somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কি নির্মম বাস্তবতা.!!!

১২ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে স্বপ্ন দেখে।সেগুলো নিয়েই বাঁচতে চায়।ভাগ্য সবসময় সহায় থাকেনা।অনেক ক্ষেত্রেই হারাতে হয় নিজের প্রিয় মানুষকে।ভেঙে না অপূর্ন থাকা স্বপ্নগুলো।প্রিয় মানুষ বলতে যে শুধু ভালবাসার মানুষগুলো তা নয়।বাবা,মা,ভাই,বোন থেকে শুরু করে পুরো ফ্যামিলি।সবসময় রক্তের সম্পর্কগুলো ভাল থাকে না।ভাল রাখা যায় না।চাইলেও পারা যায়না।কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্তের সম্পর্ক ছাড়া মানুষগুলো আপন হয়ে যায়।বেশিদিন হয়ত থাকে না নতুন হয়া সম্পর্কটা,কিন্তু ব্যতিক্রমগুলো টিকে থাকে।
.
বেঁচে থাকার মানে স্বপ্নকে ডুবিয়ে বেঁচে থাকা নয়।আবার অন্যভাবে বেঁচে থাকার মানে স্বপ্নকে নিয়েও বেঁচে থাকা নয়।কেননা, সবার ভাগ্যে স্বপ্ন গুলো পুর্নতা পায় না।মানুষ খাবার চুরি করে খায়।যখন তাদের ক্ষুধা চরম পর্যায়ে চলে যাই।হ্যা।রাস্তার সেই সব মানুষেরা, যাদের কাছে নেই স্বপ্ন,নেই কোন গন্তব্য।আসলে এটা নয় যে তাদের জীবনে স্বপ্ন ছিল না।তাদের লাইফে স্বপ্ন একসময় ছিল কিন্তু পৃথিবী প্রত্যেকটাবার সুর্যকে একবার অতিক্রম করার সাথে সাথে তাদের স্বপ্নগুলো ধুয়ে মুছে যায়।তারা একসময় ওই স্বপ্নগুলো নিয়ে ভাবেনা।কারন তারা জানে এখন তাদের বাঁচতে হবে।টাকা নেই।খাবে কিভাবে?? চুরি করে খায়।চুরি করে কেন খায়? কারন তাদের টাকা নেই।দুটোর উত্তর এক।তারাও মানুষ।সমাজের একশ্রেনীর লোকেরা হয়ত আমাকে গালি দিবে।বলবে যারা রাস্তায় থাকে তারা তো ভিখারী।ওরা মানুষ না।ক্ষুধা পেলে ডাস্টবিন এর খাবারও খায়।আমি তাদের বলব আপনি খাচ্ছেন তাই বুঝতে পারছেন না তাদের কষ্টটুকু।ক্ষুধার যন্ত্রনা কতটুকু তার ধারনা আপনার আমার নেই।তাইতো বলি বাঁচার মানে যে স্বপ্ন নিয়ে বাঁচা একমাত্র তাই নয়।স্বপ্ন ছাড়াও বাঁচার মানে আছে।বাঁচার অর্থ আছে।যেটা হচ্ছে বেঁচে থাকা।বাঁচতে হবে।বাঁচতে হলে খেতে হবে।তারা টাকা পায়না।তাদের স্বপ্নগুলো কালের বিবর্ধনে বিনস্ট।তাদের কে টাকা দিবেন আপনি? হয়ত ৫-১০ টাকা।সর্বোচ্চ ১০০০।তাদের দুদিন ভাল যাবে।পরদিন তাদের আবারো ক্ষুধা পাবে।আমাকে বলবে- "ভাই তারা তো কাজ করেও খেতে পারে।"আমি বলব-" নারে ভাই ওদের একজনের হাত নেই।অন্যজনের পা নেই।কারো কারো চোখ নেই" তারা উত্তর করতে পারবেনা।চুপসে হয়ে যাবে।ভাববে আমাকে হারানোর জন্য কথা।পাবে না।
.
মানুষ অসহায়ের মত বেঁচে আছে।স্বপ্ন ছাড়া,নয়ত স্বপ্ন নিয়েই। পৃথিবীতে কেউ পুরোপুরি সুখি এটা কখনোই হতে পারেনা।হয়ত তারা উপরে উপরে চেস্টা করে নিজেকে সুখি প্রমান করার জন্য আপনার সামনে ভাল সাজতে।কিন্তু তার মনেও কষ্ট নামক জিনিসটা বাসা বেঁধে আছে।আপনার আমার দরজার প্রত্যেক বুধবার মুসাফির আসে, একবাটি চালের জন্য। একবাটি চাল তারা পেলে খুশি।হাসিমুখে চলে যায়।কিন্তু ওই মানুষটার ভিতরে কি চলে সেটা আমরা বুঝতে পারিনা।চেস্টাও করিনা কখনো বুঝার।
.
আমার বাসাতে একদিন একজন মুসাফির এসেছিলেন।আমি তখন বারান্দায় বসে প্রত্যেকদিনের মত পায়চারি করছি।আমাদের বারান্দাটা একটু দুরে দরজা থেকে।কিন্তু দরজার সামোনটা দেখা যায়।লোকটা দরজায় কড়া নাড়ছে।দৌড়ে গেলাম একবাটি চাল দিব বলে।তার আগেই আম্মা সেখানে চাল নিয়ে প্রস্তুত।বুধবার এমন টাইমে পরিচিত কেউ আসার কথা না।সাধারনত মুসাফির আসে।আম্মা জানে,আমি জানি বাসার সবাই জানে। দরজার সামনে বসার জায়গা ছিল।লোকটা বসে পড়লো ক্লান্তিতে।একটা হাত নেই।তাও ডান হাত।আমাকে বললো এক গ্লাসের পানি খাবে।আমি ফ্রিজ থেকে পানি নিলাম আর এমনি পানি তার সাথে মিলিয়ে তাকে পানি দিলাম।এক গ্লাসে তার হলোনা।বললো আরো একটা গ্লাস যেন তাকে নেই।বললো না ঠিক।এক প্রকার অনুরোধ।আমি আবারো এনে দিলাম।খেয়ে নিল।এবারে একটু স্বস্তি পাচ্ছে।