সৌন্দর্যকে নেড়েচেড়ে দেখতে গেলেই বিপত্তি...
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
তবু, কোনো কারণ নেই, মিছেমিছিই, আমার খালি মনে হয়, এমন অনেকদিন গেছে- আমি ভেবে কূলকিনারা করতে পারিনি- শুধু মনে হতে থাকে, মনে হ-তে-ই থাকে, সুর্যোদয়ের তীব্রতার সঙ্গে, জ্যাম দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে, মুখে গ্রাস তোলার কালে, এমনকি হোঁচট খাওয়ার সময়, যেন মনে হওয়াটা কোনো পাপ নয়, বিরাট পুণ্যি, মনে হলেই লাভ, জীবনের সার্থকতা, মনে না হলেই যেন সবকিছু অলৌকিক হয়ে যাবে, আমার কোনো উপায় থাকবে না, মনে না হলে যেন অন্ধ গলি ধরে ঘরে ফেরা অসম্ভব হবে, দ্রুত বেড়ে যাবে চুলের খুশকি, মরে যাবে নখের সৌন্দর্য, বুঝি অর্থহীন হয়ে পড়বে এ স্ট্রাগল, স্বার্থপরের মতো দ্রুত নাগরিক হতে চাওয়া মনের কূটচাল ব্যর্থ হবে, শুধু মনে না হলে;
তাই মনে হওয়া ভালো, আমার খালি মনে হয় সে থাকে এই শহরে, এই শহরের একদম শেষ বাড়িটিতে তার বাস...
সত্যি? বুঝিবা ওখানেই তার থাকার কথা, ওখানে ছাড়া তাকে আর কোথায় মানাবে পৃথিবীর? ওখানেই সে যুৎসই আছে; ভাবি, শহরের এক্কেবারে প্রান্তে- যেখানে কেবল গ্রামের সুচনা, শহর আর গ্রামের ব্যবধান রেখা বলতে একটা পুরনো মাঠ, শিশির-দগ্ধতা নিয়ে ঘাসেরা বেঁচে রয়েছে, ঐতিহাসিক মসজিদ-মন্দির আর প্রত্ন শিল্পের বিরাট সে অঞ্চল, ভূগোলের সবচেয়ে উজ্জ্বল সেই মাটি, সেখানে সে বাড়ি করে আছে বহুদিন-
সে কি একলা থাকে? তা কি হয়? পৃথিবী কত নির্মম হয়েছে... মানুষের মৃত্যুর পেছনে এখনো মানুষই দায়ী, বাঘ-টাঘ আসলে এত ভয়ংকর নয়, বোধ করি, ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে তবু পশুবৃত্তি বেড়েছে কোনো সুত্রে!
আরো মনে হয়, সে এমন এক নৃত্যের মুদ্রা জানে, আমি তার খোঁজ পাইনি কোনো বইয়ে, আমি দীনহীন, সে দাঁড়িয়ে আছে, কোনোদিন আমার পা পড়েনি এমন এক নিষ্ফলা আঙিনায়, তবে কে জেনেছে তার নিভৃতবাসের গল্প, তার দুধফর্সা হাতের ইশারা; সে জনকে আমি প্রতিদ্বন্দ্বী মানি, তার সব রাশিফল বৃথা হোক, সে আঁস্তাকুড়ে যাবে, যেমন আমি গেছি; অবশ্য আমার এখনো যাওয়া হয়নি পুরোপুরি, যাত্রার শেষ পথে আছি, সেই লোক আমার ঠিক এক মুহুর্ত আগে পৌঁছে যাবে গোল্লায়; আমি তাকে আশিস করছি, অবশ্য এরই মধ্যে আমি চাইব সেই দুধফর্সা হাতের ইশারা, নিভৃতবাসের গল্প যদি সে জন ভুলে যায়, চিরতরে, আর কখনো যদি তার মনে না পড়ে শহরের শেষ বাড়ির প্রসঙ্গ, তবে, আমি তার প্রভাবক হবো- স্রষ্টা তাকে রক্ষা করুন...
তবু কোনোদিন, ওই বাড়িতে আমার যাওয়া হবে কিনা, আমার তাও মনে হয় না, কেন মনে হয় না কে জানে, আমি তবে রহস্য ভালোবাসি!
যেন ও বাড়িতে গেলে সব চমকের অবসান ঘটবে, তার মুখোমুখি হলে বুঝি থেমে যাবে চেনা নদীটির চলাচল, ফুসফুসে হাওয়া থাকবে না,
দেখা হলেই সব প্রত্ন শিল্প বিলীন হবে পম্পেই নগরীর মতো, তা-র-প-র অনেক অনেক যুগ পর সে আবিষ্কৃত হবে একদল শিল্পীর গবেষণায়, সে তখন মুর্তি, উলঙ্গ সৌন্দর্য তাকে দেবী করেছে, আমি চাই না সে দেবী হোক; বরং সে যেভাবে আছে তেমনি থাক, আমার অদেখা থেকে যাক, সাক্ষাতে পাওয়ার চেয়ে তাকে উঁকিতে দেখে যাব, যদি কোনোদিন ওপথে হেঁটে যাই, তবে, উঁকি দিয়ে দেখে যাব;
কারণ, আমি জানি, মানুষ মাত্রই উপলব্ধি করার কথা যে, সৌন্দর্যকে নেড়েচেড়ে দেখতে গেলেই বিপত্তি, সামান্য উঁকিতে তাকে দেখে নেয়া ভালো...
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।
কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজকের ডায়েরী- ১৯৮

আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
শরাব পিনে দে.....

মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন
বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!
প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”
বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।