somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আওয়ামী লীগ এদের সঙ্গেই চুক্তি করেছে

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাইখুল হাদীস মাওলানা আজিজুল হক। তিনি আমীর, খেলাফস মজলিসের। 1992 সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর যিনি বলেছিলেন, ইসলাম নামের বৃক্ষটির গোড়ায় পানি নয়, রক্ত ঢালতে হবে। তারপর দেশে একটি সামপ্রদায়িক দাঙ্গা শুরুর উপক্রম হয়েছিলো। 1969 সালে তিনি চাঁদে যাবার গল্প মিথ্য বলেছিলেন। শিখা চিরনত্দন নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতির মঞ্চে তারা জুতা মেরেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণের জন্য। নারী নেতৃত্ব হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছিলেন। জাহানারা ইমাম, তসলিমা নাসরিন, কবীর চৌধুরী, শাহরিয়ার কবিরদের ইসলামের শত্রু আখ্যা দিয়েছিলেন। প্রথম স্ত্রী মারা যাবার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। 13 সনত্দান পয়দা করেছেন। ইসলামী ঐক্যজোট নিয়ে নানা খেলা দেখানোর পর এখন তিনি খেলাফত মজলিসের খেলা দেখাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী প্রগতিশীলতার দাবিদার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই দলটির সঙ্গেই লিখিত চুক্তি করেছে। বিষয়টি নিয়ে অনেকের লেখাই পড়লাম। এর মধ্যে কানাডাপ্রবাসী সাংবাদিক সওগাত আলী সাগরের 'প্রতিক্রিয়াশীল ভাবনা' পড়লাম। তিনি বলেছেন, এই চুক্তির বিরুদ্ধে চিনত্দা আর কাজকে ব্যবহার না করে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে জেতাতে তা ব্যয় করা উচিত। তার যুক্তি, তাদের হাতে দেশের হয়তো অতোটা তি হবে না যতোটা বিএনপি-জামাতের হাতে হবে। সাগর সাহেবের লেখাটি পড়ার পর খেলাফত মজলিসের বিষয়ে জানতে গিয়ে 1997 সালের 5 সেপ্টেম্বর বিচিত্রায় প্রকাশিত শাইখুল হাদিসের একটি সাক্ষাৎকার পেলাম। সাাৎকারটি নিয়েছিলেন গোলাম মোর্তোজা। মনে হলো, এই সাক্ষাৎকারটি থেকে আওয়ামী লীগ যাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে, তাদের আসল চেহারাটা অনেক পরিষ্কার হয়ে যাবে। সেই চিনত্দা থেকেই প্রিয় ব্লগারদের জন্য তা তুলে দিলাম।

