সকালে তাড়াতাড়িই ঘুম থেকে উঠলো কান্তা। গতকাল সন্ধায় ফোন এসেছিল সেই গবেষণা প্রতিস্ঠান থেকে। আজ নাকি ভাইভা পরীক্ষা হবে , পাশের সার্টিফিকেট গুলো নিয়ে যেতেও বলেছে সাথে করে।
দেখলো ভাইয়া রুটি বানিয়ে রেখে গেছে ডাইনিং টেবিলে ।
ওর বড় ভাই আবিদ, একটা বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করে। ওরা দুই ভাই -বোন ঢাকায় থাকে । বাবা সরকারী চাকুরে। সেই সুত্রে মা-বাবা দুজনে থাকেন রাজশাহীতে। ওদের গ্রামের বাড়ি অবশ্য নাটোরে।
ছাত্র জীবন থেকে ওর ভাইয়া ঢাকায় থাকে। আগে হলে থাকতো , পাশ করে চাকরি পাওয়ার পর এবং কান্তা ঢাকায় কলেজে চান্স পাওয়ার পর দুইজনে ঢাকায়ই থাকে কয়েক বছর ধরে। মাও আসেন মাঝে মাঝে।
নাস্তা খেয়ে তৈরি হয়ে নিলো কান্তা। সার্টিফিকেটগুলো আগেই বের করে রেখেছিলো। আরেকবার দেখে নিয়ে বের হয়ে পড়লো।
বাসের কাউন্টারে গিয়ে দাঁড়ালো ।আজ বিআরটিসির এসি বাসে যাবে ও। অন্য বাসগুলোর তুলনায় এটার যাত্রীগুলো একটু ভদ্রগোছের। টিকিটের ভাড়া বেশি বলে সব শ্রেণীর মানুষ এটায় ওঠে না। তাই বিরক্ত লাগে না। অন্যান্য বাসে এমন কিছু যাত্রী ওঠে, যাদের অনেকেই মনে হয় জীবনে প্রথম রাজধানী শহরে এসেছে, আচরণ দেখলেই বুঝা যায়। দেশটার রাজধানীটা যে বাড়তি মানুষের চাপে দম বন্ধ হয়ে ক্রমশ মারা যাচ্ছে দেখার কেউ নাই। সব অফিস-আদালত এই শহরে, কাজের খোঁজ এখানে। তাই তো দুর্যোগে সব কিছু হারানো মানুষ গুলোর ভরসা এই শহর। তাদের উপর কান্তার রাগও হয়, আবার মায়াও লাগে।
যাই হোক একটু আগেই পৌঁছে গেলো অফিসে, এখনো ভাইভা দিতে আসছে অনেকেই।
ঠিক সাড়ে নয়টায় একজন একজন করে ডাকা শুরু হলো। কান্তাকে ডাকলো সাড়ে দশটার দিকে।
রুমে ঢুকে দেখল পাঁচজন মানুষ বসে আছে, এদের মধ্যে একজন নারী।
-”বসুন” একজন বললো।
“ধন্যবাদ “ বলে কান্তা বসলো।
“আপনি ইংরেজিতে পাস করে গবেষণার কাজে আবেদন কেন করেছেন?”একজন প্রশ্ন করলেন
“কারণ, আমার গবেষণাধর্মী কাজের প্রতি আগ্রহ আছে, এর আগেও দুইটা ফিল্ড ওয়ার্কের কাজ করেছি।”কান্তা উত্তর দিলো।
“আচ্ছা, আপনার মাতৃস্বাস্থ্য বা শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে “ আরেক জন জিজ্ঞাস করলেন।
“না” কান্তার সরাসরি উত্তর।
“ আপনাকে যদি নিয়োগ দেয়া হয়, প্রতিদিন ঢাকা থেকে যাতায়াত করতে পারবেন?” তিনিই আবার বললেন।
“ আমি তো শুনেছি আপনাদের থাকার ব্যাবস্থা থাকবে সেখানে” কান্তা বললো।
“তা নাও থাকতে পারে”
“এক মাসের কাজ তো , তা পারবো “কান্তা জবাব দেয়।মনে মনে ভাবলো , একটা তো মাস মোটে , দেখতে দেখতে কেটে যাবে।
“ঠিক আছে আপনি যেতে পারেন, আমরা পরে জানাবো।”সেই প্রশ্নকর্তা বললেন।
কান্তা বের হয়ে এলো। ২ বছর আগেও একবার ইন্টারনেটে এই সংস্থার বিজ্ঞাপন দেখে আবেদন করেছিলো। সেটার লিখিত পরীক্ষায় প্রথম হলেও লবিং করার কেউ ছিল না বলে ভাইভাতে বাদ পরে গিয়েছিলো কান্তা। তখন মাত্র বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে বের হয়েছে, খুব হতাশ হয়েছিলো। ভাইভার দিনই বুঝেছিল এখানে হবে না। কারণ , যারা ভাইভা দিতে এসেছিলো তাদের সবারই বাবা, মা , চাচা -কেউ না কেউ পরিচিত ছিলো।
এবারো হবে না ভেবেই এসেছে ও। আর যদি আকাশের বন্ধুর কল্যাণে হয়ে যায়, তাহলে একটা অভিজ্ঞতা হবে। সেটাও মন্দ না। ভাবলো কান্তা।(চলবে...।)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




