somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শাকিল আহমেদ২৪
আমাকে চিরকাল মনে রাখার মতো কোনো উপযুক্ত কারণ আমি কখনোই হতে পারিনি,তবে সমকালীন অসংখ্য কারণ আমি কমবেশি সকলেরই হয়েছি। আমাকে অনন্তকাল ধরে ভালোবেসে আগলে রাখার মতো একটি মানুষও আমি পাইনি! তবে স্বল্প আবেগে নিস্বপবিত হয়ে ভালোবাসি ভালোবাসি বলে যাওয়া মানুষের অভ

সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযান পর্ব (২)

১৭ ই অক্টোবর, ২০২৩ দুপুর ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




সাত. সপ্তম অভিযান পরিচালিত হয় ১০০৯ খ্রিস্টাব্দে নগরকোটের বিরুদ্ধে। নগরকোটের একটি মন্দিরে বিপুল ধন-রতœ ছিল। বিনা বাধায় নগরকোট অধিকৃত হয় এবং সুলতান মাহমুদ প্রভূত ধন-রতœ লাভ করেন।

আট. ১০১০ সালে অষ্টম অভিযান ছিল মুলতানের বিরুদ্ধে। মুলতানের শাসনকর্তা দাউদ বিদ্রোহ করেন। তাকে শায়েস্তা করতেই তাকে এ অভিযান চালাতে হয়। যুদ্ধে দাউদ পরাজিত ও বন্দি হন। তাকে গজনীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


নয়: ১০১৪ খ্রিস্টাব্দে সুলতান মাহমুদ আনন্দপালের পুত্র ত্রিলোচন পালের বিরুদ্ধে নবম অভিযান চালান। ত্রিলোচন পাল পালিয়ে কাশ্মীরে চলে যান। অতঃপর ত্রিলোচন পাল ও কাশ্মীরের রাজার সম্মিলিত বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে সুলতান মাহমুদ বিজয়ী হন। ত্রিলোচন পালের বাহিনীর সঙ্গে তার আরো যুদ্ধ হয়। এসব যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সুলতান মাহমুদ পাঞ্জাবকে তার রাজ্যভুক্ত করে নেন। এখানে বিশেষভাবে বলা দরকার, লাগাতার অভিযান ও বিজয় অর্জনের পরও সুলতান মাহমুদ ভারতের আর কোনো এলাকা তার রাজ্যভুক্ত করেননি।

দশ: ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে থানেশ্বরে দশম অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানে সুলতান মাহমুদ প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হলেও বিজয় তার অধরা থাকে না।


এগার: ১০১৫ সালে একাদশ অভিযানে কাশ্মীর জয়ের চেষ্টা করেন সুলতান মাহমুদ। অনুরূপ চেষ্টা ১০২১ সালেও চালান। কিন্তু চ‚ড়ান্ত নিষ্পত্তি ছাড়াই তিনি দু’বারই গজনীতে ফিরে যান।

বার: ১০১৮ খ্রিস্টাব্দে কনৌজের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। এটা তার দ্বাদশ অভিযান। কনৌজ রাজ্য অপ্রতিদ্ব›দ্বী হিসাবে খ্যাত ছিল। অভিযানের সময় পথে পথে সুলতান মাহমুদ বিভিন্ন দুর্গ অধিকার করেন। এ অভিযানের একটি বড় ঘটনা হলো, বারন বৃন্দেলশারের রাজা হরদত্ত সুলতান মাহমুদের অধীনতা স্বীকার করে ১০ হাজার সঙ্গীসহ ইসলাম গ্রহণ করেন। কনৌজ অভিযানের পর সুলতান মাহমুদ তৎকালীন সমৃদ্ধশালী নগরী ও হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র মথুরা ও এরপর বৃন্দাবন অধিকার করেন। এ দু’নগরী থেকে তিনি প্রচুর ধন-রতœ লাভ করেন। কনৌজরাজ রাজ্যপাল তার বশ্যতা স্বীকার করেন। এখান থেকে সুলতান মাহমুদ বিপুল অর্থ, দাসদাসী ও হাতি লাভ করেন বলে কথিত আছে।


