somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাখাওয়াত হোসেন  বাবন
ব্লগিং শুরু করি প্রথম আলো ব্লগে "আমার কবিতা নামে" আমি ব্লগিং করি মূলত নিজের ভেতরে জেগে উঠা ব্যর্থতা গুলোকে ঢেকে রাখার জন্য । দুনীতিবাজ, হারামখোর ও ধর্ম ব্যবসায়িদের অপছন্দ করি ।

আমেরিকানদের চাঁদে যাওয়া ছিলো স্রেফ একটা ভাঁওতাবাজি

১৫ ই মার্চ, ২০২৩ দুপুর ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই ।
নীলার ডাকে ধড়পড় করে বিছানায় উঠে বসলো বেন অ্যালেকজান্ডার ।
আশে পাশে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলো কি হয়েছে । সঙ্গে সঙ্গে পাল হারবারের স্মৃতি ফিরে এলো । হায় হায়, জাপানিজদের মতো রাশিয়া ও কি তাহলে আমেরিকায় ঢুকে পরেছে ? রাশিয়ান প্লেনগুলো থেকে কি একের পর এক বোমা হামলা হচ্ছে ? হায় ! ঈশ্বর ! এখুনি বুঝি ইমার্জেন্সির দোহাই দিয়ে ডেকে পাঠানো হবে ব্যারাকে । তারপর এক ঘণ্টার নোটিশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো অন্য কোথাও ।

আর কত ? আর কতো প্রাণ ঝরলে শান্ত হবে পৃথিবীর রক্ত পিয়াসু যুদ্ধবাজ হায়েনার দল ? সাধারণ আমেরিকানরা তো যুদ্ধ চায় না । তারা খেয়ে পরে সাদা , কালো মিলে মিশে শাস্তিতে বসবাস করতে চায় ।

বেনের ঘুম ভাঙ্গার প্রথম ধাক্কাটা কেটে যেতে সে দেখতে পেলো, তার স্ত্রী রূপসী নীলা কপালের উপরে নেমে আসা চুলের গোছা সরাতে সরাতে বলছে, হ্যানি , এসো টিভিতে মজার একটা অনুষ্ঠান দেখাচ্ছে । সঙ্গে সঙ্গে বিরক্তিতে ছেড়ে গেলো দেহ,মন । সামান্য টিভির অনুষ্ঠান দেখার জন্য ওর এমন আরামের ঘুমটা ভেঙ্গে দিলো মেয়েটা । যুদ্ধ ফেরত সৈনিকের জীবন নিয়ে ফেরত আসার পর কিছুদিন তাদের জীবন অনেকটা এলোমেলো থাকে । সারারাত পার্টি হইহুল্লা করে কেটে যায় । গত রাতেও একটা পার্টি থেকে ফিরতে ফিরতে ভোর হয়ে গিয়েছি । এসেই ঘুম । দু ঘণ্টাও হয়নি ঘুমিয়েছে । এরই মধ্যে ঘুম থেকে তোলার অর্থ হচ্ছে, সাপের মুখে চুমু খাওয়ার মতো বিপদজনক ।

বিরক্তি চেপে রেখে বেন তাকালো নীলার দিকে । সকালের আলোয় জ্বলমল করছে নীলার সর্বাঙ্গ । মনে মনে বললো, মেয়েটা এতো সুন্দর কেন ? একটু আগে জেগে উঠা বিরক্তিটা মুর্হুতে নীলার সৌন্দর্যের আড়ালে ঢাকা পরে গেলো ।

বেন অত্যন্ত শান্ত গলায় বলল, "তুমি দেখ না তোমার মজার অনুষ্ঠান । আমার ঘুমের প্রয়োজন । একটু ঘুমাতে দাও প্লিজ । " কথাটা বলেই সে আবার শুয়ে পড়লো বিছানায় ।

নীলা কিন্তু নাছোড়বান্দা । সহজে ছাড়ার পাত্রী নয় । সে হামাগুড়ি দিয়ে বিছানায় উঠে এলো। তারপর বেনের উপর শুয়ে ঠোটে,গালে, কপালে চুমু খেতে খেতে মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে দিতে দিতে বলল, উঠে পরো প্লিজ । এমন একটি দৃশ্য তোমাকে ছাড়া কিছুতেই দেখবো না ।

মধ্য বয়স্ক নারী অল্পতেই পুরুষ মানুষকে কাবু করে ফেলতে পারে । নীলার মধ্যে সে শক্তি মারাত্মক । নরম শরীরের উষ্ণতায় বেনের ঘুম ছুটে পালাল । তার শরীর একটু একটু করে ঐশ্বরিক সুখের নেশায় জেগে উঠছে । নীলা সেটা বুঝতে পেরে বেনের দশ দিগন্ত আলোকিত করে হাসতে হাসতে বলল, "নো দুষ্টামি । নো দুষ্টামি । "

