somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শাওন আহমাদ
স্বপ্নপূরণই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়।তাই বলে স্বপ্নকে ত্যাগ করে নয়,তাকে সঙ্গে নিয়ে চলি।ভালো লাগে ভাবতে, আকাশ দেখে মেঘেদের সাথে গল্প পাততে, বৃষ্টি ছুঁয়ে হৃদয় ভেজাতে, কলমের খোঁচায় মনের অব্যক্ত কথাগুলোকে প্রকাশ করতে...

আমরা ভুল মানুষে নিজেকে হারাই

১৮ ই জুন, ২০২৩ বিকাল ৪:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমরা সেই মানুষ টাকেই পাগলের মতো ভেঙেচুরে ভালোবাসি, ভরসা করি, আঁকড়ে ধরি যার কাছে আমাদের মূল্য শূন্যের মানের চেয়েও ঢের কম। এই ভুল মানুষে মজে আমরা আমাদের পুরোটা জীবন বিষাদে বিষিয়ে তুলি, একাকিত্ব বেছে নেই, অন্ধকার খুঁজি, অনাহারে থাকি, নিজেকে কষ্ট দেই, আত্মহত্যা করি।

আমার ফ্রেন্ডের ব্রেকাপ হয়েছে অনেকদিন। সে এখনো ওর সেই হৃদয়হীন ভণ্ড মানুষ টাকে ভুলতে পারেনি। মাঝামধ্যেই ও আমার কাছে তার গল্প করে, মন খারপ করে। আমি ওর এসবে পাত্তা না দিয়ে ওকে বকাঝকা করি। যে মানুষ টা ওকে রেখে অন্য জায়গায় অন্য কাউকে নিয়ে সুখের সাগরে ভাসছে তাকে নিয়ে পড়ে থেকে ওর সমস্ত কিছু নষ্ট করার কোনো মানেই আমি দেখিনা; কিন্তু সে এসবেই পড়ে আছে, এসব থেকে বের হয়ে আসতে পারছেনা।

আজ হঠাৎ ও আমাকে নক করে বললো, ওর কিছুই ভালো লাগছেনা, অফিসের ডেক্সে বসে আছে, মনে হচ্ছে কিছু একটা করে ফেলবে। টেক্সট দেখে তড়িঘড়ি করে ওকে কল দিলাম। ও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে! কারণ সেই একটাই। সেই মানুষ, যে ওকে রেখে অন্য শরীরের গন্ধে মজে আছে।


আমি নিজেও ভীষণ ইমোশনাল মানুষ কিছু হলে সহ্য করার ক্ষমতা আমার থাকবেনা বলেই আমি কখনো এসবে জড়াইনি। জীবনে অনেক প্রপোজাল পেয়েছি, কেউ একজন বলেছিলো, আমি নাকি জীবনে এতোগুলো মুড়িও খাইনি যতোগুলো বার সে আমাকে লাভিউ বলেছে। মাস্টার্স পরীক্ষার পর তো এক বান্ধবী সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেছিলো আমি সেটাও গায়ে না মেখে অন্যভাবে স্কিপ করে গিয়েছি। ইভেন যে মানুষ গুলো আমার ক্রাশ ছিলো, তাদের কাছ থেকে ইশারা পেয়েও তাদের হারিয়ে যেতে দিয়েছি;কিন্তু আঁকড়ে ধরিনি। কারণ, মানুষ কে ভুলে যাওয়া গেলেও তার সাথে কাটানো সময় গুলোকে ভুলে যাওয়া যায় না বলেই হয়তো মানুষ গুলো সারাজীবন বিষাদে ভুগে। আমি এই বিষাদে ভুগতে চাইনি আসলে।

দিনশেষে আমাদের এটা মনে রাখা জরুরি, আমরা কেবল আমাদের জন্যই বাঁচিনা, আমরা তাদের জন্যেও বাঁচি যারা আমাদের বেঁচে থাকা দেখে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা পায়। সেই সব মানুষের কোনো জায়গা আমাদের মাঝে রাখা উচিত নয় যাদের কাছে আমরা মূল্যহীন।

তসলিমার এই কবিতাটি আমার ভীষণ পছন্দ, লেখার বিষয়ের সাথে যোগসূত্র আছে বলে শেয়ার করলামঃ

এই শহরেই তুমি বাস করবে, কাজে অকাজে দৌড়োবে এদিক ওদিক
কোথাও আড্ডা দেবে অবসরে, মদ খাবে, তুমুল হৈ চৈ করবে,
রাত ঘুমিয়ে যাবে, তুমি ঘুমোবে না।