তের : কনৌজের রাজ্য রাজ্যপাল সুলতান মাহমুদের বশত্য স্বীকার করায় কালিঞ্জরের রাজা গোল্ডার ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে আক্রমণ করেন। যুদ্ধে রাজ্যপাল নিহত হন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কালিঞ্জরের বিরুদ্ধে সুলতান মাহমুদ তার ত্রয়োদশ অভিযান চালান ১০১৯ খ্রিস্টাব্দে। টিকতে না পেরে গোন্ডার পালিয়ে যান।

চৌদ্দ: ১০২১-২২ খ্রিস্টাব্দে চতুদর্শ অভিযানে সুলতান মাহমুদ গোয়ালিয়র আক্রমণ করেন। গোয়ালিয়য়ের রাজা বশ্যতা স্বীকার করে কর প্রদানের শর্তে আত্মরক্ষা করেন।

পনের: ১০২৩ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চদশ অভিযানে সুলতান মাহমুদ ফের কালিঞ্জরের রাজাকে লক্ষ্যবস্তু করেন। রাজা গোল্ডার বশ্যতা স্বীকার করেন এবং কর প্রদানের প্রতিশ্রæতি দেন।

ষোল: ষোড়শ অভিযানে সুলতান মাহমুদ চালুক্যরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত কাথিয়াগড়ের পশ্চিম উপক‚লে অবস্থিত বিখ্যাত সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করেন। এটা সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় অভিযান। ইবনুল আসির, ইবনে খালদুন, ফিরিশতা, ডবিøউ হেইগ প্রমুখ ইতিহাসবিদের মতে, সোমনাথ বিজয় সাধ্যের বাইরে বলে মন্দিরের পুরোহিতগণ আস্ফালন করতেন। সাধারণ হিন্দুদের মধ্যেও এ বিশ্বাস দৃঢ় ছিল। এরই জবাব দিতে সুলতান মাহমুদ ১০২৬ খ্রিস্টাব্দে সোমনাথে অভিযান চালান। বিপুল সংখ্যক হিন্দু প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। জীবন দিয়ে মন্দির রক্ষা করার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত বিজয় মাল্য সুলতান মাহমুদের গলাতেই শোভা পায়। মন্দির থেকে প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা ও অলংকার তিনি হস্তগত করেন।

সতের: সুলতান মাহমুদ সোমনাথ থেকে গজনীতে ফিরে আসার সময় তার সৈন্যদের একাংশ জাঠদের উৎপীড়নের শিকার হয়। এর প্রতিশোধ নিতে তিনি ১০২৭ খ্রিস্টাব্দে তার সপ্তদশ অভিযান চালান জাঠদের বিরুদ্ধে। তাদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন এবং অনেককে মৃত্যুদÐে দÐিত করেন। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৩ দুপুর ১:৫৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

ইমেজ আপলোড ব্লক করে রেখেছে বিধায় এই ব্যবস্থায়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও একটি জটিল প্রশ্ন সামনে এসেছ- আইন কি তার স্বাভাবিক গতিতে চলছে, নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধের মাঝেই আম্মানে তিন রাত দুই দিন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২২

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এয়ারলাইন্স তাদের সময়সূচি পরিবর্তন করায় আমাদের জর্ডানের আম্মানে অনেকটা বিনা পরিকল্পনায় তিন রাত অবস্থান করতে হয়। আমরা যখন কুইন আলিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছাই, তখন প্রায় মধ্যরাত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৭)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৩




সূরাঃ ৭ আরাফ, ২ নং ও ৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২। তোমার প্রতি কিতাব নাজিল করা হয়েছে, যেন এর দ্বারা সাবধান করার বিষয়ে তোমার মনে কোন সংকোচ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারীর ক্ষমতায়নের নামে বাঙালিকে স্রেফ টুপি পরানো হয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৪৩


বাংলাদেশে চেয়ার একটি আধ্যাত্মিক বস্তু। শুধু বসার জন্য নয়, এটি পরিচয়ের প্রমাণ, অস্তিত্বের স্বীকৃতি, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন। গাড়ি থাকুক না থাকুক, বেতন আসুক না আসুক,... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×