জাপান আশার পরে মুসলিম হিসেবে বাঁচতে আমাকে প্রধানত দুটি বস্তুর সাথে সর্বদা লড়াই করতে হচ্ছে। এগুলো হল প্রথমত- শূকর এবং অন্যটি অ্যালকোহল।
মুটামুটি সকল খাবারেই এই দুটি বা দুটির একটি আছেই। আরেকটি সমস্যা হল যেকোনো আয়োজনে অ্যালকোহল থাকবেই এবং কেউ না কেউ তোমাকে অফার করবেই। যখন বলি আমি মুসলমান তখন সে তার জীবনের কোন এক বন্ধুর তুলনা দিবে যে মুসলমান কিন্তু ওয়াইন খেত এবং ঐ মুসলিম তাঁকে বলেছে যে অল্প খাওয়া যাবে। এমন এক উদাহরনের পরে নিজে খুব বিব্রত বোধ করি এবং বলি সে যা বলেছে টা সঠিক নয়। সে ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান তো ভালো কথা সামান্য জ্ঞান ও নাই।
অ্যালকোহল শুধু ইসলামে নয় অন্যান্য সকল ধর্মেই নিষিদ্ধ। খৃস্টান ধর্মের ধর্ম গ্রন্থ বাইবেলের বুক অফ ইফেসিয়ান্স (৫ঃ১৮)বলা আছে “ওয়াইন (অ্যালকোহল) খেয়ে মাতাল হইও না”।
হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ মনুস্ম্রিতি এ (৫ঃ২২৫-২২৮) এ ও অ্যালকোহল কে নিষিদ্ধ বলা হয়েছে।
এখন আসি আমাদের ইসলাম ধর্মের কথাতে-
সূরা আল বাকারাহ এর ২১৯ নম্বর, সূরা মাঈদাহ এর ৯০ নম্বর আয়াত এ সরাসরি অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুনানে ইবন মাজাহ এর ৩ নম্বর খণ্ডের ৩০ তম অধ্যায় এর ৩৮৭২ এবং ৩৩৮১ দুইটি হাদিছে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে। অ্যালকোহল সকল পাপের মা এবং এটা সবচেয়ে নির্লজ্জ খারাপ কাজ (৩৮৭২)। যেকোনো বস্তু যা বেশী পরিমানে গ্রহনে তোমার মস্তিষ্ক বৈকল্য হয় তার খুব সামান্য একফোঁটাও তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, এক্ষেত্রে কোন ওজর আপত্তি খাটবে না (৩৩৮১)।
এবার আমাদের বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে আসি-
মানুষ যে গুনের জন্য অন্যান্য জন্তু জানোয়ার থেকে আলাদা টা হল তাঁর মস্তিস্কে একটা অংশ আছে যা তাঁকে খারাপ কাজ বা অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখে। ইংরেজিতে একে Inhibitory Center বলে। অ্যালকোহল মস্তিস্কের এই অংশ টুকুন এর কার্যকলাপ এ বাধা দান করে। যার ফলে এটা পাণের পরে আমাদের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না।
আমরা যদি পরিসংখ্যানে যাই তবে দেখব, ১৯৯০ সালের এফ বি আই এর অপরাধ সংক্রান্ত রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে ঐ বছর প্রতিদিন ১৭৫৬ জন মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন (অ্যামেরিকাতে) এর মধ্যে ৫০ ভাগের উপর কেস এর জন্য দায়ী ছিল অ্যালকোহল পান। আমাদের মধ্যে এখন নতুন এক ধারা এসেছে যে আমি সামাজিকতার মধ্যে থেকে পান করি অর্থাৎ এতটুকুন পান করি যেন আমার নার্ভ একটিভ থাকে। এটা আসলে পুরো বোতল বিষ না খেয়ে এক দানা পটাশিয়াম ছাওয়ানাইড খেলাম।
এই সকল সামাজিক পানকারীর জন্য ই আজ অমুসলিম গন আমাদের বলতে পারে অমুক তো মুসলমান ও কীভাবে অ্যালকোহল পান করে?
আমি সকল বিবেকবান মানুষ কে অনুরধ করব (আপনি হন খৃস্টান, হিন্দু অথবা মুসলমান)ধর্মে বিশ্বাস করুন এবং এর আদেশ নিষেধ মেনে চলুন। অ্যালকোহল খাওয়া হতে বিরত থাকুন।
আল্লাহ্ আমাদের অ্যালকোহল বর্জনের মত মানষীক শক্তি দান করুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