বিচিত্রা: আপনার নামের আগে এই শাইখুল হাদীস বিষয়টি কী?
শাইখুল হাদীস মাওলানা আজিজুল হক : হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞকে শাইখুল হাদীস বলা হয়।
বিচিত্রা: এই উপাধী কারা দেয়?
আ.হ. : এইডা কেউ কাউরে দেয় না। হেঃ হেঃ। এইডা এমনে এমনেই হইয়া যায়। তার স্টাডি, সুখ্যাতি আল্লাহর রহমতে আলেম ওলামাদের দোয়ায় জনগণের মধ্যে ছড়াইয়া পড়ে।
বিচিত্রা: তারপর কি নিজে নিজেই নামের আগে শায়খুল হাদীস টাইটেল লাগিয়ে নেয়া যায়?
আ.হ.: হ্যাঁ, লাগায়া নেয়া যায়। না... মানে... আলেম... উলামাদের দোয়ায় এইডা এমনে এমনেই হইয়া যায়।
বিচিত্রা : আপনার শায়খুল হাদীস কোন আলেম উলামাদের দোয়ায় হয়েছে?
আ.হ. : দেশের বিখ্যাত আলেম উলামাদের দোয়ায়।
বিচিত্রা : তাদের দু্থয়েকজনের নাম বলবেন?
আ. হ. : আছে অনেক। অনেক আছে। আমি তো হাদীস শাস্ত্রের ওপর প্রচুর কাজ করছি। অনুবাদ করছি। এইভাবেই হইয়া গেছে।
বিচিত্রা : আপনারা ইসলামী ঐক্যজোট গঠন করেছেন। আসলে আপনাদের উদ্দেশ্য কী?
আ.হ.: আমরা বর্তমান সরকারের ইসলাম বিরোধী কাজের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। আমরা সারাদেশের মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে বিুব্ধ করে তুলবো।
বিচিত্রা : মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের সম্মান জানানোর জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে 'শিখা চিরনত্দন'। আপনারা এর বিরোধিতা করছেন কেনো?
আ.হ.: এইগুলা ফালতু কথা। ঐহানে আগুন-পূজা করতাছে। এইডা মহাপাপ শিরিকি। মার যোগ্য না।
বিচিত্রা : ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে তো শিখা অনির্বাণ আছে। শিখা চিরনত্দনও তো একই জিনিস। শিখা অনির্বাণ জ্বলছে অনেক আগে থেকে। এটার বিরুদ্ধে আপনারা কিছু বলছেন না কেনো?
আ.হ.: ক্যান্টনমেন্টে তো অস্ত্র নিয়া মিলিটারি পাহারা দেয়। ঐখানে যাইতে হইলে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়া যাইতে হইবো। আমরা সেই প্রস্তুতি নিতাছি। এছাড়া এমনি এমনি গেলে কিছু করা যাবে না। যেমন রেলগাড়ি দেইখ্যা সামনে লাফ দিয়া পড়লে থামবো না। রেলগাড়ি থামাইতে হইলে সেইরকম একটা প্রস্তুতি নিয়া, দুচারটা হাতি নিয়া রেলের সামনে যাইতে হইবো। হাতির ওপর দিয়া তো আর গাড়ি যাইতে পারবো না। আমরা শক্তি সঞ্চয় করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতাছি। হিন্দুদের মুর্তিপূজা করাও যা শিখা চিরনত্দণের সামনে গিয়া সম্মান করাও তাই। কারণ পূজা শব্দের অর্থই সম্মান প্রদর্শন। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের শিখা ানির্বাণের কথা আমরা আগে জানতামও না। আর শিখা চিরনত্দন তো সারাদেশে ঘুরাইছে। এইডা তো আরো খারাপ হইছে। সারাদেশের মাইনষের পাপ হইছে।
বিচিত্রা : যুদ্ধের প্রস্তুতিটা কী?
আ.হ: সরকার যদি এই আগুন-পূজা বন্ধ না করে তাহলে দেশে গৃহযুদ্ধ বাইধা যাইবো। তখন আর কিছু করার থাকবে না। আমরা সেই প্রস্তুতি নিতাছি।
বিচিত্রা : আপনারা কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
আ.হ: আমরা ট্রেনিং নিতাছি।
বিচিত্রা: আগুন তো খুবই প্র েয়াজনীয় জিনিস। আপনার বাড়িতেও নিশ্চয় গ্যাসের চুলা জ্বলে...
আ.হ: হ্যাঁ, জ্বলে। তয় আগুনরে সম্মান করন যাইবো না। গ্যাসের আগুনরে তো আমি সম্মান করি না।
বিচিত্রা : এবার আমরা একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই। আপনি 71-এ কোথায় ছিলেন?