বেন কিন্তু ছাড়ল না । সে নীলাকে দু হাতে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে ঠোটে,গালে চুমু খেতে খেতে বলল, কি এমন আহামরি অনুষ্ঠান দেখাচ্ছে তোমার টিভিতে যার জন্য তুমি এমনটা করছ ? নীলা তখন নিজেকে বেনের বাহু বন্ধন থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, "চলো নিজেই দেখবে । বেন আর কথা বাড়াল না । কেননা নীলাকে উপেক্ষা তার পক্ষে সম্ভব না ।

ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িং রুমে এসে বেন দেখতে পেলো , সেখানে তার বাবা অবসর প্রাপ্ত কর্নেল টমাস মুলার অ্যালেকজান্ডার মা মিরিন্ডা অ্যালেকজান্ডার ও ছোট ভাই ববি অ্যালেকজান্ডারকে নিয়ে টিভি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে । টিভিতে তখন দেখাচ্ছে, "মার্কিন মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখছেন । "
না সাইন্স ফিকশন লিখবো না । অ্যালেকজান্ডার পরিবারকে টিভি সেটের সামনে বসিয়ে রেখে আমরা চলে যাবো অন্যদিকে । কেননা -

এখান থেকেই আমেরিকানদের ধাপ্পাবাজির গল্পটা শুরু ।
রাশিয়ার সঙ্গে স্মায়ূ যুদ্ধের চাপে আমেরিকা তখন কোন ঠাসা । ১ম ও ২য় বিশ্ব যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত পুঁজি তখন রাশিয়ার কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে । অন্যদিকে ভিয়েতনামের নাক বোচারা টুটি চেপে ধরেছে । জি হুজুর জি হুজুর করা ইউরোপিয় মিত্ররা তখন রাশিয়ার ভয়ে দূরে দাড়িয়ে তামাশা দেখছে । গোদের উপর বিষফোঁড়া মতো রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা তখন পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ দখলের পায়তারা করছে ।
একের পর এক ব্যর্থ মিশন চালাচ্ছে চাঁদে । যদি একবার সফল হয়ে যায় তাহলে আমেরিকাকে আর টিকতে হবে না । রাশিয়া হয়তো চাদে বোমা তুলে সেখান থেকে আমেরিকাকে লক্ষ্য করে বোমা ছুরবে । তাই যে করেই হোক রাশিয়ানদের আগে চাদের দখল নিতে হবে । কিন্তু আপাত অবস্থা যা তাতে চাঁদ তো দূরের কথা ভিয়েতনামের দখল রাখাই আমেরিকার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে । অন্যদিকে সদ্য প্রতিষ্ঠিত আমেরিকান মহাকাশ সংস্থা "নাসা" অর্থের অভাবে বন্ধ হতে বসেছে । " এমন পরিস্থিতিতে এমন কোন ঘটনা ঘটাতে হবে যাতে পুরো বিশ্ব হিরোশিমা, নাগাসাকিতে এ্যটোম বোমা ফেলার মতো চমকে উঠবে ।

তারই পরিপেক্ষিতে ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই আমেরিকার টিভিগুলোতে মঞ্চায়িত হল বিশ্বের তাবৎকালের সব চাইতে ব্যয় বহুল, গোপন সাইন্স ফিকশন মুভি; " "Apollo 11। " সেখানে দেখানো হলো ১০:৫৬ পিএম EDT (স্থানাংকিত আন্তর্জাতিক সময় বা ইউটিসি (UTC) সময় অনুযায়ী ১৯৬৯ সালের ২১ জুলাই ০২:৫৬) মার্কিন মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখার দুর্দান্ত অভিনয় করেন । এরপর পরোটাই ইতিহাস ।

এমন ফেক এক ভিডিও দিয়ে আমেরিকা আবার বিশ্ব জয় করে ফেললো । কিন্তু ইংরেজিতে একটি কথা প্রচলিত আছে, "Every action (force) in nature there is an equal and opposite reaction."

