তোমরা কি দেখেছো সোনালী ক্ষেত, দু'হাতে কেটেছো ধান?
সুদক্ষ চাষীর পিছে হাঁটে গুবরে শালিকদল কতো সারি বেঁধে
লাঙলের সুচাগ্র ফলায় কীভাবে বেরিয়ে আসে মাটির বৈভব
শুনেছো কি বিরান প্রান্তরে ফসলের মাঠে বাতাসের কলরব?
হে আত্মজ, সুরম্য প্রাসাদে ঘেরা সব শহরের অধিবাসী
তোমরা কি শুনেছো বাঁশির সুর, রাখালিয়া-বাউল-উদাসী?
কাজল গাঁয়ের পথে হেঁটে যেতে শুনেছো কি বৈরাগ্য সঙ্গীত
দেখেছো কি যাত্রাপালা, সহস্র লোকের ভীড়ে কবির লড়াই
বেনো জলে নদীর ভাঙন, জীবনের খেলার চরাই-উৎরাই?
হে আত্মজ, আমাদের পাঠশালা আজ তোমাদের কিণ্ডার-গার্টেন
জারি-সারি-ভাটিয়ালী নাই ঘরে, বাজে আদুরে ইউ-কে টপ-টেন।
ডাল-ভাত-শাক-মাছ-পান্তা নাই, আছে থাই-চায়নিজ-ফাস্টফুড
গরুর গাড়ীরা হারিয়েছে আজ শহরের কংক্রিটে মার্সিডিজ বেঞ্চে
তোমরাই সভ্য আর মুক্ত-বিশ্ব-সাম্রাজ্যের ভাগীদার যতো অংশে।
তবুও রয়েছে বেঁচে দেখো স্বজনের ভালোবাসা অনন্ত অম্লান
জীবন সায়াহ্নে ঘুরে ফিরে এসে দিতে হবে তার প্রতিদান!
মাটির-কন্দরে সবুজে-শ্যামলে ফিরবে সহসা শেষে যদি
তোমার হৃদয়ে পুষেছো জটিল যতো ক'রে দাও তাকে লীন
পিতৃমহ দেখো ওই ডাকছে তোমাকে শোধ করো সব ঋণ!।
12.04.2006
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



