somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সামাজিক প্রেক্ষাপটে #me_too (শেষ পর্ব)

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ পর্যন্ত শুধুমাত্র শারীরিক যৌন হয়রানীর কথা গুলো আমরা শুনেছি, তবে অফিস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে, নারীরা প্রতিনিয়ত যেই মানুষিক যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছেন, সেটাও কিন্তু সহনীয় নয়। দেহের আকৃতি, চলা ফেরা, পোশাক নিয়ে, এমনকি প্রোমোশন নিয়ে যেই কটূক্তি গুলো নারীরা শুনে থাকেন, সেই কথা গুলোর জন্য #me_too হতে পারে একটি প্ল্যাটফর্ম। সমাজে এমনও কিছু মানুষ দেখেছি, যারা নারীর যেকোনো অর্জনের পেছনে, তার যোগ্যতার স্বীকৃতি না দিয়ে, আকার-আকৃতি এবং রূপ সৌন্দর্যকেই প্রধান কারণ মনে করেন, যেটা এক প্রকারের এবিউস।

#me_too এর ক্ষেত্রে পুরুষেরা অনেক সরব না হলেও, নীরবও কিন্তু নন। এবং অবশ্যই এই ক্ষেত্রে পুরুষের অনেক বড় একটি ভূমিকা আছে। পুরুষদের মাঝে যদি সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, তবে হয়তো একটা সময় #me_too আর প্রয়োজনই হবে না। আপনার পাঁশে থাকা নারীটির জীবনে যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, অন্তত তার হাতের উপর হাত রাখার সাহস অর্জন করুণ। পুরুষত্ব শুধু বিশেষ কোন অঙ্গে নয়, আপনার মানোসিকতা, মনুষ্যত্ব এবং দৃঢ় মনোবলও আপনার পুরুষত্বের পরিচেয়।
‘এমন জামা কাপড় পইরা হাটলে এমন তো হবেই’ আপনি যদি এই গোত্রের হওয়ে থাকেন, তবে একটু চিন্তা করে দেখুন, আপনার সামনে কেউ যদি বিষ খায়, আপনিও কি বিষ খাবেন? আমি যদি ধর্মীয় অনুশাসনের কথা বলি, পর্দার বিধান কিন্তু মানুষের উপর আরোপ করা হয়েছে, মানুষ বলতে নারী-পুরুষ উভয়ই। নারীর জন্য শারীরিক পর্দা এবং পুরুষের জন্য চোখের পর্দার বিধান দেওয়া হয়েছে, তাই বেপর্দা নারীর কি কি শাস্তি হবে সেটা জানার পাশাপাশি, চোখের পর্দা না করলে কি কি শাস্তি হবে সেটাও একটু জেনে নিবেন।
ইউসুফ (আঃ)-এর গল্পটি আমরা মোটামটি সবাই জানি, তৎকালীন আজিজে মিসরের সুন্দরী স্ত্রী বানু জুলেখা যখন ইউসুফ (আঃ)-কে আহ্বান করেছিলেন, তিনি তার সর্ব শক্তি দিয়ে, নিজের সম্মান বাঁচানোর স্বার্থে পালানর চেষ্টা করেছিলেন। এবং এই ঘটনা চক্রে, ইউসুফ (আঃ)-কে কারাগারে অসহনীয় শাস্তিও পোহাতে হয়েছিল। তাই, ‘নষ্টা’, ‘এঁটো’, ‘পিওর না’, ‘ইউজড’, ‘অসতী’, এই ভাষা গুলো কিন্তু শুধু নারীর জন্যই প্রযোজ্য নয়, পুরুষের জন্যও বৈকি। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই ধরণের ভাষা কোন মানুষের জন্যই প্রযোজ্য নয়।

এবার আসি একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে। একবার এক ছেলে বাচ্চাকে অর্ধ উলঙ্গ (গেঞ্জি আছে, প্যান্ট নাই) দেখে, বাচ্চার মা কে একজন বলেছিলেন, ‘এই বাচ্চাকে প্যান্ট পরাও না কেন?’। বাচ্চার মা উত্তরে বলেছিলেন, ‘তাতে কি হইসে, ছেলে তো’। আমাদের সমাজে চিরাচরিত একটি ধারণা হচ্ছে, ছেলে সন্তান মানেই সে যৌন হয়রানীর ঊর্ধ্বে। আমির খানের, ‘সাত্তিয়ামেভ জায়েতে’ অনুষ্ঠানটির সাথে নিশ্চয়ই অনেকে পরিচিতি, এই অনুষ্ঠানটির একটি পর্ব ছিলো চাইল্ড এবিউস নিয়ে, যেখানে বলা হয়, মেয়ে শিশুর পাশাপাশি, ছেলে শিশুরাও কিন্তু যথেষ্ট পরিমাণে যৌন হয়রানীর শিকার হয়, তফাৎ হচ্ছে ছেলেদেরটা রিপোর্ট করা হয় কম এবং অনেক অংশেই সন্তানের অভিভাবক ধারণাই করতে পাড়েন না যে, তার ছেলে সন্তানটিও যৌন হয়রানীর শিকার হতে পারে। আমাদের সমাজে নারীর পাশাপাশি অনেক পুরুষকেও খুঁজে পাওয়া যাবে, যারা শৈশবে কোন না কোন ভাবে যৌন হয়রানীর শিকার হয়েছেন। তাই #me_too শুধুমাত্র নারীদের প্ল্যাটফর্ম না হওয়ে পুরুষদের প্ল্যাটফর্মও হতে পারে, যা কি না ছেলে সন্তানের প্রতি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে।

পরিশেষে এতটুকুই বলতে চাই, #me_too এর মাধ্যমে, যারা এই পর্যন্ত অপরাধীদের মুখোশ খুলে দিয়েছেন, তাদের কাছে এই সমাজের কিছুটা হলেও কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, কারণ মুখোশ খুলে যাওয়ার ভয়ে, আগামীতে হয়তো আমি, আমার সন্তান এবং আমার আপনজনদের প্রতি কেউ ছোবল বসাতে পিচপা হবে।
#me_too –এর মাধ্যমে যেই সম্মানিত এবং ‘পূজনীয়’ মানুষ গুলো আজ বিতর্কিত, তাদের প্রত্যেকের অশালীন আচরণ গুলো পরে মনে হয়েছে; দোষ গুণের সমন্বয়য়ে মানুষ, তবে সমাজে কোন ব্যক্তিকে সম্মানিত এবং ‘পূজনীয়’ করার আগে আমাদের একটু চিন্তা করে দেখা উচিত, তিনি কি সাধারণ দোষ গুণের বিচারে একটি মানুষ নাকি মনুষ্যত্বহীন একটি অমানুষ?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৪৭
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো শিক্ষার্থী কখনো পরীক্ষা পেছাতে চায় না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

কারণ একজন প্রস্তুত শিক্ষার্থী জানে, পরীক্ষা যত দ্রুত শেষ হবে, সে তত দ্রুত জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে। অনিশ্চয়তা, বারবার সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

বৃষ্টি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×