আ.হ: 71- এ তো ঢাকায়ই ছিলাম।
বিচিত্রা : তখন তো সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে। ঢাকায় আপনারা কী করতেন?
আ.হ: তেমন কিছু না। নিরপে ছিলাম।
বিচিত্রা : কিছুই করতেন না?
আ.হ: না। 71-এ আমগো অবস্থান ছিলো নিরপেভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিপ।ে আমরা কখনোই চাই নাই পাকিসত্দান ভাইঙ্গা বাংলাদেশ স্বাধীন হোক।
বিচিত্রা : মুক্তিযুদ্ধের বিপ েথাকার জন্য অনুশোচনা হয় না?
আ.হ: না। আমরা তো ইসলামের প েছিলাম। আমরা তখনো যা করেছি সেটাকে ঠিক মনে করে করেছি। এখনো যা করছি এটাই ঠিক।
বিচিত্রা: রাজাকার, আলবদর, আলশামসের সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো না?
আ.হ: না না এইগুলা জামাতিগো কাম।
বিচিত্রা: মুক্তিযুদ্ধের বিপ শক্তি 71- এ পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিলো...
আ.হ: যাদের খুন করা হইছে, তারা খুবই বড় মানুষ ছিলো। ভালেঅ মানুষ ছিলো। এগো তো মারছে মুক্তিযোদ্ধারা। রাজাকাররাও হয়তো কিছু মারছে। এইডা খারাপ কাম হইছে।
বিচিত্রা: মিটিংয়ে কি টাকা দিয়া লোক আনেন?
আ.হ: ...না... তা ঠিক না। আমরা কি মতায় আছি যে আমগো অতো টাকা থাকবো। সদস্যদের টাকায়ই পার্টি চলে।
বিচিত্রা: মানিক মিয়ার জনসভায় আপনারা বলেছেন ইসলামী ঐক্যজোটই বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল। সরকার বাধা না দিলে এক কোটি লোক জড়ো হতে পারতো। তাহলে আপনাদের পার্টির সদস্য সংখ্যা কতো?
আ.হ: কমছে কম এক কোটি তো হইবোই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোক আনার জন্য আমরা টাকা দিছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ বাধা দিছে। ফলে তারা টাকা নিয়াও আসতে পারে নাই।
বিচিত্রা: এক কোটি সদস্য হলে তাদের পরিবারের সদস্য নিয়ে আপনাদের ভোটারের সংখ্যা তো কমপ েদু'আড়াই কোটি হওয়ার কথা।
আ.হ: হ্যাঁ, তা তো হবেই। অবশ্য একটু কমও হতে পারে।
বিচিত্রা: তাহলে গত নির্বাচনে সিট মাত্র একটা পেলেন কেন? নিজেদের সদস্যরাও কি আপনাদের ভোট দেয়নি?
আ.হ: হেঃ হেঃ। বুঝেন না, নির্বাচনে সন্ত্রাস হয়। ডাকাতি হয়। আমাদের সদস্যদের দিয়া জোর কইরা ওরা (আওয়ামী লীগ, বিএনপি) ভোট দেওয়াইয়া নেয়।
বিচিত্রা। বিএনপি মতায় থাকার সময় তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। আবার এখন বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। আসলে আন্দোলনটা কাদের বিরুদ্ধে?
আ.হ: যখন যে দল মতায় থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করি। তাই আগে বিএনপির বিরুদ্ধে করছি। এখন করতাছি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। আমাদের আন্দোলন বিএনপি সাপোর্ট করতাছে।
বিচিত্রা: নারী নেতৃত্ব বিষয়ে আপনাদের মতামত কী?
আ.হ: আমাদের 'মসলা' নারী নেতৃত্বের পুরোপুরি বিপ।ে রসুল (সাঃ) বলেছেন, যে দেশে নারী নেতৃত্ব থাকবে সে দেশের উন্নতি হবে না। জাতি উন্নতি করতে পারবে না, তাদের কল্যাণ নারীর কাছে অর্পণ করবে। নারী নেতৃত্ব অবৈধ।
বিচিত্রা: বিএনপির নেতৃত্বে রয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি একজন মহিলা। তাহলে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করছেন কেন?
আ.হ: জি না। মানে বিএনপিরে সাথে নিয়া আন্দোলন করতাছি না তো। নারী নেতৃত্ব অবৈধ। বিএনপি আমাদের আন্দোলনে সাপোর্ট করছে।
বিচিত্রা: আপনি আগের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করছি।
