somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাঁচটা ফুল সেই সাথে প্রিয় পাঁচটা বাংলা গান (একটা ফ্রী)

১৪ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


"আর কিইবা দিতে পারি
ফুটপাত ঘেঁষা বেলুন গাড়ি
সুতো বাঁধা যত লাল আর সাদা
ওরাই আমার থতমত এই শহরে
রডোডেনড্রন।"

মহীনের ঘোড়াগুলির একটা মাস্টারপিস 'তোমায় দিলাম'। বৃষ্টির সম্ভবনায় আনচান করা মন,উঁচু উঁচু দালান, ফ্ল্যাট বাড়ি, পিচগলা রাস্তা, বাসট্রামের ভীড়ের ব্যাস্ত শহরে হুট করে কাউকে ঘাসফুল দেয়া যায়না। মাখানো যায়না ধানের গন্ধের আবেশ । তবুও ফুটপাতের ধারে
উড়তে থাকা রং-বেরংয়ের বেলুন গুলোকে রডোডেনড্রন মনে হয়। থতমত এই শহরে আশার মত দুলতে থাকে যেন।

ইউটিউব লিঙ্ক


"তুমি তো দিয়েছিলে মোরে কৃষ্ণচূড়া ফুল
আমি তো বসে ছিলাম নিয়ে সেই গানের সুর
তুমি তো দিয়েছিলে মোরে কৃষ্ণচূড়া ফুল
চলে গেছো কোথায় আমায় ফেলে বহু দূর।"

অর্থহীন ব্যান্ডের মাস্টারপিস 'এফিটাফ' । রিলিজ পেয়েছিল 'স্বপ্নচূড়া ১' অ্যালবামে। রিলিজ পাওয়ার পর থেকেই গানটা যেন বৃষ্টি আর কৃষ্ণচূড়ায় মিশে আছে। বহুদিন পর যুদ্ধ ফেরত এক প্রেমিকের কৃষ্ণচূড়া ফুল হাতে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ঘরে ফেরার গান। কিন্তু সব ফেরাই কি সুখকর হয়?
[link|ইউটিউব লিঙ্ক


" তোমার জন্য নীলচে তারার একটুখানি আলো
ভোরের রঙ রাতের মিশকালো
কাঠগোলাপের সাদার মায়া মিশিয়ে দিয়ে ভাবি
আবছা নীল তোমার লাগে ভালো।"

কয়েক বছর আগের কথা। শাহবাগ মোড় ফুলের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আমার হাতে স্কেচ বুকে নতুন টিশার্টের ডিজাইন। ফুলের দোকানে বেশ জটলা। বিয়ের ঘর সাজানোর জন্য আমাকেও ফুল নিতে হবে। এই সময় একদল তরুণী এলো কাঠগোলাপের খোঁজে। দোকানীর কাছ থেকে জানা গেল, এই ফুল নাই। সচারচর পাওয়া যায় না।কিন্তু ইদানীং খুব খুঁজছে।
'হোক কলরব' অ্যালবামের 'তোমার জন্য' গানটা রিলিজের পর থেকে কাঠগোলাপের উপর অন্যরকম ভালোবাসা জন্মে ছিল কিশোর -কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে।
কাঠগোলাপের সাদার মায়া মিশিয়ে দিয়েছিল শাহানা বাজপেয়ী নামের এক মানবী আর গেয়েছিল অর্নব। আমার স্কেচ খাতায় কাঠগোলাপ আর গানের লিরিক বসিয়ে ডিজাইন একেছিলাম দোকানে বসে। পরবর্তীতে ৫০টা টিশার্ট বিক্রি করেছিলাম।


"এই অবেলায় ফোঁটা কাশফুল, নিয়তির মত নির্ভুল
যেন আহত কোন যোদ্ধার বুকে বেঁচে থাকা এক মেঘফুল.... "

প্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীনের 'আবার হাসিমুখ'। মাস্টারপিস বললে কি ভুল হবে? গানটার ভিডিও নির্মিত হয়েছিল একটা সুইসাইড নোটের উপর ভিত্তি করে। হেরে যাওয়া মানুষ গুলোর জন্য অবেলায় ফুটে ওঠা কাশফুল যেন ঠিক আশার আলো হয়ে হাতছানি দেয়। বাঁচতে বলে। মানুষের ছুটে চলা কারোর হাসিমুখের জন্য। হতে পারে- মা, বাবা, প্রিয়জন কিংবা দেশ। আবার হাসিমুখ অনুপ্রেরণার গান, জীবনের গান, জীবনকে ভালোবাসার গান। বেঁচে থাকার গান।





"ছেলেটার আছে বুক পকেটে চিঠি
প্রথম প্রেমের বানান ভুল
মেয়েটার আছে যত্ন করে রাখা
খাতার ভেতর চ্যাপ্টা গোলাপ ফুল ।"

ভীষণ প্রিয় অঞ্জন দত্তের ছেলেমানুষী সময়ের ভালোবাসার গান। স্কুল সময়ের প্রেমের গান। প্রথম দেখার অনুভূতি, প্রথম প্রেমে পড়ার অনুভূতি , মিষ্টি অনুভূতি। যে সময় দাম্পত্যের কঠিন মানে নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না শুধু দেখা না পেলে চোখ আচমকা ভিজে ওঠে, ঠোঁট কেঁপে ওঠে। তাড়াহুরা করে ভুল বানানে লেখা চিঠি সযন্তে থাকে বুক পকেটে আর খাতার ভেতর তরতাজা গোলাপটা শুকিয়ে যায় ঠিকই কিন্তু ভীষণ ভালোবাসা জমা করে রাখে। আপনি রেখেছিলেন কি?


ফ্রী দিচ্ছি না। দিতে চেয়েছিলাম। পরে মনে হলো ফ্রী গুলো আপনাদের থেকে নিবো। চাইলে বাদলে দিনের প্রথম কদম ফুল দিতে পারেন অথবা ব্লু জিন্সের কদম ফুল দিতে পারেন । সমস্যা নেই এই বাংলায় ফুল আর গানের অভাব নেই।

এই পোষ্টটি সকল ব্লগারকে উৎসর্গ করা হলো। অস্থির পরিবেশ যদি তৈরি হয়েও থাকে সেটা কাঠগোলাপের সাদার মায়ায় মিশে যাক।
ধন্যবাদ সহব্লগার, ধন্যবাদ প্রিয় সামু।

ছবিঃ সামুর ব্লগার মরুভূমির জলদস্যূ থাকতে আমাকে খুব কষ্ট করতে হয় না। ছবিগুলো তার বিনা অনুমতিতে নেয়া।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ৮:৫০
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×