ফাঁক পেলে কোনও কোনও সন্ধেয় এ বাড়ি ও বাড়ি
খেতে যাবে, খেলতে যাবে,
কে জানে হয়তো খুলতেই যাবে আলগোছে কারও শাড়ি
আমার আঙিনা পেরিয়েই কোনও বাড়িতেই হয়তো।

এ পাড়াতেই হয়তো দু’বেলা হাঁটাহাঁটি করবে,
হাতের নাগালেই থাকবে,
হয়তো কখনও জানিয়েও দেবে আমাকে, যে, কাছেই
আছো,
কুঁকড়ে যেতে থাকবো, কুচি কুচি করে নিজেকে কাটতে
থাকবো
দেখা না হওয়ার যণ্ত্রণায়, তবু বলবো না, এসো।

বলবো না,
তোমাকে সুযোগ দেব না বলার যে তোমার সময় নেই,
বা ভীষণ ব্যস্ত তুমি ইদানিং
তোমার অপ্রেম থেকে নিজেকে বাঁচাবো আমি।
তোমার সঙ্গে আমার দেখা হবে না।

বছর পেরোবে, তোমার সঙ্গে দেখা হবে না আমার,
দেখা না হতে না হতে ভুলতে থাকবো তোমার
সঙ্গে দেখা হওয়াটা ঠিক কেমন ছিল
কী রঙের সার্ট পরতে তুমি, হাসলে তোমাকে ঠিক
কেমন দেখাতো,
কথা বলার সময় নখ খুঁটতে, চোখের দিকে নাকি অন্য
কোথাও তাকাতে,
পা নাড়তে, ঘন ঘন চেয়ার ছেড়ে উঠতে, জল খেতে
কিনা, ভুলতে থাকবো।

দেখা না হতে না হতে ভুলতে থাকবো তুমি ঠিক
দেখতে কেমন ছিলে,
তিলগুলো মুখের ঠিক কোথায় কোথায় ছিল, অথবা
আদৌ ছিল কিনা।
তোমার চুমু খাওয়াগুলো ঠিক কেমন, জড়িয়ে পেঁচিয়ে
চুলে বা বুকে মুখ গোঁজাগুলো
ঠিক কেমন, ভুলতে থাকবো।

অনেকগুলো বছর পেরিয়ে যাবে, তোমার সঙ্গে আমার
আর দেখা হবে না।
এক শহরেই, অথচ দেখা হবে না।
পথ ভুলেও কেউ কারও পথের দিকে হাঁটবো না,
আমাদের অসুখ বিসুখ হবে, দেখা হবে না।
কোনও রাস্তার মোড়ে কিংবা পেট্রোল পাম্পে
কিংবা মাছের দোকানে, বইমেলায়, রেস্তোরাঁয়,
কোথাও দেখা হবে না।

আরও অনেকগুলো বছর পর, ভেবে রেখেছি, যেদিন হুড়মুড়
করে
এক ঝাঁক আলো নিয়ে সন্ধে ঢুকতে থাকবে আমার
নির্জন ঘরে,
যেদিন বারান্দায় দাঁড়ালে আমার আঁচল উড়িয়ে
নিতে থাকবে বুনো বৈশাখি
এক আকাশ চাঁদের সঙ্গে কথা বলবো যে রাতে
সারারাত
তোমাকে মনে মনে বলবোই সেদিন, কী এমন হয় দেখা
না হলে,
দেখা না হলে মনে হতো বুঝি বেঁচে থাকা যায় না,
কে বলেছে যায় না, দেখ, দিব্যি যায়!
তোমার সঙ্গে দেখা হয়নি কয়েক হাজার বছর, তাই
বলে কি আর বেঁচে ছিলাম না?
দিব্যি ছিলাম!

ভেবেছি বলবো,
তুমি তো আসলে একটা কিছুই-না ধরনের কিছু,
আমার আকাংখা দিয়ে এঁকেছিলাম তোমাকে,
আমার আকাংখা দিয়ে তোমাকে প্রেমিক
করেছিলাম,
আমার আকাংখা দিয়ে তোমাকে অপ্রেমিকও করেছি
তোমাকে না দেখে লক্ষ বছরও বেঁচে থাকতে পারি!
অপ্রেমিককে না ছুঁয়ে, অনন্তকাল।
এক ফোঁটা চোখের জল বর্ষার জলের মতো ঝরে ধুয়ে
দিতে পারে
এতকালের আঁকা সবগুলো ছবি, তোমার নাম ধাম
দ্রুত মুছে দিতে পারে চোখের জল।
তোমাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।
আমাকে একা বলে ভেবো না কখনো, তোমার অপ্রেম
আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকে।

ছবিঃ গুগল
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২৩ বিকাল ৪:৪১
১৪টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×