আ.হ: এরকম কিছু বলি নাই। হেঃ হেঃ হেঃ। দেশে নারী নেতৃত্ব থাকলে দেশের উন্নতি অইব না। দেশ রসাতলে যাইবো। তাড়াতাড়ি নারী নেতৃত্ব সরান।
বিচিত্রা: কবে নাগাদা মতায় যাবার আশা করছেন?
আ.হ: এইডা কি বলা যায় নাকি? আল্লাহ যহন চাইবো। আল্লাহ চাইলে যাইতে পারি তাড়াতাড়ি।
বিচিত্রা: তাহলে আগামী নির্বাচনে মতায় যাচ্ছেন?
আ.হ: এইডা কয়ন যাইত না কয়ন যাইত না...
বিচিত্রা: মতায় যেতে হলে তো আনত্দর্জাতিক লবি শক্তিশালী হতে হয়। বাইরের কোন দেশ আপনাদের প েআছে?
আ.হ: পাকিসত্দান। আরব। আরবের মুসলিম দেশগুলো একটু দূরে এইডা একটা অসুবিধা।
বিচিত্রা: আফগান তালেবানদের সঙ্গে তো আপনাদের যোগাযোগ রয়েছে।
আ.হ: আফগান তালেবানদের সাপোর্ট করি। তারা ইসলামের জন্য যুদ্ধ করছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি, তাদের স্বীকৃতি দেয়ার জন্য। পাকিসত্দান আফগানদের স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরাও তাদের সবরকম সাহায্য সহযোগিতা দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।
বিচিত্রা: শোনা যায়, তালেবানদের সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ থেকে আপনারা কিছু যোদ্ধা পাঠিয়েছেন।
আ.হ: না। পাঠাই নাই। তালেবানরা এখনো সেরকম সাহায্য চায় নাই। চাইলে তো দুই একজন না লাখ লাখ যোদ্ধা পাঠামু। যেমন বসনিয়ার মুসলমানরা যখন সাহায্য চাইছিলো তখন আমরা একলাখ মুজাহিদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছিলাম। পরে আর দরকার হয় নাই দেইখা পাঠাই নাই।
বিচিত্রা: আপনাদের ট্রেংিয়ের ব্যবস্থা আছে কোথায়?
আ.হ: আছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
বিচিত্রা: কাশ্মীরে তো আপনারা কিছু মুজাহিদ পাঠিয়েছেন?
আ.হ: কাশ্মীরে অনেক বাংলাদেশী মুজাহিদ আছে। আমরা পাঠাই নাই।
বিচিত্রা: ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যেও বিরোধ। জামাতের সঙ্গে আপনাদের এতো বিরোধ কেন?
আ.হ: না, বিরোধ আর কই? তয় জামাতিরা দাড়ি রাখে ছোট ছোট। হেঃ হেঃ হেঃ। নিয়ম হইলো দাড়ি বড় রাখতে হইবো। তাছাড়া জামাতিরা একটু উগ্র। শুনছি ওরা নাকি মানুষের রগ কাইটা দেয়। তাগো রক্ত গরম। এইগুলা ইসলাম সাপোর্ট করে না।
বিচিত্রা: তাবলীগ জামাতিদের সঙ্গেও তো আপনাদের বিরোধ আছে?
আ.হ: তাবলীগ জামাতিরা হইলো এক্কেবারে নির্জীব। রক্ত ঠাণ্ডা। ইসলাম রার জন্য কিছু করে না। তাই আমরা পছন্দ করি না।
বিচিত্রা: আপনারা মানিক মিয়ার জনসভায় বলেছেন, 14 মাসে সরকার দেশের অর্ধেক ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। কীভাবে বিক্রি করলো, একটু বুঝিয়ে বলবেন?
আ.হ: বুঝেন না, লোক দেখানো পানিচুক্তি করছে। হেঃ হেঃ হেঃ। ভারতরে ট্রানজিট দিতে চায়। বিদু্যৎ আমদানি করতে চায়। সরকার খালি ভারত ভারত করে। একটু দূরে হইলেও পাকিসত্দান থেকেও তো বিদু্যৎ আনা যায়।
বিচিত্রা: পাকিসত্দান একটু বেশি দূরে হয়ে যায় না?
আ.হ: দরে... হঁ্যা তা একটু বেশি হয়। চেষ্টা করলে আনুন চায়।
বিচিত্রা: ইসলাম বিরোধীদের তালিকা তালিকা তৈরি করে কী করবেন?
আ.হ: রসুল (সাঃ)- এর বদনাম করছে আলী আজগর। এই রকম আরো যারা আছে ইসলাম বিরোধী, যেমন কবীর চৌধুরী, শামসুর রাহমান, শাহরিয়ার কবির এই গুলার বিচার কইরা শাসত্দি দিতে হইবো।
বিচিত্রা: কী শাসত্দি দেবেন?
আ.হ: বিচারে যে শাসত্দি হয়। দেশের মানুষ বিচার করব।
বিচিত্রা: ড. আলী আজগর তো বলেছেন, তিনি রসুল (সাঃ) কে অপমান করে কোন কথা বলেননি।
