তার সাথে সপ্তাহে পাঁচ দিন দেখা হতো,
সহাস্য সালাম দিয়ে কথা হতো,
দেশ-রাজনীতি-ধর্ম,
আরও কত কিছু নিয়ে ।
.
হতো কত রসিকতা,
সকালে চা-বিস্কুট খেতে খেতে,
কিংবা দুপুরে খাবার টেবিলে,
হাসি ভরা সকাল-দুপুর-বিকাল ।
.
বাসায় ফিরেও হতো তার কথা,
স্ত্রীর সাথে,
তার বুদ্ধিমান,দুষ্টু ছেলের কথা,
যে মায়ের পায়ের নীচে বেহেশতে আছে কী-না,
দেখতে চেয়েছিল;
ডাক্তার ভাবীর কথাও হয়-
যেন পরিবারেরই আপন কেউ ।
.
যোহরের নামায শেষে,
সবাই একত্র হওয়ার জন্য অপেক্ষা,
কখনো জুতা চুরি হওয়া,
পাশের এপেক্স থেকে সস্তা স্যান্ডেল কিনে,
চোরকে নিয়ে মজার কথা বলতে বলতে অফিসে ফেরা ।
.
পেশায় সে বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার,
সিমেন্ট নিয়ে তাঁর যত কারবার,
তবু ক্লান্তি নেই তাঁর,
যখন-তখন সহকর্মীদের প্রেশার মাপবার ।
.
হঠাৎ এক সকালে,
এক সহকর্মী প্রেশার মেপে,
চক্ষু তাঁর চড়ক গাছ;
গাড়িতে রোগীকে নিয়ে দে ছুট,
ভাবে,
ইউনাইটেড হাসপাতাল আর কত দূর?
.
মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসার আনন্দে,
সেই সহকর্মী,
এখনো স্মরণ করে তাঁকে,
আমিও ভুলতে পারি না কিছুতেই,
সদাহাস্যময় নিবেদিত প্রাণ তাঁকে ।
.
পিকনিক, টিম বিল্ডিং-
কোথায় নেই সে,
গত বারটি বছরে ।
.
অসংখ্য স্মৃতি,
স্মৃতিভরা পেয়ালার মতো,
আমি তাই পান করি,
আকণ্ঠ।
.
চলে গেলে,
সে যে আরো প্রিয় হয় জানতাম,
কত বেশী প্রিয় হয়,
জানা ছিল না ।
.
পৃথিবীটা গোল,
তাই কোথাও আবার হবে দেখা,
প্রায় নিশ্চিত ।
.
সে আমার সহকর্মী,
তার বেশী নয়,
বিদায় বেলায় বুঝলাম,
সে তার চেয়ে আরো বেশী কিছু,
সে যে হৃদয়ের কাছাকাছি,
একই মতের,
স্পষ্টভাষী এক বন্ধু ।
.
.
মো: শামছুল ইসলাম
২২ মার্চ ২০১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
