সে দিন কত তারিখ ছিল,
মনে নেই,
বছর সাতেকের এক বালকের,
স্মৃতির নিউরনে তবুও বেঁচে আছে,
সেই স্মৃতিটুকু;
কেন?
সেও জানে না ।
.
কখন, কে, তাকে ঘুম থেকে জাগিয়েছিল,
কিছুই মনে নেই,
শুধু মনে আছে,
একটানা ঠা-ঠা-ঠা শব্দ চারিদিকে,
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে খান খান ।
.
বাসার বাইরে দোতলার সিঁড়ি ঘরে,
আতঙ্কিত-উদ্ভ্রান্ত বাবা-আমরা,
দোতলার প্রতিবেশী অলিভ-অংশুরাও এসেছে,
সেদিন নিরাপদ ছিল না কোনো বাসা,
নিরাপদ ছিল না কোনো মায়ের কোল।
.
ক্ষণে ক্ষণে কিসের আলোয় রাতের আকাশ ছিল রক্তিম,
পরিবারের মঙ্গল চিন্তায় বাবা অস্থির,
অলিভের বাবাকে বলেন,
চলেন বাইরে বেরিয়ে পড়ি ।
স্থিত-ধী অলিভের বাবা বলেন,
বাইরে গোলাগুলি চলছে,
যে কোন সময় গায়ে লাগতে পারে,
চলুন আমরা নীচতলায় থাকি ।
.
সারারাত নীচতলায় বুদু মামার বাসায়,
মেঝেতে, খাটের তলায়,
প্রাণভয়ে ভীত কতগুলো মানুষ,
কলেমা পড়েছে কত শত বার;
কেউ সেদিন খাটে শোয়নি,
দু’চোখের পাতা এক হয়নি,
আতঙ্কে ।
.
ভোরে তিনতলার বাসায় ফিরি,
দখিনের সব জানালা বন্ধ,
চৌকির উপর দাঁড়িয়ে,
জানালার কাঁচ ভেদ করে দেখি,
সবুজ মাঠ পেরিয়ে দেওয়ালের ওপাশে,
সারি সারি টিনের ঘরের বস্তি,
ঘর গুলোর মাথা ছাড়িয়ে,
বাঁশের মাথায় উড়ছে পতাকা,
সগৌরবে ।
.
কিছু খাকি পোশাকের লোক,
অস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে কী যেন বলছে বস্তিবাসীদের,
বস্তির কিছু যুবক দেওয়াল টপকে ঢুকে পড়েছে কলোনীতে,
আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে,
ভয়ে কেউ দরজা খুলছে না ।
.
যুবকদের অপরাধ,
ওরা পতাকা উড়িয়েছে,
বড় বড় শিমুল, আম গাছ কেঁটে
মিরপুর রোডে ব্যারিকেড দিয়েছে,
বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়েছে ।
.
অস্ত্রের মুখে বস্তিবাসীরা পতাকা নামায়,
কিন্তু ওরা নামাতে পারেনি,
মুছে ফেলতে পারেনি,
সাড়ে সাত কোটি বাঙালির
হৃদয়ে অঙ্কিত লাল-সবুজ পতাকা ।
.
পত পত করে নয় মাস পর,
উড়েছিল সেই পতাকা,
তিরিশ লক্ষ শহীদ,
চার লাখ নির্যাতিত নারীর বিনিময়ে ।
.
আজও উড়ছে,
উড়ে যেন অনন্তকাল,
হৃদয়ে অঙ্কিত লাল-সবুজ পতাকা ।
.
.
# মো: শামছুল ইসলাম
২৬ মার্চ ২০১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
