নাহ মিতুর সাথে সম্পর্কটা শেষ পর্যন্ত বোধহয় আর টিকল না! বোধহয় বললাম একারণে কেননা আনুষ্ঠানিকভাবে মিতুর সাথে আমার বিচ্ছেদ এখনও হয়নি। তবে এবার মনে হয়,না হয়ে আর উপায় নেই! গত দেড় মাসে এই নিয়ে তিনবার সে রাগ করে বাপের বাড়ি চলে গেছে। অনেক হয়েছে আর না!
সম্পর্ক ইতিমধ্যেই যথেষ্ট তিতা হয়ে গেছে, তিক্ততা আর না বাড়ানোই ভালো। এমনিতেই আমার ব্যবসা খুব খারাপ যাচ্ছে, তার উপর শেয়ার বাজারে খেয়েছি বিশাল ধরা। কোথায় স্বামীর এই দুঃসময়ে সাহস দিবে তা না করে দিনরাত শুধু ঝগড়াঝাঁটি! গত পরশুতো বিয়ের এত বছর হয়ে গেল এখনও কাবিনের টাকা শোধ করিনি তাই নিয়ে খোটা দিল! আমিও বসে থাকিনি এই তিনদিনে কাবিনের বাকি পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করেছি। শুধু তাই নয় ডিভোর্সের কাগজপত্রও রেডি করেছি। কলেজ লাইফে একবার দুজনে রম্য বিতর্ক করেছিলাম- অভাব যখন দরজা দিয়ে আসে, ভালবাসা তখন জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। আমি পক্ষে আর ও বিপক্ষে- সেদিনের সেই বিতর্কে আমি জিতলেও কখনও ভাবিনি একদিন প্রবাদটি আমার জীবনেই সত্য হয়ে যাবে। ডিভোর্সের কাগজপত্র আলমারির ড্রয়ার থেকে তাড়াহুড়ো করে বের করতে গিয়ে ড্রয়ারটি পায়ের উপর পড়ে গেল- ভালোই ব্যথা পেলাম! নাহ ব্যথা শুধু পায়েই পেলামনা, কিছুটা মনেও পেলাম! কেননা ড্রয়ার থেকে হানিমুনে যাবার প্লেনের টিকেট থেকে শুরু করে বাসের টিকেট, সিনেমার টিকেটসহ সবরকমের টিকেট আর পুরনো চিঠিও মেঝেতে পড়ে গিয়েছিল!
.
.
.
প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে প্রায় ভাঙা পা নিয়ে মিতুদের বাসার দিকে প্রায় দৌড়াচ্ছি। আজকেই একটা ফয়সালা করতে হবে- গত শনিবার অফিস থেকে ফেরার পর মিতুকে যে দশ টাকার লটারির টিকেট কিনে দিয়েছিলাম তার প্রথম পুরস্কার হিসেবে আমরা ত্রিশ লক্ষ টাকা নিব নাকি ছোট্ট একটি ফ্ল্যাট নিব!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