আ.হ: সে এখন কইলেই তো আর হইলো না। সে কইছে। আমগো লোকজন শুনছে। এইডার কোনো মাপ নাই। তারে শাসত্দি পাইতে অইবো।
বিচিত্রা: মহামান্য রাষ্ট্রপতির মঞ্চে জুতা নিেেপর অভিযোগ আছে আপনাদের তলের বিরুদ্ধে।
আ.হ: সেইদিন রাষ্ট্রপতিরে মঞ্চে বসাইয়া রাইখা সচিব আগে বর্ক্তৃতা করতে উঠছে। শেখ মুজিব, জাতির পিতা... এইগুলা কওয়া শুরু করছে। রাষ্ট্রপতিরে আগে বর্ক্তৃতা দিতে না দেয়ায় এবং এইগুলান কওয়ায় লোকজন উত্তেজিত হয়ে মঞ্চে জুতা মরছে। আর অহন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ষড়যন্ত্র করতাছে খতিবের বিরুদ্ধে।
বিচিত্রা: নিয়মানুযায়ী তো সচিবেরই আগে বর্ক্তৃতা দেয়ার কথা...
আ.হ: না না। আগে রাষ্ট্রপতি বর্ক্তৃতা দিব। তারপর অন্যরা।
বিচিত্রা: আপনি একবার বলেছিলেন, মানুষের চাঁদে যাওয়ার কথা মিথ্যা। অন্য কোনো দেশ থেকে ঘুরে এসে বলছে, চাঁদে গিয়েছিলাম। মানুষ যে চাঁদে গেছে এটা কি আপনার এখনো বিশ্বাস হয় না?
আ.হ: হ্যাঁ, চাঁদে মনে হয় যাওয়া যায়।
বিচিত্রা: এখন তো মানুষ মঙ্গল গ্রহেও যাওয়ার চিনত্দা করছে। এ বিষয়ে আপনার মনত্দব্য কী?
আ.হ: আরে চাঁদে যাওয়া, মঙ্গল গ্রহে যাওয়াএইগুলা বড় কোনো কাম হইলো নাকি? এইডা তো একটা পিকনিক। হেঃ হেঃ হেঃ। আপনারা যেমন দল বাইধা পিকনিকে যান। এইডাও ঐরকমই। তাছাড়া ঐহানে গিয়া অইবোই বা কী? শুধু শুধু টাকা পয়সা নষ্ট। মঙ্গল গ্রহে, চাঁদে যে কেউই যাইতে পারে। ইচ্ছা করলে আমরাও যাইতে পারি। এইডা কোনো ব্যাপার না।
বিচিত্রা:পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে আপনার মতামত কী?
আ.হ: ইসলামে পরিবার পরিকল্পনা এক্কেবারে হারাম। নাজায়েজ। আমরা পরিবার পরিকল্পনার পুরোপুরি বিপ।ে এর জন্য এক টাকা খরচ করে প্রচারের কোনো দরকার নাই। এই নাফরমানি প্রচারণা বন্ধ করতে হইবো।
বিচিত্রা: অপরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা বেড়ে গেলে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দেবে না?
আ.হ: না। আহার আল্লাই যোগাইবো। আল্লাহর দোয়ায় আগের চেয়ে এখন খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে। যত বেশি পোলাপান হোক না কেন এইডা খারাপ না। জন্মনিয়ন্ত্রণ মহাপাপ।
বিচিত্রা: বাংলাদেশ তো নেপালকে ট্রানজিট দিলো। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?
আ.হ: নেপালকে ট্রানজিট পাকিসত্দান আমলেই দেয়ার কথা ছিলো। পাকিসত্দানই দিতে চাইছিলো। তাই এইডাতে কোনো সমস্যা নাই। এখানে ভারতের কোনো মাতুব্বরি ছিলো না। কিন্তু এখন ভারত এইখানেও মাতুব্বরি করতাছে। তাই আমরা এইডারও বিরুদ্ধে। ভারতের মাতুব্বরি ছাড়া ভুটান, শ্রীলঙ্কা এইগুলারেও ট্রানজিট দেয়া যায়।
বিচিত্রা : শুধু ভারত ছাড়া...
আ.হ: অন্য দেশগুলোরে দিলে আমগো সার্বভৌমত্ব নষ্ট অইবো না। কিন্তু ভারতরে দিলে অইবো। ভারত আমগো বুকের ওপর দিয়া আসা যাওয়া করবো। এইডা আমরা মেনে নিতে পারি না।
বিচিত্রা: দেশের শিা পদ্ধতি কী হওয়া উচিত?
আ.হ: এই সরকার কুদরত-ই-খুদা শিা পদ্ধতি চালু করতে চায়। তাই আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করতাছি। দেশের 95% মাুয়াজ্জিন ঠিকমত আজান দিতে পারে না। ইমামরা নামাজ পড়াইতে পারে না। তাই ব্যাপকহারে ধর্মশিার প্রসার লইতে হইবো। সাধারণ শিা বাতিল কইরা ধর্ম শিা চালু করতে হইবো। আলেম-উলামাদের সংখ্যা বাড়াইতে হইবো। #
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার একশততম পোস্ট!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



