই জন্মাক না ব্যাপার না মুলার ছায়ায় আসতেই হবে । জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবার জন্য এই মুলাটির রয়েছে মারান্ত্রক গুন । কোটি কোটি মানুষ পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে গেছে এই মুলার কারণে । এখন ও যাচ্ছে । প্রতি ঘণ্টা,মিনিট, ক্ষণে মানুষের উপর নির্যাতন নিপীড়ন নেমে আসছে এই মুলার দোহাই দিয়ে ।"
মানুষের জন্মের পরেই তার উপর ধম নামের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় । বেছে নেবার কোন সুযোগ নাই । পছন্দ হোক বা না হোক সারা জীবন বয়ে বেড়াও । এর অন্যথা করতে চাইলেই হই হই রই রই । জাত গেল, পাত গেল বলে রব উঠে । আরে বাবা সময় দাও , বুঝতে দাও আগে কোনটা ভাল, কোনটা মন্দ । না কোন অপশন নাই , তুই হিন্দুর ঘরে জন্মেছিস ? তুই হিন্দু , যা এখন পূজা কর, মাটি দিয়ে বানানো মুতিকে মা ডাক, ভগবান মান। মুসলমানের ঘরে জন্মেছিস ? তুই মুসলিম, যা এখন বুঝে, না বুঝে কোরআন পড় , মোল্লা গো কথায় কথায় মাথা ঝাঁকা । খৃষ্টান ঘরে জন্মেছিস ? যা বেটা, খোদার পুত্র বানিয়ে তাকে ঘরে ঝুলিয়ে রাখ । তোর কোন মুক্তি নাই ।
যারা নীরবে ধর্ম পালন করে তাদের নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন নে কোন বক্তব্য ও নেই । যে যার ধর্ম পালন করবে এটাই হওয়া উচিত । কিন্তু যখন ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয় সেটা সহ্য হয় না । কষ্ট লাগে । ধর্ম একান্ত ব্যক্তিগত একটা ব্যাপার নিজ ধর্ম পালন করতে গিয়ে ঢাক ঢোল পিটিয়ে অন্যকে কষ্ট দেওয়ার কোন মানে দেখি না ।
সারা দেশে বাচ্চাদের পরীক্ষা চলছে অথচ একদিকে মন্দিরে মাইক বাজিয়ে কীর্তন চলছ, লাউড স্পিকারে হিন্দি গান বাজছে অন্যদিকে রাস্তার উপর চলছে ওয়াজ মাহফিল। মাঝখানে বাচ্চাদের অবস্থা টাইট । সারা রাত কীর্তন আর ওয়াজ করে পেট মোটার দল পোলাও কোরমা খেয়ে বকশিস নিয়ে বাড়ি ফেরে , একবারও ভাবে না পরীক্ষার পড়া পড়তে না পারা বাচ্চাদের উপর এসব কি প্রভাব ফেলছে । পরীক্ষা না হয় পাশ করে যাওয়া যাবে কিন্তু বাচ্চাদের মনের উপর যে, প্রভাব রেখে যাচ্ছে তা কি কোনদিন যাবে । এসব কি ঠাকুর বা মোল্লারা কখনও ভেবে দেখেছে ? বাচ্চাদের লেখা পড়ার কথা না হয় বাদ দিলাম, কতো বাড়িতে কতো অসুস্থ মানুষ রয়েছে তাদের কথা কি কেউ একবার ভেবে দেখেছেন ? শব্দ দূষণে তাদের কি অবর্ণনীয় কষ্ট হচ্ছে ।
কখনও কি শুনেছেন, কোন মসজিদ বা মন্দির থেকে বলা হয়েছে, আসুন সবাই মিলে দান করে সেই অর্থ দিয়ে এলাকার দুস্থ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করি । সাহায্য করি । না শুনেন নাই । শুনবেন ও না । অথচ মসজিদে গেলে শুনা যায় গত সপ্তাহে কতো ভিক্ষা উঠেছে । সেই সঙ্গে ভয় ভীতির সঙ্গে অনুরোধ থাকে মসজিদ/ মন্দিরের দান বাক্সে আরো বেশি করে ভিক্ষা দেওয়ার । তা হলেই পেটে মোটার দল পেট পুরে খেতে পারে ।
অনেকে আমার নাম বদলাতে বলেছেন । আরে ভাই একটু ভেবে দেখুন তো ? অন্যের নাক কেটে যাত্রা করা কোন ধমেই সমর্থন করে না । এসব হচ্ছে শুধু মূর্খতার কারণে । মূর্খতা বন্ধ করতে হবে । লোক দেখানো ধার্মিকরা সমাজের শক্র । তারাই এসব করে বেড়াচ্ছে । ধর্মের মূলা টানিয়ে মানুষ ঠকাচ্ছে । পেটে মোটা করছে । ধর্মের নাম দিয়ে তোবারক বা প্রাসাদ করে সেই তোবারক বা প্রাসাদ খেতে হলে আবার টাকা দিয়ে খেতে হয় । কি আজব তাই না ? ঈশ্বর খোদা বিক্রি হয়ে যায় অর্থের বিনিময়ে । অথচ ধর্মে বলা আছে নাম মাত্র মূল্যে তোমরা এসব বিক্রি করো না ।
কে কি করবে, কোন ধর্ম কিভাবে পালন করবে তা নিয়ে আবার কোন বক্তব্য নেই , আমার আগ্রহ ও নেই । কিন্তু আমি বলতে চাই ধর্মের নামে এমন কিছু করা উচিত না - যা অন্যের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাড়ায় । প্রকাশ্য ইবাদতের চেয়ে গোপন ইবাদত খোদার অনেক প্রিয় । ধর্ম হচ্ছে শান্তির জন্য । এই শান্তি ই এখন বিশ্বময় কেন অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ! এটি হচ্ছে একটি মাত্র কারণের জন্য, তা হচ্ছে মূর্খতা, অজ্ঞতা । দিনকে দিন আমরা আরো অজ্ঞ হয়ে যাচ্ছি না তো ? এসব দেখে ধর্ম কে আমার মুলা বলেই মনে হয় ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