কথা বলা শুরু করলো।কিসে পড়াশুনা করতেছি,কি করি ইত্যাদি।সব বললাম।পাশ থেকে আমার ছোট্ট চাচাতো ভাই আসলো।বয়স মাত্র ৩ বছর।ওকে দেখে ওর মাথায় হাত বুলাল।বলতে লাগলো তার ছেলের হয়ত এখন এরকম একটা ছেলে আছে।"হয়ত" শব্দটা খুব অশান্তি দিচ্ছিল আমাকে। বললাম -"হয়তো কেন?" বললো ছেলেকে পড়াশুনা করিয়েছে অনেক দুর।সে একটা গাছের ফ্যাক্টরিতে কাজ করতো।ছেলের চাকরীর জন্য টাকা লাগবে,তাই টাকা যোগার করার জন্য রাতদিন খাটলো।গাছের ফ্যাক্টরির পাশাপাশি রাতে রিকশা ভাড়া করে চালাতো।বউ ছেলে জন্ম দেয়ার সময়েই মারা গেছে।ছেলের চাকরীর টাকা জোগাড় করতে গিয়ে গাছ কাটার সময় নিজের একটা হাত নস্ট করেছে।হাতটা নেই।ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে শরীর থেকে।ছেলের জন্য জমানো টাকা দিয়ে অল্প খরচ করে হাতটা সেলাই করালো ঠিক যতটুকু দরকার ছিলো।পরে ওই বাম হাত দিয়েই সব করলো।লোন নিলো একটা এনজিও থেকে।তারপর ছেলেটার টাকা জোগাড় হয়ে গেলে তাকে চাকরীতে পাঠালো।বিদেশে বড় চাকরী।মাসে ৩০ হাজার না যেন ৪০ হাজার টাকা বলল।ঠিক খেয়াল নেই।ছেলেটা কথা দিয়েছিল লোন শোধ করে দিবে।রুটিন করে প্রত্যেক মাসে বাবাকে ৩০হাজার টাকার ৮হাজার টাকা পাঠাতো।ফোন দিতো। ৬ মাস পর থেকে আর টাকা আসলো না,ফোনও আসলো না।ব্যাস লোকটা এভাবেই অসহায় হয়ে গেলো।বেঁচে আছে লোন পরিশোধ করবে বলে।অপেক্ষায় আছে তার ছেলে আসবে বলে।অপেক্ষায় আছে তার নাতী/নাতনীর মুখ দেখবে বলে।অপেক্ষায় আছে ছেলে তাকে একবার ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করবে সে কেমন আছে।আমাকে প্রশ্ন করলো তার এখন কি করা উচিত।আমি কিচ্ছু বলতে পারলাম না।শুধু তার মুখখানার দিকে তাকিয়ে ছিলাম ক্ষানিকটা সময়।পরে আম্মা ডাকতেই বাস্তবে ফিরলাম।আমার উত্তর না পেয়ে হয়ত উনি বুঝতে পারলেন।আমাকে বললো-"বাবা যাই।দোয়া করি তোমরা যেন অনেক বড় হও।কিন্তু আমার ছেলের মত হয়ো না।বাবা-মা মাফ করলেও আল্লাহ করবেনা"
.
বাস্তবতা কতোটা নিষ্ঠুর।এরা বাঁচে বাঁচার জন্য।দুবেলা খাবার খুঁজে বাঁচার জন্য।মনে কোন একটা ছোট্ট গন্তব্য নিয়ে বা গন্তব্য ছাড়াই চলতে থাকে সারাজীবন।মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।দেহ নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত।
.
সিয়াম মেহরাফ
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:১০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট ও বিএনপি কি একে অপরের পরিপূরক?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭


গ্যাস নাই ,বিদ্যুৎ নাই। নিত্যদিনের নানা সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। এভাবে মানুষ বিএনপিকে কতদিন সহ্য করবে? মানুষ সহ্য করতে করতে যখন ধর্যের বাধ সহ্যের বাধ ভেঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সরকারের কাছে সোলার এনার্জি বিক্রি করা কতটা লাভজনক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



যারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ইন্সটল করবেন, তাঁদেরকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটির জন্যে ১০.৫০ টাকা করে দিবে। রুফটপে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট বসিয়ে লাভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পর্ক ও আত্মহত্যা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭



কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা। - বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২ লাখ কর্মীর খবর ভুয়া - তবে ২৫ টা সাদা হাতি আসছে!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২



স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ কর্মী নেবে ।

আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×