আমার একশততম পোস্ট!

আজ আমার লেখকজীবনের এক ছোট্ট কিন্তু হৃদয়ের গভীরে দাগ কাটা দিন- সামহোয়্যারইন ব্লগ এ আমার একশততম পোস্ট। সংখ্যার হিসেবে হয়তো ১০০ খুব বড় কিছু নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুল শুধু ভুল, আমি কি করছি ভুল?

লিখেছেন রবিন.হুড, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১

আমি টাকার পিছনে না ছোটার কারনে আমার হাতে যথেষ্ট সময় থাকায় সে সময়টুকু সামাজিক কাজে ব্যয় করার চেষ্টা করছি। আবার বিলাসিতা পরিহার করার কারনে অল্প কিছু টাকা সাশ্রয় করছি যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংসদের বায়না : ৩০ সেট গয়না

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১৪

একসময় এই প্রবাদটি খুব প্রচলিত ছিল, এমনকি পণ্ডিত মহলেও এটি নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা হতো।
সময় বদলে গেছে; যমুনা নদী দিয়ে বহু জল বয়ে গিয়ে সাগরে মিশেছে।



বাস্তবতার নিরিখে আমাদের সমাজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল ট্যাঙ্ক স্বপ্ন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬



শহরের সকালগুলো এখন আর আগের মতো নয়। সূর্য ওঠার আগেই পেট্রোল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সেই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে রিদম—একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর জীবনের বাস্তবতায় আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশি দৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও ভারতের হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৬


কাল থেকে দুই ধাপে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা ও মতাদর্শ দ্বারা যেমন প্রভাবিত, তেমনি এর প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়। হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী শক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×