ক্যামেরা ও অভিনয় দক্ষতায় চন্দ্র জয়ের নাটক করে আমেরিকা সাময়িক উতরে গেলেও আমেরিকা ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের এই মিথ্যা নাটকের জন্য কথা শুনে যেতে হবে । আমেরিকার চন্দ্র জয়ের ভুয়া নাটকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছিলো ন্যাটো বা ইরোপিয় ইউনিয়ন । তাই তারা আমেরিকার চন্দ্র জয়ের প্রচার , প্রচারণার দায়িত্বটা নিজেদের কাধে তুলে নেয় ।

২য় বিশ্ব যুদ্ধের সময় , কিসিঞ্জার বলেছিলেন , দশটা মিথ্যা ছড়াও তার মধ্যে লোকে ৭টা বিশ্বাস করবে । একই পদ্ধতিতে মিথ্যা ছড়ানো হয়েছিলো হিটলারের বিরুদ্ধে । ঠিক তেমনি চাঁদে না গিয়েও চাঁদ জয়ের মিথ্যা ধাপ্পাবাজির কারণে আমেরিকা ৩য় বিশ্বযুদ্ধের হাত থেকে নিজেদের বাচিয়ে নেয় মোড়লগিরিও বাচিয়ে রাখে । কিন্তু ভিয়েতনাম থেকে লেজ গুটিয়ে পালায় ।

আমেরিকানদের এই মিথ্যার বিরুদ্ধে সর্ব প্রথম যিনি সোচ্চার হন , তার নাম হচ্ছে, বিল কেসিং । বিল কেসিং একের পর এক প্রশ্ন করে যখন নাসা ও আমেরিকার সরকারকে নাস্তানাবুদ করে ফেলেন । বিভিন্ন মিডিয়ায় ওপেন চ্যালেঞ্জ জানান । তখন আমেরিকা এই চ্যালেঞ্জ কে নতুন একটি নাম করন করেন , সেটা হচ্ছে "ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। "

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই পরে আমেরিকা নাকি আরও অনেকবার চাঁদে গিয়েছে, কিন্তু সেগুলোর সব কাগজে কলমে একটিরও ভিডিও প্রকাশ করার সাহস করেনি । কারণ আধুনিক প্রযুক্তিতে কোন ধাপ্পাবাজিই আর টিকবে না । যারা মঙ্গল গ্রহে ঘরবাড়ি তৈরি করার কথা ভাবছে , অথচ চাদে ভ্রমনের ভিডিও প্রকাশ করে না । এরপরও কিছু মানুষ এই ধাপ্পাবাজিকে বিশ্বাস করে এমন ভাবে কথা বলে, যেন তারা নিজেরাই ,চাঁদে গিয়ে বিড়ি সিগারেট খেয়ে এসেছে ।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০২৩ দুপুর ১২:০৩
৩০টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারা যেভাবে আমার ধর্মীয় স্বাধীনতা লুন্ঠিত করেছে।

লিখেছেন তানভির জুমার, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:৪৪

এদেশে এখন সুযোগ পেলেই ইসলাম ধর্ম আর মুসলমানদের খোঁচানো হয়। খোঁচানো ব্যক্তিদের অনেকে তথাকথিত প্রগতিশীল। পশ্চিম বঙ্গ আর হিন্দী সংস্কৃতিতে তাদের কোন সমস্যা নেই। সমস্যা শুধু ইসলামী বিষয়ে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

খুঁড়িয়ে হাঁটা সেই ছেলেটি

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১০:৪৯




বাবা-মা কখনো ছায়াদার বটবৃক্ষ, কখনো আঘাতের বিপরীতে ঢাল, নিকষ আঁধারে আলোর মশাল, বিষাদে স্বস্তির নিঃশ্বাস, বিপদে পরম আশ্রয়, আবার কখনো-বা শত্রুর বিপক্ষে মহাপ্রলয়। বাবা-মায়ের হাতে অদ্ভুত এক ক্ষমতা রয়েছে। কথাটিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঋণ/কিস্তির ফাঁদে আটকে যাচ্ছে গ্রামের অনেক মানুষ।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১০:৫৬




মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ছেলে-মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর সালমা বেগম (৩৫) নামের এক মা গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ঋনের চাপ সামলাতে না পেরে। এটা গেলো পত্রিকার খরব।... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মোকিং একেবারেই ছেড়ে দিতে পারা মানুষদের চিনেন?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:৩৬








আসক্তির মাঝে নিকোটিন( স্মোকিং) খুব স্লো প্রসেস;টানা ২০/২৫ বছর হাফ প্যাক করে কন্টিনিউ করললে খুবই ড্যান্জারাস রেজাল্ট শো করে। হেরোইন,কোকেইন, অ্যালকোহল,মেথের পরেই নিকোটিনের অবস্থান।পৃথিবীতে বিলিয়ন মানুষ স্মোকিং করে,প্রতিদিনই মিলিয়ন মারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার অর্থনীতি সুদের উপর নির্ভরশীল

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৩৫



আমেরিকার সরকার নিজের জনগণ থেকে ঋণ নেয়, মানুষকে সুদ দেয়; ইহাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবসা; এই মহুর্তে এই এই ঋণের পরিমাণ হচ্ছে, ৩২,০০০,০০০,০০০,০০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×